শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

ভারতে গত এক দশকে ২৫০০ ডাইনি হত্যা!



vootঅনলাইন ডেস্ক : ভারতে প্রতিদিনই শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন ও নারী হত্যার হাজার হাজার ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমগুলির সমীক্ষায় গত এক দশকে ২৫০০ ডাইনি হত্যার ঘটনা উঠে এসেছে। গত দুই বছরে ডাইনি অপবাদে চাবুক মেরে, লাঠিপেটা করে, ঢিলিয়ে মেরে ফেলা হয় ২৭০ জন নারীকে এদের বেশির ভাগই হয় প্রৌঢ়া না হয় বৃদ্ধা। তবে বলা হয়েছে, প্রকৃত সংখ্যা এর থেকে অনেক বেশি। যা মানুষের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অজানাই থেকে যায়।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পুলিশ ও প্রশাসন হয়, না জানার ভান করে থাকে কিংবা ডাইনি হত্যা বলে মানতে অস্বীকার করে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের গ্রামে-গঞ্জে ধর্মীয় প্রধান তথা বৈদ্য, যাঁকে গ্রাম্য ভাষায় বলা হয় জানগুরু, কোনো অঘটন ঘটলে তিনি বিচার বিবেচনা কিংবা জাদুটোনা করে বলে দেন অমুক গ্রামের অমুক নারীকে ভর করেছে ডাইনি বা প্রেতাত্মা। ওরই কুদৃষ্টিতে ফলেই এই অঘটন।

বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড় ও ঝাড়খন্ডের সাঁওতাল আদিবাসীদের কাছে জানগুরু ঈশ্বরের প্রতিভূ। তাঁর আদেশই শিরোধার্য জানগুরু তাঁদের আস্থা অক্ষুণ্ণ রাখতে যা করা দরকার তাই করে৷ জানগুরু সেইসব নারীকেই ডাইন নামে দাগিয়ে দেয়, যাঁরা দলিত, নীচু জাতির গরিব এবং নিরক্ষর৷ জনজাতির লোকেরা তাঁদের গ্রাম বাঁচাতে ডাইনি হত্যাকে তাই অপরাধ বলে ভাবে না। উপজাতিদের যাপিত জীবনধারার সঙ্গে এই মানসিকতা জডিয়ে আছে।

কিছু যুক্তিবাদী সংস্থা সমীক্ষা করে দেখেছে কুসংস্কার বা অন্ধবিশ্বাস এদের মনে এমনভাবে শিকড় গেড়েছে যে, তা উপড়ে ফেলা সহজ নয়। কঠোর আইন করেও তা সম্ভব নয়। এদের কাছে মানবাধিকার শব্দবন্ধটা অশ্রুত৷ প্রবাসী এক বাঙালি মহিলা ঈপ্সিতা রায় চৌধুরি এই কুসংস্কার ভাঙার এক অভিযান চালান প্রত্যন্ত সব গ্রামে গঞ্জে গিয়ে৷ কিন্তু কাজ হয়েছে বলে মনে হয় না। তাঁর মতে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে সাজা দেবার ঘটনা বলতে গেলে নেই৷ জমি জায়গা, স্থাবর-আস্থাবর সম্পত্তি হস্তগত করতে কিংবা গ্রামের প্রতাপশালী ব্যক্তি তাঁর যৌন লালসা মেটাতে না পারলেই সেই নারীকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে গ্রাম থেকে তাড়াতে পুরুষদের হাতে মোক্ষম হাতিয়ার এটা। ভারতের পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ সর্বত্রই চলেছে এই ডাইনি অপবাদের এই নারকীয় খেলা।

তথ্যসূত্র: ডয়েচভেল

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: