রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

সিলেটে বিয়ের রাতেই ফিল্মি স্টাইলে নববধূ ছিনতাই!



নিউজ ডেস্ক:: বিয়ের রাতেই ফিল্মি স্টাইলে বউ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে বর ও কনে দুই পরিবারে চলছে নানা নাটকীয়তা। জানা গেছে, নগরীর পশ্চিম চৌকিদেখীর বাসিন্দা মতিউর রহমান চৌধুরীর ছেলে হাবিবুর রহমান চৌধুরীর (২২) সাথে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার রাজনপুর গ্রামের আব্দুস সালামের মেয়ে হাজেরা বেগম তুলির (২০) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হাজেরার বাবা আব্দুস সালাম সম্পর্কে হাবিবের মা ইসমত আরার চাচাতো ভাই।

আত্মীয়তার সূত্রে ছোটবেলা থেকেই হাবিবের সঙ্গে মামাতো বোন তুলির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে নগরীর কুমারপাড়ায় পরিবারের সাথে বসবাস করে আসছেন তুলি। তুলির বাবা আব্দুস সালাম ব্যাবসায়িক কারণে ফেঞ্চুগঞ্জে থাকেন। দীর্ঘদিনের প্রেমকে পরিণয়ে রূপ দিতে নিজেদের পরিবারে বিষয়টি জানান হাবিব-তুলি। প্রথমদিকে দুই পরিবার রাজি থাকলেও পরে সৃষ্টি হয় দূরত্বের। তবে দুই পরিবারের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও হাবিব ও তুলির প্রেম আরো গভীর থেকে গভীরতর হয়। এক পর্যায়ে পরিবারের অমতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।

দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার বেলা ১২টায় স্বেচ্ছায় ও স্বজ্ঞানে নোটারী পাবলিক পুলিন বিহারী বিশ্বাসের মাধ্যমে তিন লাখ টাকা মোহরানা ধার্য্য করে বিয়ে করেন হাবিবুর রহমান চৌধুরী ও হাজেরা বেগম। কিন্তু বিষয়টি তারা পরিবারকে জানাননি। এদিকে মেয়ের পরিবার বিয়ের বিষয়টি জানতে পেরে যোগাযোগ করেন ছেলের পরিবারের সাথে। ছেলের পরিবার তখনো কিছুই জানেন না। বলেন বিষয়টি দেখে দেবেন।

এসময় হাবিবুর রহমানের ফোন বন্ধ ছিল। পরে সে পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে। তখন তাকে বউ নিয়ে বাসায় আসতে বলা হয়। ছেলের পরিবার যোগাযোগ করে মেয়ের পরিবারের সাথে। ছেলের পরিবার তাদের আসতে বলেন ইলাশকান্দিতে এক আত্মীয়ের বাসায়। কথা ছিল সমঝোতার ভিত্তিতে বিয়েটি মেনে নিয়ে পরবর্তী করণীয় নিয়ে আলাপের। কিন্তু মেয়ের পরিবারের মনে ছিল অন্য কিছু। তারা সেরকমই প্রস্তুতি নিয়ে আসেন। মাইক্রোবাসে করে মেয়ের বাবা কয়েকজন লোক নিয়ে উপস্থিত হন। তবে কোনোরকম আলাপ করতে রাজী হননি তিনি। জোর করে হাবিবের স্ত্রী তুলিকে নিয়ে যেতে চান। তুলি যেতে না চাইলে তাকে মারধর করেন। হাবিব তার স্ত্রীকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। পরে জোরকরে মাইক্রোবাসে তুলে তুলিকে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুই পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় থানা পুলিশ করতে চাননি হাবিবের পরিবার। চেষ্টা চলে সমঝোতার। কিন্তু তুলির বাবার মনে অন্য পরিকল্পনা। সময়ক্ষেপন করেন তিনি। হাবিবের পরিবারের ধারণা জোর করে তুলিকে দিয়ে তালাকনামায় স্বাক্ষর নেয়া চেষ্টা করেন তিনি। তুলির বাবা আব্দুস সালামের বক্তব্যেও এর মিল পাওয়া যায়।

তিনি জানান, বছর চারেক আগে দুজনের মধ্যে বিয়ের কথা হলেও পরে তা বেশিদূর এগোয়নি। তুলি আমার অমতে বিয়ে করেছে। তিনি আরো জানান, তুলিকে আধ ঘন্টা বোঝানোর পর সে উকিলের উপস্থিতিতে তালাকনামায় স্বাক্ষর করে। আব্দুস সালাম তালাকনামাটি ইতিমধ্যে হাবিবের পরিবারের কাছে পাঠিয়েছেন বলে জানালেও হাবিবের পরিবার এমন কিছুই এখনো পাননি বলে জানান।

এ ব্যাপারে বর হাবিবুর রহমান চৌধুরীর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, আমার বিবাহিত স্ত্রী তুলিকে জোর করে তুলে নিয়ে গেছেন আমার শশুরবাড়ির লোকজন। এসময় আবেগে কেঁদে ফেলেন হাবিব। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে ফেরত চাই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: