শনিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

ওরা অতিথি



imagesনিউজ ডেস্ক:: শীত এসেছে অথচ তার প্রভাব বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে না সেটা কি হয়? হ্যাঁ প্রতি বছরের মত এবছরও সবুজ ক্যাম্পাসের লেকগুলো ভরে উঠেছে লাল শাপলায়। রক্তকমল শোভিত এসব লেকে এসেছে রকমারী অতিথি পাখি। পাখির কিচির মিচির আওয়াজে ভোর হওয়ার সেই দূর্লভ সুযোগ আবার এসেছে ক্যাম্পাসে।
প্রতি বছরই উপযুক্ত পরিবেশ আর নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে উত্তরের শীতপ্রধান সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, জিনজিয়াং ও ভারত থেকে হাজার হাজার অতিথি পাখি বাংলাদেশে আসে। নভেম্বরের শেষ দিকে ওরা আসতে শুরু করে আর মার্চে ফিরে যায় আপনা ঠিকানায়।
ইচ্ছে হলেই মুক্ত ডানায় ভর করে তারা মনের সুখে উড়ে বেড়াচ্ছে ক্যাম্পাসের আকাশে।মুহূর্তেই জলকেলিতে মাতিয়ে তুলছে লেকের পরিবেশ।সারা দিন ধরে চলে তাদের আনন্দ যজ্ঞ।মাঝে মাঝে কিছুটা খুনসুটিও করে। আর কিচির মিচির শব্দ তো আছেই। সবুজ ক্যাম্পাসের রূপে নতুন মাত্রা এই অতিথি পাখি। শীতের এমনি মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ দৃশ্য দেখতে কার না মন চায়?
তাইতো প্রতি দিন দর্শনার্থীরা তাদের প্রিয় মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে। উদ্দেশ্য একটাই এসব অতিথি পাখির সাথে কিছুটা সময় কাটানো। যান্ত্রিক জীবনের সব কর্মব্যস্ততা ভুলে কিছুটা সময় স্বপ্নময় খেচরের রাজ্যের অধিবাসী হতে তৎপর দর্শনার্থীরা।
ওরা ক্যাম্পাসের অতিথি, ওদের জন্য নানান আপ্যায়নের ব্যবস্থা করে থাকে জাবি প্রশাসন। যেমন: ওরা আসার আগে লেক পরিস্কার করে রাখে। লেকের পাশে কাটা তারের বেড়া দিয়ে দেয়, যাতে করে দর্শনার্থীরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে পাখি দেখতে পারে। বিভিন্ন স্থানে ব্যনার ফেস্টুনও টানানো হয়, যাতে বিভিন্ন দিক নির্দশনা থাকে।
এখানে ছোট-বড় ১৪-১৫টি লেক থাকলেও মাত্র ২-৩টি লেকে অতিথি পাখির পদচারণা বেশি থাকে। এ বছরও প্রশাসনিক ভবনের সামনে এবং পেছনের লেকটিতে আনাগোনা বেশি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক পর্যাবেক্ষণ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর ২৪৪ প্রজাতির অতিথি পাখির মধ্যে ক্যাম্পাসে সাধারণত ১২-১৩ প্রজাতির অতিথি পাখি আসে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব পাখি আসে তার মধ্যে বেশির ভাগই হাঁস জাতীয়, এরা পানিতে বসবাস করে। এর মধ্যে সরালি, খঞ্জনা, পাতারিহাঁস, পাতিতারা, নোনাজ্যোৎস্না, গয়ার, ধুপানি, লালমুড়ি, বামুনিয়া হাঁস, সিন্ধু ঈগল, হুদ-হুদ ইত্যাদি প্রধান। অতিথি পাখির আগমন উপলক্ষে প্রতি বছর এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী ‘পাখি মেলা’। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে জানিয়েছে জাবি প্রশাসন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: