রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

শেষ পর্যন্ত ট্রফি ‘সোনার হরিণ’ হয়েই থাকল



স্পোর্টস ডেস্ক:: এতকাল ছিল ফাইনাল না খেলার আক্ষেপ। সেই আক্ষেপ ঘুচেছে ৪৮ ঘন্টা আগেই। সেমির যুদ্ধে আফগানদের ৭ উইকেটে হারানোর মধ্য দিয়ে। ভক্ত ও সমর্থকদের আশা ছিল, যাক এবার বুঝি ট্রফি জিততে না পারার হতাশাটা কাটবে।

‘ফাইনালে পারে না বাংলাদেশ। হারে। বারবার, বহুবার প্রমাণ হয়েছে এর আগে। কোনো টুর্নামেন্টে ফাইনালের আগে যতই ভাল খেলুক না কেন, ফাইনালে গিয়ে কেন যেন আর পেরে ওঠে না টাইগাররা। এশিয়া কাপ আর এশীয় যুব ক্রিকেটে এখনো ট্রফি জেতা হয়নি। সেই অধরা ট্রফিটা ‘সোনার হরিণ’ হয়েই রয়েছে।

মনে হচ্ছিলো জাতীয় দল আর যুব দল না পারলেও এবার বুঝি আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই আসবে প্রথম ট্রফি। এবার প্রাণ-ফ্রুটো ইমার্জিং কাপটা হবে বাংলাদেশের ক্রিকেট যোদ্ধাদের সাফল্যের আসর হয়ে। এ ট্রফি জয়ের মধ্য দিয়ে ঘুচবে ফাইনালে বারবার না পারার গ্লানিও। কিন্তু হায়! ইমার্জিং এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনালও হয়ে থাকলো হতাশার প্রতীক হয়ে।

আজ প্রাণ-ফ্রুটো ইমার্জিং এশিয়া কাপের চতুর্থ আসরের ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ৭৭ রানের বড় পরাজয়ই সঙ্গী থাকলো নাজমুল হোসেন শান্ত, সৌম্য সরকার, নাইম শেখ, ইয়াসির আলী রাব্বি আর আফিফ হোসে ধ্রুবদের।

ম্যাচের শুরুতে পাকিস্তানি টপ অর্ডারের ওপর চেপে বসেও টাইট বোলিং আর আলগা ফিল্ডিং ও দুর্বল ক্যাচিংয়ের মাশুল গুনেছে শান্তর দল। ২৩ রানে জীবন পাওয়া পাকিস্তানি মিডল অর্ডার রোহাইল নাজিরের আক্রমণাত্মক সেঞ্চুরিই শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।

তার ব্যাট থেকে আসে ১১১ বলে ১১৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস। বাঁ-হাতি স্পিনার তানভির ইসলামের বলে প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে ইয়াসির আলী রাব্বি যদি ওই ক্যাচটি ধরতে পারতেন, তাহলে হয়তো আজকের ফাইনালের চিত্র ভিন্নও হতে পারতো।

এরপরও ইয়াসির আলী রাব্বির হাত গলে আরও দুটি ক্যাচ পড়েছে। ওই তিন ক্যাচ হাতছাড়া না হলে নির্ঘাত পাকিস্তান ২৫০ থেকে ২৬০ রানের ভিতরে বেঁধে রাখা সম্ভব হতো। তাহলে আর ৩০২ রানের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেও হয়ত পড়তে হতো না। ফাইনালের আগে এ আসরে টাইগারদের রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড ছিল শতভাগ। হংকংয়ের বিপক্ষে ৯ উইকেট, ভারতের সাথে ৬ উইকেট, নেপালের সাথে ৮ উইকেট আর সেমির যুদ্ধে আফগানদেরকে ৭ উইকেটে হারালেও কোন ম্যাচেই লক্ষ্য বড় ছিল না।

ভারতের সাথে লক্ষ্যটা মোটামুটি (২৪৭) ছিল। আর আফগানদের বিপক্ষে টার্গেট ছিল ২২৯। সেখানে আজকের ফাইনালে ৩০২ রান, শুধু বড়ই নয় কঠিনও ছিল। কারণ সন্দেহাতীতভাবেই এবারের প্রাণ-ফ্রুটো ইমার্জিং কাপের সেরা ও ধারালো বোলিং পাকিস্তানের।

সেই বোলিংয়ের বিপক্ষে ৩০১ রান টপকে যাওয়া বহুদুরে, লড়াইও করা সম্ভব হয়নি। ২২৪ রানেই শেষ টাইগারদের ইনিংস। এতবড় স্কোর তাড়া করতে সবার আগে দরকার ছিল বড় জুটি ও অন্তত একজোড়া বড় ইনিংস। এর একটিও হয়নি। তাই জেতা বহুদুরে, লড়াইও করা সম্ভব হয়নি।

পুরো ইনিংসে সবচেয়ে বেশি রান আফিফ হোসেন ধ্রুব‘র । ওপরের দিকে সৌম্য (১৫), নাইম (১৬), শান্ত (৪৬) আর ইয়াসির আলী রাব্বি (২২)- অল্প সময় ও সংগ্রহে ফিরে গেলে আফিফ আর মেহেদি হাসান চেষ্টা করেছেন দলকে এগিয়ে নিতে; কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সর্বনাশ যা হবার, আগে ভাগেই হয়ে গিয়েছিল।

অবশ্য আফিফ হোসেন ধ্রুব নিজেকে খানিক দূর্ভাগা ভাবতেই পারেন। থার্ড ম্যানে তার ক্যাচটি অসাধারণ দক্ষতা ও চিতাসম ক্ষিপ্রতায় ধরে ফেলেছেন পাকিস্তানি ফিল্ডার শামিন গুল। ফাস্ট বোলার হাসনাইনের করা অফ স্ট্যাম্পের বাইরে খাট লেন্থের ডেলিভারিকে থার্ডম্যানের স্লিপের মাথার ওপর দিয়ে গলাতে চেয়েছিলেন আফিফ।

ফিল্ডার ছিলেন অনেক দুরে। আর আফিফের শর্টটি চলে যাচ্ছিলো ঠিক প্রথম স্লিপের মাথার ওপর দিয়ে; কিন্তু বল বাতাসে বেশি সময় ভেসে থাকায় শামিন অন্তত ১৫ থেকে ১৭ গজ দৌড়ে ডান দিকে পুরো শরীর মাটিতে ফেলে তা ধরে ফেলেন। আফিফ সেটা অসহায় দৃষ্টিতে দেখতে দেখতে সাজ ঘরে ফেরেন।

শেষ দিকে মেহেদি হাসান একা লড়াই করে রানটাকে ২০০ পার করে দেন শুধু। এরপর মেহেদি হাসান খেলেন সাইদ বদরের বলে ৪৫ বলে ৪২ রানের আর একটি মাঝারি ইনিংস। তাতেই স্কোর ২২৪ পর্যন্ত যায়।

প্রথম সেশনে মিডল অর্ডার রোহাইল নাজির (১১১ বলে ১১৩), ইমরান রফিক (৮৮ বলে ৬২) আর সাইদ শাকিল (৪০ বলে ৪২), খুরশিদ শাহ (১৬ বলে ২৭) আর আমাদ বাটের (৭ বলে ১৫) হাত খোলা ব্যাটিং দিয়ে সাজানো ৩০১ রানের বড় পুঁজিটাই জয়ের জন্য যথেষ্ঠ বলে প্রমাণ করে দিলেন পাকিস্তানের বোলাররা।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: