সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «  

গোয়ালন্দ যৌনপল্লীতে জয়া আহসানের সাত দিন



4Ri30Q8বিনোদন ডেস্ক :: পতিতা! শব্দটা শুনেই নাক সিঁটকাই আমরা। তাদের কষ্ট বুঝেও দেখলেই দূরে সরে যাই। এভাবেই যৌনকর্মীদের আমরা হেয় করে চলেছি। কিন্তু তাদের জীবনের গভীর বেদনা অনুভব করে তাদের অবর্ণনীয় কষ্টের জীবনচিত্র ফুটিযে তুলতে বরাবরই উদ্যোগী হয়েছেন দেশের নির্মাতারা। যৌনকর্মী চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে এগিয়ে এসেছেন অনেক অভিনেত্রীও। যৌনকর্মীর জীবনের ভেতর ডুব দিয়ে তারা পর্দায় তুলে এনেছেন তাদের জীবন কে।

সময়টা ছিলো ২০০৯ এর মাঝামাঝি । ঐ বছর ঈদে প্রচার হয়েছিল জয়া অভিনীত যৌনকর্মীদের নিয়ে একঘন্টার নাটক ‘তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’। মেজবাউর রহমান সুমনের পরিচালনায় নির্মিত এই নাটকটিতে তার চরিত্রটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এই নাটকে কাজ করতে গিয়ে তিনি পেলেন অন্য এক অভিজ্ঞতা। জানালেন, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ যৌনপল্লীতে নাটকটির শুটিং করেছিলেন। থাকতে হয়েছে টানা সাতদিন।

জয়া বলেন, ‘গল্পটি কিন্তু অনেক আগের। যদিও নাটকটি বানানো হয় বর্তমান সময়ের যৌনকর্মীদের জীবন নিয়ে। সুমন যখন আমাকে বললো ‘আঙুরলতা’ চরিত্রটির জন্য আমাকে যৌনকর্মীদের সাথে থাকতে হবে এবং ওদের জীবনাচারণ ওদের কাছ থেকে দেখে জানতে ও শিখতে হবে, তখন আসলেই বিষয়টি আমার জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিলো। বাসা থেকেও অনুমতির ব্যাপার ছিলো। সেখানে গিয়ে প্রথম প্রথম একটু ভয় লেগেছিলো।

যৌনপল্লীতে গিয়ে তাদের ভাষা, চলাফেরা, খদ্দের ডাকা, জীবনাচারণ সবকিছুই রপ্ত করতে হয়েছে। শ্যুটিংয়ের আগে টানা সাতদিন ওদের সঙ্গে থাকা, ওদের মতো করে জীবন-যাপন করা, ইত্যাদির জন্য আমার নিজেরও অনেক প্রস্তুতির ব্যাপার ছিলো। ওদের কাছাকাছি অনেকদিন থাকলামও। কাছ থেকে দেখলাম ওদের জীবন এবং নিজেকে চরিত্রটির জন্য গুছিয়ে নিলাম। তাছাড়া বিষয়টি নিয়ে আমার আগে থেকে পড়াশোনাও ছিলো। সেটাও আমাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছে। এভাবেই আঙুরলতা চরিত্রটির জন্য নিজেকে আমি প্রস্তুত করি।

যৌনকর্মীদের প্রসঙ্গে জয়া বলেন, ‘নাটকটিতে অভিনয় করতে গিয়ে বুঝেছি যৌন যৌনকর্মীরা কতটা কষ্টে এ পেশায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তারাও যে আমাদের সমাজের একটা অংশ- এটি কেউই সেভাবে উপলব্ধি করে না। এ কারণে এসব যৌনকর্মীদের মানসিক বৃদ্ধি ঘটে না বললেই চলে। আমার নিজের কাছেও এ চরিত্রে অভিনয় করে ভালো লেগেছে। মনে হয়েছে অনেকদিন পর দর্শকদের নতুন কিছু দেখাতে পারলাম।’

শুধু ঐ একটি নাটক করেই তিনি থেমে থাকেন নি। অনিমেষ আইচের ধারাবাহিক নাটক মানুষ বদল-এ একই ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন।

 

‘তারপরও আঙুরলতা নন্দকে ভালোবাসে’ নাটকের কাহিনী সংক্ষেপ

আঙুরলতা (জয়া আহসান) বিয়ে করেন নন্দলালকে (অনিমেষ আইচ)। কিন্তু তাদের সংসার খুব বেশিদিন টিকে না। কারণ একদিন নন্দলাল বাড়িতে তুলেন আরেকটি নতুন বউ। আঙুরলতা নন্দর এ কাজে প্রতিবাদ করলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় আঙুরলতাকে। এরপর আঙুরলতা আশ্রয় নেন গোয়ালন্দের যৌনপল্লীতে। এখানেই কয়েকবছর পর আঙুরলতা খুজে পান নন্দলালকে। নিয়তির নির্মম পরিহাসে নন্দ তখন সর্বশান্ত। অসুস্থ নন্দকে আশ্রয় দেয় আঙুরলতা। ধারকর্য করে চিকিৎসা করে তার। কিন্তু একসময় আর বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হয় না নন্দকে।

নন্দ মারা যায়। কিন্তু নন্দলালের সৎকার করার মতো টাকা নেই আঙুরলতার। সবাই তাকে পরামর্শ দেয় নন্দককে নদীতে ফেলে আসতে কিন্তু এ কাজে মন সায় দেয় না আঙুরলতার। যৌনপল্লীর এক কুৎসিৎ দোকানদার সুন্দরী আঙুরলতাকে বিছানায় নেওয়ার জন্য এতদিন কাকুতি মিনতি করলেও রাজি হয় নি সে। অবশেষে সেই দোকানদারের কাছেই টাকা ধার চায় আঙুরলতা। কিন্তু দোকানদার বলে ধার নয়, আঙুরলতা যদি তাকে বিছানায় নেই তাহলেই সে তাকে টাকা দিবে। তখন নিরুপায় আঙুরলতা নন্দলাললের সৎকারের টাকা যোগাড় করার জন্য অনিচ্ছা সত্ত্বেও দোকানদারের প্রস্তাবে রাজি হয়। আর খদ্দের আসবে বলে নন্দলালের পচনশীল দেহটা লুকিয়ে ফেলে খাটের নিচে।
পুরো ঘরে ধুপ জালিয়ে রাখে যাতে গণ্ধ না ছড়ায়। এরপর বহুকষ্টে নিজেকে সামলে নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে বিছানায় যায় আঙুরলতা। যে খাটে তারা শয়ন করে সেই খাটের নিচেই রাখা থাকে নন্দলালের লাশ। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার ভেতর দিয়ে দেহবিক্রির টাকায় সৎকার করা হয় নন্দলালের।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: