বুধবার, ১ ডিসেম্বর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

৫ টাকা চাইতো জিহাদ, ৩০ লাখ না!



jihad_bg_831552093নিউজ ডেস্ক :: হাইকোর্টের আদেশের কথা রাতে জেনেছেন জিহাদের মা। তিনি জেনেছেন আদালত তার ছেলের প্রাণহানির ক্ষতিপূরণ ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছেন। জিহাদের বাবা নাসির ফকির লোকমারফত প্রথম জানেন খবরটি। তিনিই ঘরে ফিরে স্ত্রী খাদিজা খাতুনকে জানান।

অত্যন্ত দরিদ্র সংসারে এই ৩০ লাখ টাকার খবর বাড়িয়েছে পুত্রশোকের কাতরতা।

রোববার রাতে রাজধানীর শাহজাহানপুর বস্তিতে গিয়ে দেখা হয় জিহাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে।

মা খাদিজা এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন। ছেলের মৃত্যুতে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনায় তার মনে পড়ে যায় সামান্য খাবারের জন্য শিশু জিহাদের আকুতির কথা।

‘দোকান থিকা কিছু কিন্যা খাওয়ার লিগা কইতো, মা ট্যাকা দাও দুকানে যামু। ৫ ট্যাকা নোট রাখতে হইতো আমার বাবার জন্য। ১০ টাকা ২০ টাকার নোট দিলে নিতো না, হেয় ৫ ট্যাকার নোটই নিতো। এহন আর ৫ ট্যাকার নোট কেউ চায় না,’ আহাজারি খাদিজার।

সারাদিন দুষ্টামি করতো, আর কইতো-মা খিদা (ভোগ) লাগছে, আমি মজা খামু। আমার বুকটা খালি কইরা গেলো আমার বাবা। এহন (এখন) আর কেউ কয়না ‘মা আমার খিদা লাগছে’, জিহাদের কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন খাদিজা খাতুন।

‘আমার পোলারে আমি ৫ ট্যাহা দিতে চাই, ত্রিশ লাখে কি হইবোরে ভাই,’ বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন তিনি।

জিহাদের মৃত্যুশোকে এখনও অসুস্থ খাদিজা খাতুন। শ্রবণ শক্তিও কমে গেছে।

আশে-পাশের প্রতিবেশিরা জানায়, জিহাদ অনেক আদরের ছিলো এখানকার সবার কাছেই। ও সবার সঙ্গে মিশতো, কথা বলতো। সারাদিন খেলাধুলা আর দুষ্টুমিতে মাতিয়ে রাখতো।

গতবছরের ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে রাজধানীর শাজাহানপুরে বাসার কাছে রেলওয়ে মাঠের পাম্পের পাইপে পড়ে যায় জিহাদ। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর ২৭ ডিসেম্বর বিকেল তিনটার দিকে জিহাদকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এরপর ২৮ ডিসেম্বর জিহাদের পরিবারের জন্য ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে চিল্ড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন।

তারই পরিপ্রেক্ষিতে রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) দুপুরে জিহাদের পরিবারকে ৩০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেনো দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে সরকারের প্রতি রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের জারিকৃত এই রুল সম্পর্কে জিহাদের পরিবার জানতো না। লোক মুখে শোনার পর গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সংবাদটি জানতে পারে তার বাবা নাসির। পরে তিনিই গিয়ে স্ত্রী খাদিজাকে জানান।

‘আমার পোলা মারা যাওয়ার পরে শেষ বারের মত লাশটা দেখতে পারি নাই। এইডা যে একজন বাবার কত বড় কষ্ট, তা বলে বোঝাতে পাড়বো না’ কষ্টের বোঝা বুকে নিয়ে কথাগুলো বললেন মো. নাসির ফকির।

তিনি বলেন, আমার পোলা পাইপের ভিতরে পইড়া গেছে, আর পুলিশ আমারে থানায় নিয়ে জেরা করে, নানা ভয় দেখায়।

রিট আবেদনে জিহাদের বাবাকে ১২ ঘণ্টা পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি ও ডিএমপি কমিশনারকে নির্দেশ দিতে আদালতের প্রতি নির্দেশনা চাওয়া হয়।

নাসির অভিযোগ করেন, জিহাদের এই মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী আসামি ঠিকাদার আব্দুল সালামকে এখনো গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। কিন্তু আসামি এখন নাকি জামিনে ঘুরছে। সালামের জামিনের খবর আমাকে দেয় এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এস আই জাফর আহমেদ। তারা আসামিকে গ্রেপ্তার করনি কিন্তু আসামি জামিনে ঘুরছে।

ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পাশাপাশি আসামিদের বিচারও দাবি করেন নাসির ফকির।

সূত্র : বাংলানিউজ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: