মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

৭০০ টাকায় খাসির মাংস খেতে পারেন ২৭০ টাকায় পেঁয়াজ খেতে কষ্ট কিসের!



নিউজ ডেস্ক:: বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে বেড়েই চলেছে পেঁয়াজের দাম। প্রতিদিনই কেজিতে বাড়ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বর্তমানে ঝিনাইদহের বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৭০ টাকা দরে। বৃহস্পতিবার ১৪ (নভেম্বর) ঝিনাইদহের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৯৫ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) একই পেঁয়াজ ২৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারের একটি দোকানের সামনে প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে অন্তত ছয়জন ক্রেতাকে পেঁয়াজের দাম শুনে ভ্রু কুচকাতে দেখা যায়। অন্য দুটি দোকানে গিয়েও আবার ২০০ টাকার বেশি দাম দেখেন তারা। এক পর্যায়ে পেঁয়াজ না কিনেই ফিরে যান এসব ক্রেতা। এর মধ্যে এ দোকান থেকে মাত্র একজনকে আধা কেজি পেঁয়াজ কিনতে দেখা যায়।

বাজারে পেঁয়াজ বিক্রেতা লাল্টু মিয়া বলেন, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়াই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। গতকালের পেঁয়াজ আজ পর্যন্ত অর্ধেকও বিক্রি করতে পারিনি। তাই আজকে আর নতুন করে পেঁয়াজ কিনিনি। কারণ কাস্টমাররা দাম শুনে যা তা মন্তব্য করছেন। তিনি বলেন, ৭০০ টাকা কেজি দরে মানুষ খাসির মাংস কিনে খেতে পারছেন আর ২৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনতে এত কষ্ট কিসের!

বাজারে অন্য এক পেঁয়াজ বিক্রেতা মুরাদ হোসেন বলেন, পাইকারি বাজার থেকে প্রতি কেজি ১৭০ টাকা দরে পেঁয়াজ কিনে এনেছেন তিনি। এর সঙ্গে পরিবহন খরচ যোগ করে এখন তিনি প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২৭০ টাকায় বিক্রি করছেন।তিনি বলেন, কী করবো ভাই দাম বেশি পড়ছে। এখন পেঁয়াজ বিক্রিও কমে গেছে। আগে অনেক বেশি বিক্রি হতো। আজ সারাদিনে ১০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করেছি।

ক্রেতারা জানান, বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ রয়েছে তবুও প্রতিদিনই দাম বাড়ছে। বাজার মনিটরিং না করার কারণেই বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে মনে হচ্ছে নতুন পেঁয়াজ বাজার আসার আগে সাড়ে ৩০০ টাকা হয়ে যাবে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক নারী সুপিয়া বেগম বলেন, এক কেজি পেঁয়াজ কিনতেই যদি খরচ করতে হয় তাহলে অন্যান্য সদাই করব কীভাবে। পেঁয়াজের এত দাম আমার জীবনে দেখিনি।

বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মো. রনি জানান, নিউজে দেখছি অন্যান্য জেলায় বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অথচ ঝিনাইদহের বাজারে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তাকে দেখা যায়নি। তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বাজার মনিটরিং করার থেকে তাদের বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বিভিন্ন দিবস পালন করা আর ফেসবুকে ছবি দেয়া।

ক্রেতারা অভিযোগ করছেন বাজার সঠিকভাবে মনিটরিং না করার কারণেই পেঁয়াজ বিক্রেতারা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। এমন প্রশ্নে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আরিফ-উজ-জামান রেগে গিয়ে বলেন, এ বিষয় নিয়ে আমাকে বিব্রত করছেন কেন? এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারবো না। তবে পরে তিনি বলেন, ক্রেতারা বাজারে না থেকে অভিযোগ করলে হবে না। আমাদের অভিযান চলছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: