রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

‘সন্দেহভাজন’ ইদ্রিসের তথ্য যাচাই করছে সিআইডি



26. idrisনিউজ ডেস্ক::
বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও মুক্তমনা ব্লগার অনন্ত বিজয় দাশকে কুপিয়ে হত্যা করার আগে ঘটনাস্থলের ‘খুব কাছে’ ছিলেন সিলেটের আলোকচিত্র সাংবাদিক ইদ্রিস আলী (২৪)। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তদল এমন তথ্য পেয়েছেন। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইদ্রিস আলী ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের পাঁচজন সাংবাদিক তদন্তকারীদের নিশ্চিত করেছেন তারা হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থলে ইদ্রিসকে দেখেছেন। এ ছাড়া সিলেটের দৈনিক পত্রিকা সবুজ সিলেটে প্রকাশিত অনন্ত বিজয়ের হত্যার পর তাৎক্ষণিক একটি ছবির ব্যাপারেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় ইদ্রিসকে। তিনি দাবি করেন, ছবিটি ফেসবুক থেকে নেয়া। তবে তদন্তকারীরা এই তথ্যের কোনো ভিত্তি পায়নি। আর এ কারণেই সন্দেহের আওতায় আনা হয় ইদ্রিসকে।

ইদ্রিসের ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য সংগ্রহ করেছেন সিআইডির তদন্তকারীরা। মাদ্রাসায় লেখাপড়া করা ইদ্রিস আলী ‘ইসলামী ছাত্রসেনার’ সদস্য ছিলেন। তবে ইদ্রিসের আর্থিক অবস্থা তেমন স্বচ্ছল নয়। এমন কিছু তথ্য পেয়েই সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি পুলিশ। আর কয়েকটি ‘সন্দেহজনক বিষয়’ উপস্থাপন করে আবেদন করায় আদালত তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন। তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

গত সোমবার গ্রেপ্তারের পর ইদ্রিস আলীকে ঢাকায় এনে সিআইডির কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত তাকে মিথ্যা তথ্য দেয়ার ব্যাপারে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। পাশাপাশি তাকে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে কিছু তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছেন তদন্তকারীরা।

সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে ইদ্রিস আলীর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তথ্য মিলেছে হত্যাকাণ্ডের কয়েক মিনিট আগেই ঘটনাস্থলের ‘খুব কাছে’ উপস্থিত ছিলেন ইদ্রিস। তিনি প্রথমে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা অস্বীকার করলেও এখন বলছেন, পরে তিনি গেছেন। প্রথম দিকে ভয়ে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেননি।

সিআইডির বিশেষ সুপার (অর্গানাইজড ক্রাইম) মির্জা আব্দুল্লাহেল বাকি বলেন, ‘সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা তার কাছ থেকে কিছু তথ্য জানা এবং যাচাইয়ের চেষ্টা করছি। এসব ব্যাপারে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।’

সিআইডির একটি সূত্র জানায়, ইদ্রিসকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় কাজ করছে সিআইডির একটি চৌকষ দল। ঘটনাস্থলে ইদ্রিস উপস্থিত থেকেও কেন মিথ্য বলছেন, তা খতিয়ে দেখছেন তারা। ইদ্রিসের ব্যক্তিগত যোগাযোগও খতিয়ে দেখছেন তারা।

অন্তত বিজয় দাশ হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ছায়া তদন্ত শুরু করে। গত ২৬ ফেব্রয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মুক্তমনা লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্তত হত্যার মিল থাকায় মাঠে নামে ডিবির দল। ফলে ডিবির কাছেও অন্তত হত্যার তদন্তের বেশ কিছু তথ্য আছে। গতকাল থেকেই দু’টি তদন্ত সংস্থা যোগাযোগ করে তথ্য বিনিময় শুরু করেছে।

গত ১২ মে সকালে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় বনকলাপাড়া পুকুরের পাশে চার দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে অনন্ত বিজয় দাশকে হত্যা করে। এ ঘটনায় সিলেট বিমানবন্দর থানার হত্যা মামলা দায়ের হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। ১৪ দিনের মাথায় গত ২৫ মে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম শাখায় হত্যা মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয়। গত সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আরমান আলী স্থানীয় আলোকচিত্র সাংবাদিক ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তারের পর আদালত হাজির করে ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোমবার গভীর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি গাড়িতে ইদ্রিসকে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। এখানে মঙ্গলবার থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি বেশ কিছু আলামতের ব্যাপারেও ইদ্রিসের কাছে জানতে চাওয়া হয় বলে জানায় সিআইডি সূত্র।

শুক্রবার তার রিমান্ডের পঞ্চম দিন। আগামী রোববার পর্যন্ত ঢাকায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে সিলেটের আদালতে হাজির করা হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ইদ্রিস আলী ‘সবুজ সিলেট’ নামের সিলেটের স্থানীয় একটি পত্রিকায় গত ছয় মাস ধরে নিজস্ব ফটোসাংবাদিক হিসেবে কাজ করতেন। একই সঙ্গে প্রায় দেড় বছর ধরে জাতীয় দৈনিক সংবাদ-এ ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিক হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। সংবাদে তার নিয়োগ ছিল না। তবে, সংবাদে তার নামে একাধিক ছবি ছাপা হয়েছে। ইদ্রিস সিলেট সদর উপজেলার বিমানবন্দর থানার খাদিমপাড়া ইউয়িনের সাহেব বাজার এলাকার ফতেহগড় গ্রামের মো. ইলিয়াছ আলীর ছেলে। বাবা ইলিয়াস আলী বিমানবন্দর থানা বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউয়িন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য।

ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ও ঘনিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইদ্রিস আলী সিলেটের মদন মোহন কলেজে লেখাপড়া করছেন। ২০১১ সালে তিনি সিলেট শহরের তাতীডাড়াস্থ দি এইডেড হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি ‘ইসলামী ছাত্রসেনার’ সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে তার ফেসবুক অ্যকাউন্টে উল্লেখ আছে। তিনি প্রকৃতপক্ষে মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন। ইদ্রিস আলী স্থানীয় মইয়ারচর মাদ্রাসা থেকে অষ্টম শেণী এবং নগরের টিভিগেইট মোহাম্মদিয় মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন। বর্তমানে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণীতে তার ভর্তি রয়েছে বলে জানা যায়। গত ৩০ এপ্রিল তিনি বিয়ে করেন। তার বিয়েতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: