মঙ্গলবার, ১৬ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

নূর হোসেনের বিরুদ্ধে ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ



11. nur hussainনিউজ ডেস্ক::
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের নামে-বেনামে ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন(দুদক)। এরপরও নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
জানা গেছে, দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা প্রায় তিন মাস আগে অনুসন্ধান প্রতিবেদন জমা দিয়ে মামলার সুপারিশ চাইলেও কমিশন অনুমতি দেয়নি।
মামলার বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু আলোচিত সাত খুনের আসামি নূর হোসেনকে কোনো ধরনের সম্পদ বিবরণী নোটিশ দেয়া কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ করা যাচ্ছে না। যে কারণে এ মুহূর্তে কমিশন মামলার অনুমতি দেয়নি।
দুদক আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বিদেশে অবস্থান করলে, পলাতক থাকলে বা কোনোভাবে হদিস না পাওয়া গেলেও নোটিশ দেয়া যায়। সে ক্ষেত্রে তার নিকট আত্মীয়ের কাছে কিংবা তা পাওয়া না গেলে তার বাসার সামনে দর্শনীয় স্থানে নোটিশ জারি করা যায়।
নোটিশ জারির পর অভিযুক্ত ব্যক্তি যে অবস্থায় থাকুন না কেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব পেশ করতে পারেন। নোটিশের পরও কেউ সম্পদের হিসাব পেশ না করলে তার দখলে থাকা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা যায়।
কিন্তু অনুসন্ধানে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেলেও অদ্যাবধি সম্পদের হিসাব চেয়ে তার কাছে নোটিশ পাঠানো হয়নি। এ ক্ষেত্রে দুদকের একধরনের অনাগ্রহ লক্ষ করা গেছে।

এদিকে দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদকের অনুসন্ধানে তার মোট ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে পাঁচতলা একটি বাড়ি এবং নূর হোসেনের ও তার সন্তানদের নামে নারায়ণগঞ্জ-চিটাগাং রুটে চলাচলকারী এবিএস পরিবহনের লাক্সারি ৩০টি বাস পাওয়া গেছে। এসব গাড়ি নারায়ণগঞ্জ টু চিটাগাং রোডে চলাচল করলেও এখন বন্ধ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধানে ওই সব সম্পদের বৈধ কোনো উৎস পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের হাতে আটক নূর হোসেনের আয়কর ফাইল অনুসারে তার মোট আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। যেখানে আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে বিভিন্ন জলাশয়ে মাছ চাষ। তবে আয়কর ফাইলে কোথাও তার বাড়ি কিংবা বাসের কথাটি উল্লেখ করেননি।
নারায়ণগঞ্জ ওয়ার্ড কমিশনার নূর হোসেনের সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অভিযোগ রয়েছে, ১৯৮৬ সালে ট্রাকের হেলপার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় কয়েক বছরে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি, মাছের খামার এবং পরিবহন ব্যবসা। তার ছোবল থেকে বাদ যায়নি মসজিদের সম্পত্তিও।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিমরাইল মৌজায় ৩৭৩ নম্বর দাগে প্রায় ১১ শতাংশ জমির ওপর সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেন নূর হোসেন। প্রকৃত জমির মালিক নাজির উদ্দিনের ছেলে আশ্রাব উদ্দিনকে ভয় দেখিয়ে মাত্র ২০ লাখ টাকায় হাতিয়ে নেন জমিটি।
মাত্র ১৭ লাখ টাকায় নারায়ণগঞ্জের লাল মিয়ার ছেলে আদম আলীকে ভয় দেখিয়ে শিমরাইল মৌজায় ৭২ ও ৭৩ নম্বর দাগে ১০ শতাংশ জমির ওপর পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে বাড়ি নির্মাণ করেছেন ছয়তলা ভবন।
এ ছাড়া রয়েছে শিমরাইল মৌজায় ৩১২ নম্বর দাগে ছয়তলা ভবন, রসুলবাগে সাড়ে আট কাঠা জমির ওপর সাততলা ভবন, সিদ্ধিরগঞ্জ মৌজায় ১০ শতাংশ জমির ওপর রয়েছে সাততলা নির্মীয়মাণ ভবন।

নূর হোসেনের রাজধানীর গুলশান-২-এ দুটি ফ্ল্যাট, বনানী ও ধানমন্ডিতে আরো দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে।
দুদক সূত্রে আরো জানা যায়, নূর হোসেন কমপক্ষে ৫০ বিঘা জমির মালিক বলে অভিযোগ রয়েছে। যার অধিকাংশই দখল করা হয়েছে। শিমরাইলে তার বাড়ির পেছনে রয়েছে ৪০ বিঘার মৎস্য খামার। খামারের মালিকদের বঞ্চিত করে নূর হোসেন ১৫ বছর ধরে চাষ করেছেন। রয়েছে প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো মসজিদ ভেঙে মাছের আড়ত স্থাপন করার অভিযোগ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: