বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

ছেলে প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাংলাদেশি পরিবারকে তাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া



নিউজ ডেস্ক:: বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক পরিবারটিকে দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। না, তাদের কোনো অপরাধ নেই। তারা কোনো অভিবাসী আইনও ভঙ্গ করেনি। তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে আদিয়ান প্রতিবন্ধী হওয়ায় ওই পরিবারের বিরুদ্ধে এই অমানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার।

অস্ট্রেলিয়ায় জন্ম নেয়া শিশুটি কিছুটা প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারসহ তার ভিসার আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জন্মের পর মাথা তুলতে কষ্ট হতো আদিয়ানের। তার হাতেও সামান্য ত্রুটি ছিল। কোনো কিছু ধরতে পারত না সে। যদিও আস্তে আস্তে সেসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে ছেলেটি। সে এখন অনেক ভালো আছে। পড়াশোনাতেও কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে না, নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে। বাসায় শিশুতোষ ভিডিও দেখছে। ফুটবলও খেলছে। অথচ অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ বলছে, সে শারীরিক প্রতিবন্ধী। তাই তাকে দেশে রাখা যাবে না। তাকেসহ তার পরিবারকে ফিরে যেতে হবে দেশে।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানায়, নামে শিশুটি অস্ট্রেলিয়ার ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে’বলে এমন আশঙ্কা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ২০১১ সালে স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়াতে যান আদিয়ানের বাবা ড. মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। পরের বছরেই বাংলাদেশে এসে বিয়ে করে অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যান। ২০১৩ সালে স্ত্রী রেবেকা সুলতানাকেও তিনি দেশটিতে নিয়ে যান। সেখানে গিলং হাসপাতালে আদিয়ানের জন্ম হয়।

আদিয়ানের জন্মের কয়েক মাস পরেই তার পরিবার লক্ষ্য করে, সে সহজে মাথা তুলতে পারছে না। সম্ভবত জন্মের কিছু সময় আগে বা পরে স্ট্রোকের কারণে সে হালকা সেরিব্রাল প্যালসিতে আক্রান্ত হয়।

জানা যায়, বাংলাদেশে স্নাতক করার পর দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন মেহেদি হাসান ভূঁইয়া। এরপর ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার ডিকিন ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি অর্জন করেন। তিনি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্য সরকার কর্তৃক দক্ষ অভিবাসী হিসেবে স্থায়ী ভিসা পান। যার মাধ্যমে পরিবারসহ তিনি অস্ট্রেলিয়া আজীবন থাকার নিশ্চয়তা পান। কিন্তু আদিয়ানের শারীরিক অক্ষমতার কারণে স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় পুরো পরিবার দেশটিতে বসবাসের যোগ্যতা হারায়। অস্ট্রেলিয়ার কঠোর অভিবাসী নীতির ‘ওয়ান ফেলস অল ফেল’ কারণে একজনের কারণে পরিবার সব সদস্যকে দেশটি থেকে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেহেদি হাসান ভূঁইয়া আপিল করেন। তবে সেই আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল ট্রাইব্যুনাল। আদিয়ানের চিকিৎসা-সংক্রান্ত আড়াই বছরের (২০১৬-২০১৯) কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আপিল ট্রাইব্যুনাল। পরে তারা তাদের সিদ্ধান্তে জানায়, আদিয়ানের কিছু শারীরিক দুর্বলতা রয়েছে এবং স্থায়ী প্রকৃতির। এজন্য তার বিশেষ ধরনের সেবা প্রয়োজন, এমনকি স্কুলেও। তাই অস্ট্রেলিয়ায় পরিবারটি অবদান রাখলেও অভিবাসী নীতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।

তবে এরপরও দমে যাননি আদিয়ানের পরিবার। অস্ট্রেলিয়া থাকার শেষ সুযোগ হিসেবে তারা দেশটির অভিবাসন মন্ত্রী ডেভিড কোলম্যানের কাছে আপিল করেছেন। এক্ষেত্রে মন্ত্রী তার ব্যাখ্যা বা সিদ্ধান্ত দিতে বাধ্য নন। বর্তমানে বিশেষ ভিসায় রয়েছেন আদিয়ানের পরিবার। এ বিষয়ে মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত তারা দেশটিতে আরও তিন মাস থাকার সুযোগ পাবেন। তবে মন্ত্রী অনুমতি দিলে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসের সুযোগ পেতে পারে ওই বাংলাদেশি পরিবারটি। এর আগেও বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে মন্ত্রীর সুপারিশে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার সুযোগ পেয়েছিলো এক ভুটানিজ পরিবার।

ওই ভুটানিজ পরিবারটি তাদের বধির ছেলেকে নিয়ে ঠিক এ রকমই সমস্যায় পড়েছিলেন। পরে অভিবাসন মন্ত্রীর কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকার অনুমতি পায় ওই পরিবারটি। এছাড়া ওই মন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ায় ১০ বছর নার্স হিসেবে কর্মরত এক ফিলিপিনো নার্সকেও ভিসা মঞ্জুর করেছিলেন। তিনি আদিয়ানের পরিবারের সঙ্গে কি করেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: