সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

বাবার কাঁধে ছেলের লাশ, ছোট্ট মেয়েটিও হাসপাতালে



নিউজ ডেস্ক:: ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া রাইয়ান সরকারের ছোট্ট বোনটির অবস্থাও গুরুতর। ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মালিহা সরকার (৬) মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। রাইয়ান রাজধানীর মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ছেলের মৃত্যুর পর মেয়েরও করুণ পরিণতি দেখে মুষড়ে পড়েছেন বাবা মমিন সরকার। তিনি হাসপাতালে মেয়ের বেডের পাশে বসে চোখের পানি ফেলছেন আর বিলাপ করছেন- ‘ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ছেলে রাইয়ানের (১১) লাশ যখন আমার কাঁধে, তখন মেয়েটাও মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে হাসপাতালে। এই পরিবেশ সহ্য করা কঠিন। আমি ভাবতেই পারিনি, এমনটি ঘটবে আমার সঙ্গে।’

মমিন সরকার জানান, মালিহা ১ আগস্ট থেকে ভর্তি আছে স্কয়ার হাসপাতালের ১১২৩ নম্বর বেডে। ঠিক এই বেডেই ৩১ জুলাই ভর্তি হয়েছিল রাইয়ান। ছেলের শরীরের অবস্থা বেশি খারাপ হলে তাকে নিবিড় পরিচর্চাকেন্দ্রে নেয়া হয়। ঠিক তখনই মালিহাকে এই বেডে ভর্তি করা হয়।

মমিন সরকার চোখের পানি ফেলছিলেন আর বলছিলেন, ‘ছেলে মারা গেছে শুক্রবার দুপুরে। ছেলেকে নিয়ে যখন হাসপাতাল ছাড়ি তখন আমার মেয়ের প্লাটিলেট কমতে শুরু করে। ছেলের লাশ যখন আমার কাঁধে, তখন মেয়ের অবস্থা ভালো না। এর চেয়ে অসহায় সময় জীবনে আর কখনও কাটেনি।’

রাইয়ানের করুণ মৃত্যু মানতে পারছেন না বাবা। বলেন ‘ছেলেটা যে আমার সত্যিই চলে যাবে এটি বিশ্বাসই হয়নি। ডাক্তাররা যখন হাল ছেড়ে দিয়েছেন, তখনও আমার বিশ্বাস ছিল রাইয়ান আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে। সে আমাকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে চলে যাবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে চলে গেল। ছেলের লাশ আমাকে বহন করতে হলো।’

রাইয়ানের চাচা মনিরুল ভাইকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলেন আর চোখের পানি ফেলছিলেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, বাবার কাঁধে ছেলের লাশ আর মেয়েও নিথর হয়ে পড়ে আছে হাসপাতালের বেডে। এই পরিবেশ কি কোনো বাবা সহ্য করতে পারে?

স্কয়ার হাসপাতালের ১১২৩ নম্বর বেডের পাশে বসা রাইয়ান-মালিহার মা রোমানা। তার কান্নায় চোখের কোনে পানি এসে যায় আশপাশের সবার। তিনি বিলাপ করতে করতে বলতে থাকেন, ‘মালিহার আগে জ্বর এসেছিল। ওরা যা যা করবে দুজন একসঙ্গেই করবে। তাই ছেলে আমার বারবার বলছিল- ‘আমারও জ্বর আসুক, তা হলে মালিহার পাশে শুয়ে ওর সঙ্গে কথা বলতে পারব। তার কথা যে সত্যি হবে কে জানত। সেও জ্বরে ভোগা শুরু করল। হাসপাতালে আনলে ডাক্তার জানান ডেঙ্গু হয়েছে।’

রাইয়ানের মৃত্যুর আগের মুহূর্ত বর্ণনায় রোমানা বলেন, রাতে ঘুমের ঘরে আমার ছেলে বলছিল- ‘সব ভেঙে চুরে আসতেছে। আসিস না, তুই আসিস না।’ বলতে বলতে কেঁদে ওঠেন রোমানা। রাইয়ানের স্মৃতি হাতড়ে মা বলেন, জ্বরে পড়ার আগে ঘরের ভেতরে ছেলেটা ফুটবল খেলছিল। কী জোরে জোরে বল পেটাচ্ছিল। ওইটাই মনে হয় ওর শেষ খেলা ছিল।’

এই সময় মালিহার হাতে স্যালাইন চলছিল। সে কারও সঙ্গে কথা বলে না, সবার দিকে ফেল ফেল করে তাকিয়ে থাকে। সবার কান্না দেখে। ছোট্ট মালিহা এখনও জানে না, তার খেলার সাথী আর বেঁচে নেই! মালিহা ভাঙা ভাঙা কণ্ঠে বলে, ‘কালকের চেয়ে আজ একটু ভালো লাগছে। কিন্তু শুতে কষ্ট হচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, রাইয়ানের মৃত্যু হয় শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে। রাইয়ান মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। মালিহা তার একমাত্র বোন।

রাইয়ান মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত। মালিহা একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। গতকাল রাইয়ানের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় তেজগাঁওয়ের রহিম মেটাল জামে মসজিদে। পরে তাকে দাফন করা হয়।

মমিন সরকারের গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার শেরনগর ইউনিয়নের মুকুন্দগাতী গ্রামে। বর্তমানে থাকেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেকে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: