বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

সাইকেল রপ্তানি: মমতার প্রস্তাব কি বাস্তবসম্মত?



নিউজ ডেস্ক:: ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সরকার বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ সফরের দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে বৈঠকের সময় তিনি এই আগ্রহ প্রকাশ করেন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রস্তাব করেছেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা সেখানে গিয়ে যৌথভাবে বিনিয়োগও করতে পারে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় বাইসাইকেল তৈরির কারখানা গড়ে তুলতে পারেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা। তাতে করে পশ্চিমবঙ্গে আমদানি খরচ কমে আসবে।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তা এবং বাণিজ্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর এসব প্রস্তাব বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য কতটা বাস্তবসম্মত সেটা ভেবে দেখার বিষয় আছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো নাজনীন আহমেদ বলেন, ভারতে রপ্তানির বিষয়টি সামগ্রিক রপ্তানি কৌশলের একটি অংশ হতে পারে। কিন্তু সেটি একমাত্র কৌশল নয়।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাইসাইকেল তো শুধু ভারতে রপ্তানি হবে না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যদি জাপানে রপ্তানি করেন, তাহলে জাপানে গিয়ে ফ্যাক্টরি দেবেন নাকি?’ তিনি বলেন, বাইসাইকেল রপ্তানির বিষয়টিকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে বিবেচনা করতে হবে।

বাংলাদেশের একজন শীর্ষ উদ্যোক্তা বলেন, সীমান্ত এলাকায় বাইসাইকেল কারখানা স্থাপন করার বিষয়টি আদৌ বাস্তবসম্মত কি না সেটি ভেবে দেখার বিষয় আছে। বাংলাদেশের গার্মেন্টসসহ নানা পণ্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে কারখানা কোথায় অবস্থিত সেটি বিবেচ্য বিষয় নয়, বলেও জানান সে উদ্যোক্তা।

গত কয়েক বছর যাবত বাইসাইকেল রপ্তানিতে বাংলাদেশ ভালো করছে বলে মনে করেন উদ্যোক্তারা। বাইসাইকেল রপ্তানির ভালো সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে ইউরোপের ১৮টি দেশে বাংলাদেশের বাইসাইকেল আমদানি করা হয় বলে উল্লেখ করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের চাহিদার ১১ শতাংশ বাইসাইকেল বাংলাদেশ থেকে আমদানি করে থাকে। ভারত বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানি করতে চাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণটি হচ্ছে উৎপাদন খরচ। ‘কোন একটি দেশ সেই পণ্যটিই আমদানি করতে চায় যখন তারা দেখে যে একই পণ্য তৈরি করতে তাদের খরচ ও বিক্রয় মূল্য বেশি হবে,’ বলছিলেন ফাহমিদা খাতুন।

বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা বলছেন, উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি বাইসাইকেল বিশ্বের যে কোন দেশে রপ্তানি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত একটি ভালো বাজার। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান প্রাণ- আরএফএল গ্রুপের তৈরি ‘দুরন্ত বাইসাইকেল’ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও আহসান খান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সর্বপ্রথম বাইসাইকেল রপ্তানি শুরু করেছিলাম যুক্তরাজ্যে। সেটা আমাদের প্রধান মার্কেট ছিল। তারপর আমরা জার্মানিতে রপ্তানি করলাম, ফ্রান্সে এবং বেলজিয়ামেও রপ্তানি করলাম।’

বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে প্রতিবছর ১০০ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বাইসাইকেল রপ্তানি করা হয় বলে আহসান চৌধুরী উল্লেখ করেন। পৃথিবীর বাইসাইকেলের বাজার এক সময় চীনের দখলে ছিল। এর পাশাপাশি কম্বোডিয়াও কিছু রপ্তানি করতো।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে বাইসাইকেলের বাজার যে আরও সম্প্রসারিত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে পরিবেশগত। ‘পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে এখন পরিবেশসম্মত যানবাহনকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে বাইসাইকেল সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব। এসব দেশে বাইসাইকেলের চাহিদা যত বাড়বে বাংলাদেশের রপ্তানির বাজারও তত সম্প্রসারিত হবে,’ বলছিলেন অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন।

উদ্যোক্তারা বলছেন, ইউরোপের বাজারে বাইসাইকেল রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জিএসপি সুবিধা পেয়েছে। এ বিষয়টির কারণে সাইকেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তারা এগিয়ে এসেছে। আহসান খান চৌধুরী আশা করছেন, অচিরেই বাংলাদেশের তৈরি বাইসাইকেল আমেরিকার বাজারে সহজলভ্য হবে। সূত্র: বিবিসি বাংলা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: