সোমবার, ৮ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

সৌদিতে এক পিতার কাণ্ড!



dailysylhet-news-saudiarabiaআন্তর্জাতি ডেস্ক :: একজন বা দুজন নয়। নয় শিশুর ওপর গত তিন দিন ধরে নির্মম নির্যাতন চালিয়েছেন এক সৌদি বাবা। মাত্র একশ’ রিয়াল(সৌদি মুদ্রা) হারিয়ে যাওয়ায় ক্ষেপে গিয়ে তিনি লোহার রড গরম করে মেয়েদের শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার সবচেয়ে বড় মেয়ের বয়স ১৮ বছর এবং সবচেয়ে ছোটটির বয়স মাত্র তিন মাস। মঙ্গলবার স্থানীয় ওকাজ পত্রিকায় এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।
সম্প্রতি জেদ্দার এক স্কুল প্রিন্সিপ্যাল এই ঘটনা উদঘাটন করেন। রোববার ওই শিক্ষিকা দেখেন, স্কুলের একটি ছাত্রী খালি পায়ে হাঁটছে। জুতো পড়তে বললে ১৮ বছরের ওই মেয়েটি জানায়, তার পায়ে ব্যাথা থাকায় সে জুতা পরতে পারছে না। কারণ জানতে চাইলে মেয়েটি প্রিন্সিপালকে সব ঘটনা খুলে বলে।
মেয়েটি জানায়, একশ রিয়াল খুঁজে না পাওয়ায় তার বাবা গত বুধবার থেকে তাদের নয় বোনের ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে লোহার রড গরম করে তাদের গায়ে ছ্যাঁকা দেন। বাবার নির্যাতন থেকে রক্ষা পায়নি তার তিন মাসের ছোট্ট বোনটিও ।
সব শোনার পর প্রিন্সিপাল সঙ্গে সঙ্গে জেদ্দার ‘সোসাল প্রোটেকশন কেয়ার হোম’কে ঘটনাটি জানান। ওই সংস্থাটি তখন নিপিড়ীত শিশুদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে। তারা তাদের চিকিৎসার জন্য কিং ফাহদ হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছে।
ঘটনার অনুসন্ধান চালানোর সোসাল প্রেটেকশন দেখতে পায়, ওই শিশুদের বাবা একজন বেকার এবং সৌদি সরকারের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত বেকার ভাতা পান। তার স্ত্রী ৩ হাজার রিয়াল বেতনে একটি স্কুলে কাজ করে থাকেন। তিনি জানান, তার স্বামী প্রায়ই মেয়েদের মারধোর করে থাকেন। কিন্তু সংসার টিকিয়ে রাখতে তিনি তার নিষ্ঠুরতার প্রতিবাদ করেননি। তার ভয় ছিল, কিছু বললে তার স্বামী তাকে তালাক দেবেন।
সোসাল পেটেকশনের কর্মকর্তারা ওই নয় শিশুকে নিজেদের জিম্মায় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বড় মেয়েটি তাদের জানিয়েছে, তারা মায়ের সঙ্গেই থাকতে চায়। তবে বাবার সঙ্গে কখনোই নয়, প্রয়োজনে একা থাকবে।। অন্য মেয়েরা বলেছে, বাবার নির্যাতনের কারণে তারা সবসময় আতঙ্কে থাকত। এ কারণে তারা স্কুলে ভালো ফলাফল করতে পারছিল না। তবে তারা কার কাছে থাকবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি সংস্থাটি।
জেদ্দার সোসাল প্রেটেকশনের প্রধান সালাহ আল গামদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনি অভিযুক্ত বাবার সঙ্গে কথা বলবেন।
সৌদি সরকার সে দেশের শিশুদের পরিবারিক সহিংসতা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে গত কয়েক বছর থেকে চেষ্টা চালিয়ে আসছে। তাদের এই উদ্যেগের কারণে সম্প্রতি বেশ কিছু শিশু নির্যাতনের খবর সংবাদ মাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: