শনিবার, ৬ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

প্রথমবার মহাকাশে হাঁটলেন যে দুই নারী



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: প্রথমবারের মতন মহাকাশে হাঁটলেন শুধুই নারী নভোচারীদের একটি দল। এই মিশনে অংশ নিয়ে ইতিহাস সৃষ্টিকারী দুই নারী নভোচারী হলেন-ক্রিস্টিনা কচ ও জেসিকা মায়ার। বিকল হয়ে যাওয়া একটি ‘পাওয়ার কন্ট্রোল ইউনিট’ প্রতিস্থাপন করতে গিয়ে তারা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের বাইরে সাত ঘণ্টা সময় কাটিয়েছেন। এর আগেও আরও চারবার মহাকাশে হেঁটেছেন কচ । তবে মায়ারের জন্য এটিই ছিল প্রথম মহাকাশ মিশন। নাসা জানিয়েছে, জেসিকা মায়ার হলেন মহাকাশে হাঁটা ১৫তম নারী।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভিডিও কল দিয়ে এই দুই নভোচারীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি এই দুই নভোচারীকে ‘সাহসী ও মেধাবী নারী’ বলেও বর্ণনা করেছেন। ক্রিস্টিনা কচ পেশায় একজন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। আর মেরিন বায়োলজিতে ডক্টরেট করেছেন জেসিকা মায়ার।

গত শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১:৩৮ মিনিটে তারা আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের বাইরে যান। এ সময়ে তাদের গায়ে ছিল নাসার স্পেস-স্যুট বা মহাকাশযাত্রায় ব্যবহারের উপযোগী বিশেষ পোশাক। এই দুই নভোচারীর হাঁটার গন্তব্য ছিল আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রের পোর্ট-৬ ট্রাস স্ট্রাকচার নামক একটি স্থান।

সেখানে পৌঁছে তারা ব্যাটারি চার্জ-ডিসচার্জ ইউনিট (বিসিডিইউ) প্রতিস্থাপন করেছেন। প্রতিস্থাপন শেষ করে তারা বিকল হয়ে যাওয়া সেই যন্ত্রাংশ নিয়ে ফিরে আসেন। দুই নারী নভোচারীর এই মহাকাশ-যাত্রাকে ‘ঐতিহাসিক ঘটনার চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ’বলে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী কামালা হ্যারিস।

এক টুইট বার্তায় তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে এই প্রথমবারের মত শুধু নারী নভোচারীদের একটি দল মহাকাশে হাঁটলেন। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক ঘটনাই নয়। নারীরা যে আকাশকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে, এই ঘটনা তাকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।’

মার্চ মাসে নাসা এক ঘোষণায় জানিয়েছিল, এই প্রথম শুধু নারীদের দিয়ে গঠিত একটি দল মহাকাশ যাত্রায় যাচ্ছে। সেই দলে কচ ও তার সহকর্মী অ্যানি ম্যাকক্লেইন-এর নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ম্যাকক্লেইনের উপযোগী মধ্যম আকৃতির মহাকাশ-স্যুট না পাওয়ায় তখন সেই মিশন স্থগিত করা হয়েছিল।

মহাকাশে প্রথম যে নারী হেঁটেছিলেন তিনি হলেন রাশিয়ার নাগরিক স্ভেৎলিনা সাভিৎস্কায়া। ১৯৮৪ সালের ২৫ জুলাই তিনি স্পেস স্টেশনের বাইরে ৩ ঘণ্টা ৩৫ মিনিট সময় কাটিয়েছিলেন। আর মহাকাশে হাঁটা প্রথম মানুষটির নাম অ্যালেক্সি লিওনভ। এই মাসের শুরুতে ৮৫ বছর বয়সী লিওনভ মারা গেছেন।

এই মঙ্গলবারেই নাসা নতুন এক ধরণের স্পেস স্যুটের ঘোষণা করেছে। পৃথিবী থেকে চাঁদে পরবর্তী যে মিশনটি যাবে, সেটির নভোচারীরা হয়তো নতুন এই মহাকাশ-বর্মটি পরার সুযোগ পাবেন। নাসা বলছে, নতুন এই স্পেস স্যুট এমনভাবেই নকশা করা হয়েছে যে, এটি যেই নভোচারী পড়বেন তার আকার বা আকৃতি নিয়ে ভাবতে হবে না।

কারণ ব্যক্তির গায়ের গড়ন যাই হোক না কেন, নতুন এই পোশাকে রয়েছে নভোচারীর শরীরের সাথে প্রয়োজন-মাফিক কাস্টমাইজড করে নেয়ার সুবিধা।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: