শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «  

বিএনপিকে বলে দাও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে হবে-ড. কামাল



নিউজ ডেস্ক:: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন ‘জিয়া কখনও স্বাধীনতার ঘোষক নন। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নামে। কোন মেজরের ঘোষনায় নয়।’সোমবার বিকেলে ড. কামাল হোসেন, তার দল গণফোরামের সাধারন সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে ডেকে একথা বলেন। ড. কামাল হোসেন এটা বলেছেন ‘জীবন সায়াহ্নে এসে আদর্শ বিকিয়ে দেবো না।’

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩১ মার্চ। ঐ দিন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দিতে যখন ড. কামাল মাইক্রোফোনের সামনে আসেন, তখন উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে থেকে শ্লোগান শুরু হয়।

তারা ‘স্বাধীনতার ঘোষক জিয়া, লও লও লও সালাম দিতে থাকেন।’ শ্লোগানের কারণে ড. কামাল বক্তৃতা দিতে পারছিলেন না। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ধমক দিয়ে দর্শক-শ্রোতাদের থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। হৈ চৈ এর মধ্যে গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু গিয়ে কানে কানে ড. কামাল হোসেনকে কিছু বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে ড. কামাল উত্তেজিত হয়ে বলেন ‘আমার যা বলার সেটাই বলবো। আমাকে দিয়ে অন্য কিছু বলানো যাবে না।’

গণফোরামের ঘনিষ্ঠ সূত্র গুলো বলছে, মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে আজ ড. কামাল হোসেন মতিঝিলে তার ল চেম্বারে ডেকে পাঠান। এসময় ড. কামাল বেশ উত্তেজিত ছিলেন।

জানা গেছে, মন্টু ড. কামালের কানে কানে, একবার জিয়ার নাম নেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। এতেই ড. কামাল ক্ষেপে যান। মন্টুকে যখন ডেকে পাঠান তখন গণফোরামের আরেক নেতা এডভোকেট সুব্রত চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন।

ড. কামাল হোসেন বলেন ‘মুক্তিযুদ্ধ আমরা করেছি, বঙ্গবন্ধুর সংগে কারাগারে ছিলাম। আমি যখন মন্ত্রী তখন সে (জিয়া) আমাকে স্যালুট করতো, সে আমাকে স্যার বলতো।’ সূত্র মতে, ড. কামাল মন্টুকে বলেছেন ‘ইতিহাস বিকৃত করবো, এতো নীচে নেমে গেছি?’ তিনি মন্টুকে বলেন ‘ওদের (বিএনপি) বলে দাও জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট করতে গেলে বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে হবে। জাতির পিতাকে স্বীকার করতে হবে। শেষ বয়সে এসে গাদ্দার হতে পারবো না।’ বঙ্গবন্ধু ব্যাপারে নিজের অবস্থানও একই রকম বলে মন্তব্য করেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

তবে তিনি ড: কামাল হোসেন কে বলেন ‘ঐক্য টিকিয়ে রাখার জন্য কিছু কম্প্রোমাইজ করতে হয়।’ জবাবে ড: কামাল, মাথা নেড়ে নো নো বলে বলেন ‘আদর্শের সাথে কোন আপোষ করবো না।’ তিনি বলেন ‘আওয়ামী লীগই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে দুরে সরে গেছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শেই আছি।’

এদিকে, ‘স্বাধীনতার ঘোষক’ হিসেবে জিয়ার নাম উচ্চারণ না করায় ড. কামাল হোসেনের উপর ক্ষুদ্ধ হয়েছেন বিএনপির একাধিক শীর্ষ নেতা। রোববারের অনুষ্ঠানে জিয়ার নাম উচ্চারণ না করাকে ড. কামালের ‘ধৃষ্টতা’ বলছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন ‘কামাল সাহেব বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানাতে চান।’ অন্যদিকে ২০ দলের অন্যতম শরীক এলডিপির প্রধান কর্ণেল (অব:) অলি আহমেদ বলেছেন ‘ড. কমালের হাতেই বিএনপির ধ্বংস হবে।’

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: