রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

মুসলিম শিশুদের পরিবার থেকে বিছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার চীনের



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: চীনের পশ্চিম জিনজিয়াং এলাকায় মুসলিম শিশুদেরকে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত। বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সংখ্যালঘু উইগর মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক শিশুর বাবা-মা হয় জেলে, না হয় ক্যাম্পে বন্দী আছেন। পাশাপাশি উইগর মুসলিম শিশুদের জন্য বোর্ডিং স্কুল তৈরির জন্য দেশটিতে ব্যাপক ভিত্তিতে একটি প্রচারণা কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

সমালোচকেরা বলছেন, শিশুদেরকে তাদের মুসলিম কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই মূলত এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে, এসকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত লিউ জিয়াওমিং। রোববারে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, শিশুদেরকে তাদের অভিভাবকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না। মোটেও না।

কিন্তু বিবিসি এর আগে তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়েছে যে, জিনজিয়াং-এর একটি এলাকাতেই ৪০০ এর অধীক শিশু বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, উগ্রবাদকে মোকাবেলা করতে উইগর সম্পদ্রায়ের সদস্যদের শিক্ষায় সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হচ্ছে।

কিন্তু বিভিন্ন তথ্য প্রমাণে দেখা যায় যে, এমনকি নিজের বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে নামাজ পড়া বা হিজাব পড়া বা তুরস্কে কারো সাথে যোগাযোগ থাকার কারণেও অনেককে আটক করা হচ্ছে। এই ব্যবস্থায় দশ লাখেরও বেশি মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বাবা-মাকে আটক করার পর কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয় যে শিশুটিকে সেন্ট্রালাইজ কেয়ার বা কেন্দ্রীয় পরিচর্যার আওতায় নেয়া হবে কিনা।

জিনজিয়াং-এর স্থানীয় একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেসব শিশুর বাবা-মাকে আটক করা হয় তাদেরকে বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সেখানেই শিশুদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয় এবং এই শিশুদেরকে ভালোভাবে দেখ-ভাল করার নির্দেশ দেয়া হয়।

শিশুদেরকে বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই বিষয়টি নিয়ে বিবিসির হয়ে গবেষণা করেছেন যেই ড. আদ্রিয়ান জেঞ্জ। তিনি বলেছেন, বোর্ডিং স্কুলগুলোতে মূলত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলোকে সাংস্কৃতিকভাবে রি-ইঞ্জিনিয়ারিং বা নতুন করে পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি করা হয়।

তার এর মতে, বোর্ডিং স্কুলে রাখার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মূলত জিনজিয়াং-এর সরকার এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করছে যারা নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বিশ্বাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বেড়ে উঠছে। উইগর সম্পদ্রায়ের হাজার হাজার মানুষ তুরস্কে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে, কেউ নিজের পরিবারের সদস্যদের দেখতে আর কেউ-বা পাড়ি জমিয়েছেন ধর্মীয় নিপীড়ন থেকে পালিয়ে বাঁচতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: