শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ মাঘ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

বিশ্বব্যাপী শব-ই-বরাত এবং এর ফযিলত



20. shob e baratআজ পবিত্র শব-ই-বরাত। যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে বিশ্বব্যাপী সকল মুসলিমেরা এই দিনটি উৎযাপন করেন। মুসলমানেরা বিশ্বাস করেন, এই দিনে সৃষ্টিকর্তা তাদের অতীত কর্মের উপর বিবেচনা করে, আগামী এক বছরের ভাগ্য নির্ধারণ করেন। আরবি বর্ষপঞ্জিকার অষ্টম মাসে অর্থাৎ শাবান মাসের ১৪ তারিখ রাতে শব-ই-বরাত পালন করা হয়। রমজান মাস শুরু হবার ১৫ দিন আগে এই মহিমান্বিত রাত পালন করা হয়।

শব-ই-বরাতের আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হল, এ রাত ক্ষমা প্রার্থনা ও প্রায়শ্চিত্তের রাত। মুসলমানেরা এই রাতে আল্লাহ্‌র দরবারে হাত তুলে তাদের সমস্ত জীবনের গোনাহ মাফের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। এই রাতে মানুষ আল্লাহ্‌র কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়। সামনের জীবন তার বিধিনিষেধ মেনে চলার জন্য। কিছু কিছু যায়গায় এই রাত “বোরাক রাত” হিসেবে পরিচিত।

শব-ই-বরাত একটি ফারসি ভাষা। শব অর্থ রাত এবং বরাত অর্থ কমিশন বা অ্যাসাইনমেন্ট এর রাত। আরবি ভাষায় একে “লাইলাতুল বরাত” বলা হয়। যার রাত হল মুক্তির রাত। অনেকেই শব-ই-বরাতের রাতকে সৌভাগ্যের রাত বলে মনে করেন এবং তারা বিশ্বাস করেন, এই রাতে আল্লাহ্‌ সকলের দুঃখ-কষ্ট দূর করে দিবেন।
বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন নিয়মে শব-ই-বরাত পালন করা হয়। নিম্নে তা আলোচনা করা হল-

১. বাংলাদেশ:
শব-ই-বরাতে মুসলমানেরা তাদের ঘর অনেক সুন্দর করে সাজিয়ে এবং পবিত্র করে রাখে। রাস্তায় ও বাড়ির বাহিরে মোমবাতি ও বিভিন্ন লাইট দিয়ে আলোকিত করে রাখে। সারারাত জেগে ইবাদত করার পাশাপাশি অনেক ছোট ছেলেমেয়ে আতশবাজি ফুটায়। চারদিকে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই দিনে আমাদের দেশে হালুয়া-রুটি ও বিভিন্ন মিষ্টিজাতীয় খাবার তৈরি করে তা আত্মীয়দের বাসায় প্রেরণ করা হয়। ঘরে বিভিন্ন সুস্বাদু রান্না তৈরি করা হয়। দরিদ্রদের সাহায্য করার পাশাপাশি, অনেকেই কবর জিয়ারত করতে যায়।

২. ভারত ও পাকিস্তান:
বাংলাদেশের ন্যায় ভারতেও মুসলমানেরা এই দিনটি অনেক উৎসবের সাথে পালন করেন। এইদিনে তারা মিষ্টি, জর্দা ও বিভিন্ন ধরনের হালুয়া রান্না করেন। ভারতীয়রা শব-ই-মেরাজ, শব-ই-বরাত ও শব-ই-কদরে হালুয়া সকলের বাসায় প্রেরণ করেন।

পাকিস্তানীরা সারারাত জেগে ইবাদত বন্দেগী করেন। এই রাতের তাৎপর্য সারাবিশ্বব্যাপী এক, তবে হয়ত বিভিন্ন ভাবে পালন করা হয়। তারা নামাজ ও কোরআন পাঠ করার মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করেন। এইদিনে নফল রোজা পালন করা হয়। বাংলাদেশের তুলনায় ভারত ও পাকিস্তানে সাজসজ্জার বিষয়ে অনেক গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

৩. মধ্যপ্রাচ্য:
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে জাঁকজমকভাবে শব-ই-বরাত পালন করা হলেও মধ্যপ্রাচ্যে কোন জাঁকজমক নেই। তারা সারারাত শুধু ইবাদতের মাধ্যমে উদযাপন করেন। তারা আতশবাজি, মোমবাতি, হালুয়া-রুটি ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকে।
পরিশেষে বলা যায়, এ রাত হল আল্লাহ্‌র দরবারে গোনাহ মাফ করানোর রাত। তাই, রাতের বেশিরভাগ সময় ইবাদত বন্দেগী করে কাটানো সবচেয়ে উত্তম উপায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: