বুধবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ১৪ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

রিজার্ভ চুরি: বিদেশিদের তথ্য না পাওয়ায় আটকে আছে তদন্ত



নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত আটকে আছে বিদেশি ইস্যুতে। এ ঘটনায় জড়িত বিদেশিদের তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিতে পারছে না মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দেশের ভেতরের লোকজন ছাড়াও বাইরের কয়েকটি দেশের অন্তত ৩০ জন জড়িত রয়েছে। এসব ব্যক্তির তথ্য পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মাধ্যমে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।এ পর্যন্ত রিজার্ভ চুরিতে জড়িত সন্দেহভাজন মাত্র একজন বিদেশির তথ্য পাওয়া গেছে।অন্যদেরটাও শিগগির পাওয়ার আশা করছেন তারা। এরপর চার্জশিট তৈরির কাজে হাত দেবে সিআইডি।

তদন্তে সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ৩০ বিদেশি নাগরিককে শনাক্ত করেছে সিআইডি। চিহ্নিত ওইসব ব্যক্তির বিস্তারিত তথ্য চেয়ে এরই মধ্যে ফিলিপাইন ও শ্রীলঙ্কাসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাদের সবার তথ্য পেলে চার্জশিট তৈরিতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে।

তবে ওইসব বিদেশির তথ্য কবে নাগাদ হাতে আসবে,সেটা সঠিকভাবে বলতে পারেননি তারা। বিদেশিদের বিষয়টি পুরোপুরি শেষ করে দেশের ভেতরে জড়িতদের নিয়ে কাজ করতে চান তারা। তাদেরও চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা।

অভিযোগপত্রে বিদেশি অপরাধীদের বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হলে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ড ঘোষণা করতে পারবেন আদালত। দণ্ড ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০১ মিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কায় এবং আট কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মানি লন্ডারিং আইনে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরির অভিযোগ এনে ১৫ মার্চ (২০১৬) মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

শুরু থেকেই মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান সিআইডি’র অর্গানাইজ ও ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান।

রিজার্ভ চুরির তদন্ত কবে নাগাদ শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে সিআইডি’র অর্গানাইজড ও ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) মোল্লা নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত কবে শেষ হবে বলা মুশকিল। তদন্ত কখনও সময়সীমা বেঁধে দিয়ে হয় না। এটা একটা ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম। বাংলাদেশ ছাড়াও ফিলিপাইন, হংকং, ম্যাকাও, চীন, শ্রীলঙ্কা, মিশর, সিঙ্গাপুর ও জাপানের অপরাধীরা জড়িত এ ঘটনার সঙ্গে। সেসব অপরাধীর তথ্য পেতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন পর্যন্ত মাত্র একজন অপরাধীর তথ্য পেয়েছি। অন্য অপরাধীদের তথ্য আনার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মাধ্যম কাজ করছে। বিদেশি অপরাধীদের তথ্যগুলো পেলেই আমরা এ মামলার তদন্তের ইতি টানতে পারবো।’

প্রসঙ্গত, সিআইডি ছাড়াও রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে পুলিশ সদর দফতর, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি)। সবগুলো বিভাগের একটি সমন্বিত টিম এ তদন্ত কাজ চালাচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: