সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প



11-300x195নিউজ ডেস্ক:: পার্বত্যাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। সংস্কৃতি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মাটির কলসি,ফুলদানী, বিভিন্ন ধরনের খেলনা। এসবের কারণ হলো প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ও মেলামাইনের বাজারে প্রতিযোগিদতায় টিকতে না পারা। ফলে আর্থিক অনটন ও জীবিকার তাগিদে মৃৎ শিল্পীরা এখন অন্য পেশায় ছুঁটছেন।
বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় পার্বত্যাঞ্চল খাগড়াছড়িতে মৃৎশিল্প সংখ্যায় কম, তার ওপর এই পেশায় ভাল উপার্জন করতে না পেরে মৃৎ শিল্পীরা এখন অন্য পেশায় ঝুঁকছেন। ফলে এই জেলায় মৃৎশিল্প সংকীর্ণ হয়ে আসছে। যে কয়েকজনই এ পেশাকে ধরে রেখেছে তারাও দুশ্চিন্তায়, কত দিন ধরে রাখতে পারবেন বাপ-দাদার এ পেশাকে। এই শিল্পকে রক্ষার্থে সরকারি বেসরকারি বিনিয়োগের প্রয়োজন বলে মনে করছেন মৃৎ শিল্পী ও জেলার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা।
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শালবন এডিসি হিল, সিঙ্গিনালা ও জামতলী এলাকার কুমার পল্লীতে গিয়ে দেখা যায় মৃৎ শিল্পীদের দুর্দশার চিত্র। আগে জেলা সদরে অনেকগুলো কুমার পরিবার থাকলেও এখন রয়েছে মাত্র চারটি পরিবার। মৃৎ শিল্পীরা এখন অন্য পেশাকে বেছে নিয়েছেন জীবিকার তাগিদ হিসেবে।
শালবন এডিসি হিল এলাকার বাসিন্দা মৃৎ শিল্পী নিরঞ্জন রুদ্র বলেন, ‘আমি ১৯৬০ সাল থেকে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। আমার আদি পুরুষের পেশা ছিল কুমার। কিন্তু আমি আমার দুই ছেলেকে এই পেশায় আসতে দেয়নি।
এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন মৃৎ শিল্পীদের কোনো কদর নেই। তাই আমি আমার দুই ছেলেকে অন্য পেশায় দিয়েছি। বড় ছেলে সঞ্জয় রুদ্র নাপিতের কাজ করে, ছোট ছেলে স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে কাজ করে।’
মৃৎ শিল্পে অনাগ্রাহের কারণ সর্ম্পকে তিনি জানান, বর্তমানে বাজার মূল্যের যে উর্ধ্বগতি তাতে করে এই পেশায় টিকে থাকা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। কারণ, মাটি থেকে শুরু করে খড়কুটা পর্যন্ত কিনতে হয়, আগে বিনামূল্যে পাওয়া যেত। স্থানীয় হাট বাজারে প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে এ সব জিনিসপত্র বিক্রি করে যা আয় হয় তা উৎপাদন ব্যয়ের চেয়ে কম। ফলে এই পেশায় কুমারদের আগ্রহ দিনদিন কমে যাচ্ছে। সপ্তাহ জুড়ে জিনিস বানিয়ে তা বিক্রি করে আয় হবে তো দূরের কথা উল্টো গাঁয়ের ওপর ঋণের ভার এসে বসে থাকে। এমতাবস্থায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি। না হয় বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প হারিয়ে যাবে।
একই গ্রামের আরেক মৃৎ কারিগর সোনা রুদ্র বলেন, ‘বাপ-দাদার এই পেশাকে ধরে রাখতে গিয়ে ৫ সদস্যের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়।
খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের ব্যবস্থাপক মো. সোহেবুল হায়দার বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের কাজ হলো ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া। প্রশিক্ষণের পর উদ্যোক্তা যদি অর্থের অভাবে কার্যক্রম শুরু করতে না পারে তবে উদ্যোক্তাকে ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ঋণ দেয়া হয়। মৃৎশিল্প ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের আওতাভুক্ত হলেও খাগড়াছড়ির কোনো মৃৎ কারিগর এখনো পর্যন্ত আমাদের তালিকাভুক্ত হয়নি। তবে কোনো মৃৎ কারিগর যদি ঋণের জন্য আবেদন করেন তবে কমিটির বিবেচনাপূর্বক তাদের সহায়তা করা হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: