শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য বাড়ালো ভারত



নিউজ ডেস্ক:: নিজেদের বাজার সামাল দিতে পেঁয়াজের রফতানিমূল্য বাড়ালো ভারত। প্রতিবেশী দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা স্থলবন্দর কাস্টমসের হাতে পৌঁছেছে। ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়ে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা শুক্রবার জানায়, এখন থেকে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৮৫০ ডলারের কমে রপ্তানি করা যাবে না।

বাংলাদেশের আমদানিকারকরা বলছেন, গতবছর ফেব্রুয়ারির পর ভারতীয় পেঁয়াজের ন্যূনতম রপ্তানিমূল্যের ওই বাধ্যবাধকতা ছিল না। গত সপ্তাহেও তারা প্রতি টন ভারতীয় পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে আমদানি করেছেন। এখন ভারত ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য বেঁধে দেওয়ায় তা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হবে।

ইতোমধ্যে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা স্থলবন্দর কাস্টমসের হাতে পৌঁছেছে। শনিবার থেকেই নতুন দামে এলসি খুলতে হবে দেশের আমদানিকারকদের।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাক বলেন, আজ শুক্রবার আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল। গতকালও আমরা প্রতিটন পেঁয়াজ ৩০০ ডলারে আনতে পেরেছি। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা আভাস দিচ্ছিলেন এই দাম দুই এক দিনের মধ্যে ৪০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু ভারত সরকার বাড়িয়ে দিল তারচেয়েও অনেক বেশি। ফলে সামনের সপ্তাহেই দেশের বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাবে বলে ধারণা করছেন মোস্তাক।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন ও মামুনুর রশীদ জানান, এতদিন পেঁয়াজ আমদানিতে নূন্যতম কোনও রফতানিমূল্য নির্ধারণ করা ছিল না। তারা যে দামে পেঁয়াজ কিনতেন, সে দামেই আমদানি করা হতো। প্রতিটন পেঁয়াজ প্রকারভেদে ২৫০-৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি হতো। কিন্তু আজ ন্যাপিড পেঁয়াজের নূন্যতম রফতানিমূল্য ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে নির্দেশনা জারি করেছে।

তারা জানান, দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ঠিক রাখতে ও মূল্য হাতের নাগালে রাখতে বাড়তি মূল্যেই পেঁয়াজ আমদানি করা হবে। তবে আগামীকাল শনিবার যেহেতু ছুটির দিন, সেহেতু ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে পুরনো এলসিগুলো এম্যান্ডমেন্ট করা যাবে না এবং সব আমদানিকারক পেঁয়াজ আমদানিও করতে পারবেন না। এতে আমদানির পরিমাণ কমবে। এর প্রভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়তেও পারে।

হিলি স্থলবন্দরের অগ্রণী ব্যাংকের ম্যানেজার আফতাবুজ্জামান সরকার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই পেঁয়াজের এলসি ২৫০-৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে খোলা হচ্ছিল। সম্প্রতি ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে; এ কারণে ভারত পেঁয়াজের রফতানিমূল্য একলাফে বাড়িয়ে ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছে। বিষয়টি আজ এক আমদানিকারক ফোনে আমাদের জানিয়েছেন। সেইসঙ্গে তার পুরোনো এলসি এম্যান্ডমেন্ট করার কথাও বলেছেন।

সাতক্ষীরার ভোমড়া স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তদানিকারণ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান জানান, তিনি সর্বশেষ ২৫০ ডলার দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ এনেছেন।

ভারত যে ন্যূনতম দাম ঠিক করে দিয়েছে, তাতে খুচড়া বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তার ধারণা। তবে এবার ভারতীয় পেঁয়াজের দাম বাড়লেও সার্বিকভাবে পেঁয়াজের বাজার অতোটা চড়বে না বলে মনে করছেন ঢাকার শ্যাম বাজারের পাইকারি বিক্রেতা আব্দুল মাজেদ।

তিনি বলেন, আমাদের আমদানিকারকরা ইতোমধ্যে তুরস্ক, মিশর, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরু করেছেন। ফলে ভারতের সিদ্ধান্তের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার মত কোনো প্রভাব পড়ার কথা না।

ঢাকার বাজারে শুক্রবার প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় এবং দেশি পেঁয়াজ ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এদিকে ভারতীয় রফতানিকারক অনিল ঠাকুর বলেন, সম্প্রতি ভারতের কিছু এলাকায় বন্যা হয়েছে; যেসব এলাকায় অনেক বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়ে থাকে। বন্যায় পেঁয়াজের ক্ষেত নষ্ট হওয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এ কারণে সরবরাহ কমেছে এবং আমাদের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি বলেন, কলকাতার বাজারেই প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। এ অবস্থায় পেঁয়াজ রফতানিকে নিরুৎসাহিত ও নিত্য প্রয়োজনীয় এ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে এর নূন্যতম রফতানিমূল্য ৮৫২ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দিয়েছে ন্যাপিড। শনিবার সকাল থেকেই এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দিল্লি আর কলকাতার খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ রুপিতে, যা সপ্তাহ দুই আগেও ২০ থেকে ৩০ রুপি ছিল।

প্রসঙ্গত, চলতি বছর বন্যার কারণে ভারতের মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে পেঁয়াজের উৎপাদন বড় ধাক্কা খেয়েছে। ফলে পেঁয়াজের পাশাপাশি নিত্যপণ্যের দামও বাড়ছে গত কিছুদিন ধরে।

এর আগে ২০১৭ সালের শেষ দিকেও একবার ভারত নিজেদের বাজার সামাল দিতে ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য ৪৩০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ ডলার করেছিল। তখন ঢাকার খুচড়া বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজ ৭৫ টাকা কেজিতে পাওয়া গেলেও দেশি পেঁয়াজের দাম ১০০ টাকা পেরিয়ে গিয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: