শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

৪ বছরে অর্ধেকে সরকারি ভর্তুকি



16. badghetনিউজ ডেস্ক::
আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকির পরিমাণ কমাচ্ছে সরকার। চার বছর আগের তুলনায় আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার ফলে ভর্তুকি কমিয়ে আনতে পেরেছে সরকার।

অর্থ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট ভর্তুকি ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.৫ শতাংশ। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিলো ২.৮ শতাংশ এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ছিলো ২.৭ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভর্তুকি কমানো অর্থনীতির জন্য ভালো লক্ষণ। যে পরিমাণ টাকা ভর্তুকির পেছনে খরচ হতো তা এখন অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ করা যাবে। এছাড়া ভর্তুকিকে সাধারণত অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বাধা হিসেবেই বিবেচনা করা হয়ে থাকে।

অর্থ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে ভর্তুকির পরিমাণ কমে আসছে যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক দিক। প্রধান প্রধান অবকাঠামোগত প্রকল্পে এখন আরও অর্থ বরাদ্দ করা যাবে।’

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জনগণের টাকা যাতে অপচয় না হয় সেজন্য ভর্তুকির বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা দরকার। ভর্তুকির পরিবর্তে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং রফতানি খাতে বরাদ্দ করা উচিত যাতে অপচয় না হয়।’

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যাওয়াতেই সরকার ভর্তুকির পরিমাণ কমাতে পেরেছে। তাই এ বিষয়ে সরকারের কোনও কৃতিত্ব নেই। ২০১২-১৩ অর্থবছরের ভর্তুকির প্রায় ৪০ শতাংশ চলে গিয়েছিলো বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনে। যা পরবর্তী অর্থবছরে কমে ২.১৯ শতাংশ হয়েছে। আগামী অর্থবছরে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩.১৩ শতাংশ।’

২০১২ সালের মার্চ মাসে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ছিলো ১২৫ ডলার যা ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬.৪১ ডলারে। বৃহস্পতিবার প্রতি ব্যারেলের দাম ছিলো ৬৫ ডলার।

খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম আরও বলেন, ‘ভর্তুকি হিসেবে অর্থ ব্যয়ে সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেওয়া উচিত।’

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত অর্থবছরে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছিলো ২৬ হাজার ৫৩ কোটি টাকা যা শেষ পর্যন্ত বেড়ে হয়েছিলো ২৭ হাজার ৪১৬ কোটি টাকা। কিন্তু বর্তমানে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে মোট ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। যা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) দেওয়া হবে। গত অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকি ধরা হয়েছিলো ৭ হাজার কোটি টাকা। তবে মূল বাজেটে সেটি বেড়ে ৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছিল।

পিডিবি রেন্টাল এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১৩ থেকে ২৩ টাকায় কিনে গ্রাহকদের কাছে ৬ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করে থাকে।

আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছিলো ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত এ খাতে ভর্তুকি দিতে হয়েছিলো ৬০০ কোটি টাকা।

কৃষিখাতে এ বছরও আগের মতোই মোট ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৯ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া পাটসহ অন্যান্য রফতানি খাতে ভর্তুকির পরিমাণ ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: