শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

সতর্ক থাকুন, আপনার পাশে কিন্তু এইচ টি ইমাম: প্রধানমন্ত্রীকে আলাল



নিউজ ডেস্ক:: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর অন্যতম রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সহ মতিয়া চৌধুরী, হাসানুল হক ইনু ও রাশেদ খান মেননদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও যুবদলের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

আলাল বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার পাশে কিন্তু এইচ টি ইমাম রয়েছেন। আপনার অবশ্যই মনে আছে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের কথা। আপনার পাশে মতিয়া চৌধুরী রয়েছেন। এই মতিয়া আপনার বাবার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন। আপনার পাশে হাসানুল হক ইনু, রাশেদ খান মেনন রয়েছেন। তারা এখন আপনার ডুগডুগি বাজিয়ে ছেড়ে দেবে। বিএনপির কিছুই করতে হবে না।’

একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি আপনার নিজের স্বার্থে বেগম জিয়াকে মুক্ত করে দেন। বেগম খালেদা জিয়া আপনাকে সাহায্য করতে পারেন। যেভাবে অতীতেও তিনি বিভিন্ন সময়ে আপনাকে সাহায্য করেছেন। সুতরাং নিজের স্বার্থে এবং গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশনেত্রীর মুক্তির ব্যবস্থা করুন।’

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে আলাল বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা ভাই এবং বোনেরা আজকে আপনারা বাংলাদেশের পতাকার অবস্থাটা দেখেন। জাতীয় পতাকা দিয়ে আমাদের বোনদের অন্তর্বাস বানানো হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অ্যামাজন ২০১০ সাল থেকে এই বিজ্ঞাপনটি প্রচার করছে। অশ্লীল, দেখলে গা শিউরে ওঠে। এই বিষয়ে সাংবাদিকরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, মুক্তিযোদ্ধামন্ত্রী এবং আইসিটি মন্ত্রীকে প্রশ্ন করেছে। উনারা উত্তর দিতে পারেন নাই। প্রত্যেকেই বলেছেন খতিয়ে দেখা হবে। আর কত খতিয়ে দেখবেন আপনারা?’

যুবদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের কাছে আজ অত্যন্ত পরিষ্কার, ২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দুদকের মামলা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ৪০৯ ধারা দণ্ডবিধিতে বেগম জিয়াকে সাজা দিয়ে আদালত বলেছেন, আপনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ক্ষমতা ব্যবহারে অবহেলা করেছেন। হাইকোর্ট সেই সাজা বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

ছাত্রলীগ-যুগলীগের চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজির প্রসঙ্গ টেনে আলাল বলেন, ‘ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক কোটি টাকা আদায় করার জন্য যে নোংরামি করলো তাতে তারা শুধুমাত্র বহিষ্কার কেন? তাদেরকে কি আমরা জেলখানায় দেখতে পাবো না? তাদেরকে অবৈধ নির্বাচনের মাধ্যমে নষ্টকারী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভিসি আখতারুজ্জামানকে কি ঘাড় ধরে বের করে দেয়া হবে না? জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছাত্রলীগের নেতাদের সাথে ফুলের মালা নিয়ে মিছিল করেন। তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে না?’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে আলাল বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের বলেন, বালিশ-পর্দা এগুলো নাকি ছিঁচকে চুরি। ভালো কথা, এগুলো যদি ছিঁচকে চুরি হয় আপনারা তো বড় গলায় বলেছেন- ‘দেশ বানাবো সিঙ্গাপুর’, কিন্তু ‘ডিসির কারণে দেশ তো হয়ে গেছে জামালপুর’। আপনারা দেশ বানাতে চেয়েছেন সিঙ্গাপুর, আপনাদের ‘লক্ষ লক্ষ টাকার পাথর-কয়লা চুরির কারণে দেশ হয়ে গেছে দিনাজপুর’। দেশ বানাতে চেয়েছেন সিঙ্গাপুর, ‘পর্দা চুরির কারণে দেশ হয়ে গেছে ফরিদপুর’।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় দেখলাম, শেখ হাসিনা নাকি কঠোর হচ্ছেন। আরে ভাই, শেখ হাসিনা কঠোর ছিলেনই না বা কবে। শেখ হাসিনার অবৈধ কঠোরতার কারণেই তো আজ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দি। তাঁর প্রতিহিংসার কারণেই আজকে তারেক রহমান দেশছাড়া।’

আলাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় ধমক দেন- ‘বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে এত প্রশ্ন কেন?’ তিনি সংসদে বলেন, ‘যদি এত প্রশ্ন হয় তাহলে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিই’। এটা কি বাবার তালুকদারি নাকি জমিদারি। আপনি এত বড় বড় কথা বলছেন কেন? এই কথাগুলো বলে বলে আপনি মানুষের সাথে আস্ফালন করছেন।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের (বীর প্রতীক) সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের সঞ্চলনায় মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক সম্পাদক জয়নুল আবেদীন, বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা প্রমুখ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: