মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

৪২ বছর পর বাবা-মার খোঁজে বাংলাদেশে সেলিনা



নিউজ ডেস্ক:: সেলিনার বাবা-মা দারিদ্র্যের কারণে মাত্র পাঁচ দিন বয়সে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে চলে যান। কয়েকজন গ্রামবাসী তাকে উদ্ধার করে একটি এতিমখানায় দেয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় একজন বিদেশি এনজিওকর্মী শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য নিতে চাইলে গ্রামের লোকজন তার হাতে তুলে দেন। তারপর থেকে সেলিনা জার্মানিতেই বসবাস করছেন।

এরই মধ্যে কেটে গেছে ৪২ বছর। কিন্তু এখনও বাবা-মাকে ভুলতে পারেননি তিনি। বাবা-মায়ের সন্ধান পেতে ছুটে এসেছেন নিজের জন্মস্থান জামালপুরের সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রামে। বাবা-মাকে খুঁজে না পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বাংলাদেশে জন্ম নেয়া সেলিনা।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ প্রেস ক্লাবে এসে সেলিনা জানান, তার পালক বাবা জন ম্যাকডোনাল্ড ১৯৭৬ সালের জুন বা জুলাই মাসে সরিষাবাড়ীর গাইতিপাড়া গ্রাম থেকে তাকে দত্তক নেন। ম্যাকডোনাল্ড তখন একটি বেসরকারি শিশু সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশে কাজ করতেন। বাংলাদেশে কাজ শেষে তিনি তাকে জার্মানি নিয়ে যান এবং পরে একটি স্কুলে ভর্তি করান।

সেলিনার বয়স যখন ৬ বছর তখন তিনি জানতে পারেন যে, তাকে বাংলাদেশ থেকে নেয়া হয়েছে এবং ম্যাকডোনাল্ড তার পালক বাবা। সেলিনা জার্মানিতে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন এবং স্টেফান নামে এক জার্মান নাগরিককে বিয়ে করেন। তাদের অ্যাঞ্জেলা (২২) নামে একটি মেয়ে ও ফিন (১৫) নামে একটি ছেলে রয়েছে।

সেলিনা আরও জানান, স্বামীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট শহরের কাছে একটি হাসপাতালের চিকিৎসক মার্ক সেয়ারারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একই হাসপাতালে তিনিও চাকরি করেন। একপর্যায়ে তিনি সেয়ারারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। গত ৪ অক্টোবর তিনি প্রথমবারের মতো সেয়ারারকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। এক জার্মান প্রবাসী বাংলাদেশির সহায়তায় এখানে এক হোটেলে ওঠেন। ওই বাংলাদেশি ময়মনসিংহে বসবাসরত অপর এক জার্মান প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনকে অনুরোধ করেন সেলিনাকে সহায়তা করার জন্য।

সেলিনা গত ৭ অক্টোবর ময়মনসিংহে আসেন এবং দেলোয়ারের সহায়তায় জামালপুরের গাইতিপাড়া গ্রামে যান। দেলোয়ার জানান, গত মঙ্গলবার সরিষাবাড়ীতে প্রায় ৪ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজির পর সেলিনার জন্মস্থান গাইতিপাড়া গ্রামের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু সেলিনার ছোটবেলার ছবি দেখিয়ে এবং বিভিন্ন পরিচয় দিয়েও তার বাবা-মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সেলিনা বিভিন্ন বয়সের মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং আবেগজড়িত কণ্ঠে তার বাবা-মায়ের খোঁজ করেন।

সেলিনা জানান, জন্মস্থানের প্রতি মায়ার কারণে তিনি বাংলাদেশে আসেন এবং বাবা-মায়ের খোঁজ করেন। এবার আক্ষেপ নিয়ে ফিরে গেলেও আবারও তিনি বাংলাদেশে আসবেন। তিনি আরও দুই সপ্তাহ বাংলাদেশে থাকবেন বলে জানান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: