রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

ক্যাসিনো সাঈদ: ফুটপাতের দোকানকার থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকার মালিক



নিউজ ডেস্ক:: রাজধানীতে মাদক ও ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হলে দেশ ছেলে পালান মমিনুল হক সাঈদ। তিনি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। ঢাকায় আরেক আলোচিত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাটকে (ক্যাসিনো সম্রাট) গুরু মানতেন তিনি। সম্রাটের অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসা দেখভালও করেন তিনি। এ কারণে মতিঝিল ও পল্টন এলাকায় ক্লাবগুলোতে যাতায়াতকারীদের কাছে তিনি ক্যাসিনো সাঈদ নামে পরিচিত।

ক্যাসিনো সাঈদের উত্থান সম্পর্কে জানা যায়, তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। পারিবারিক কলহের কারণে রাগ করে ২০০২ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন। এরপর মতিঝিলের দিলকুশা সাধারণ বীমা কর্পোরেশনের সামনের সড়কে দোকানদারি শুরু করেন। চোরাই তেলের ব্যবসাও করতেন। এরপর অবৈধ পথে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলেন। ঢাকায় বহু ভবন তার দখলে। মতিঝিল, ফরিকাপুল, পল্টনে কয়েকটি ক্লাবে অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা করেন তিনি। এসব থেকে মাসে আয় কয়েক কোটি টাকা।

ক্যাসিনো সাঈদ থাকতেন বঙ্গভবনের চার নম্বর গেটের কোয়ার্টারে। সেখানে তার মামা চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর চাকরি করতেন। পরে মোহামেডান ক্লাবে হাউজি খেলার সময় আলমগীর ও তাপসের ফুটফরমায়েশ খাটতেন। ২০০৭ সালের পর যুবলীগের এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তার সখ্য হয়।তার হাত ধরেই সাঈদ ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি হন। পরে যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক হন। এরপর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতির পদ ছেড়ে দেন। ওয়ার্ডে তার পদে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয় হাসান উদ্দিন জামালকে।

ক্যাসিনো সাঈদের সেকেন্ড-ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করতে থাকেন জামাল। জামালের মাধ্যমেই আরামবাগ ক্লাব, দিলকুশা ক্লাব, ভিক্টোরিয়া ক্লাবে ক্যাসিনো-জুয়ার আসর বসাতেন সাঈদ। এ ছাড়া বিআইডব্লিউটিএ ভবনে টেন্ডারের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণে জামালের পাশাপাশি কামরুল হাসান রিপন ছিল সাঈদের অংশীদার।

স্থানীয়রা জানান, মমিনুল হক সাঈকে সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর বানানোর পেছনে রয়েছেন যুবলীগ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ওরফে ক্যাসিনো সম্রাট।সম্রাটকে ম্যানেজ করেই তিনি কাউন্সিলর প্রার্থী হন। অন্য দলের যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের বেশির ভাগকেই অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে বাধ্য করেন। নিজ দলের যারা প্রার্থী ছিলেন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয় টাকার বিনিময়ে।

যাদের টাকার বিনিময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করানো হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন- সাবেক ছাত্রনেতা পলাশ মজুমদার এবং মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী সাব্বির হোসেন।এই দু’জনের মধ্যে পলাশকে দেয়া হয় ৫ লাখ টাকা। তাছাড়া নির্বাচনে তিনি একাধিক ডামি প্রার্থীও দাঁড় করান। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন আবদুর রহমান। তিনি ঘুড়ি প্রতীকে নির্বাচন করেন।

কাউন্সিলর হয়েই মতিঝিলে অপরাধ জগতের কিং হয়ে উঠেন সাঈদ। জবরদখল, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনোর জুয়ার টাকায় প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যান সাঈদ।মতিঝিলে একটি নয়, দুটি ‘রাজাকার ভবন’-এ ক্যাসিনো সাঈদের রাজত্ব। একদল ক্যাডার নিয়ে ভবন দুটি নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনি। মতিঝিলের ৮৯ ও ৮৯/১ আরামবাগে ওই দুটি রাজাকার ভবনের অবস্থান। একটি ভবন ৮ তলা এবং অন্যটি ৪ তলাবিশিষ্ট। ভবন দুটি একসময় হাজীর ভবন হিসেবে পরিচিত ছিল।

মীর কাসেম আলী কেনার পর নাম দেয়া হয় বাংলাদেশ পাবলিকেশন্স লিমিটেড (বিপিএল) ভবন। পরে এটি স্থানীয়দের কাছে রাজাকার ভবন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলী গ্রেফতার হওয়ার পরই ওই দুটি ভবনের দিকে নজর পড়ে যুবলীগ যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল হক সাঈদের।

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর হওয়ার পর লাগোয়া দুই ভবনের একটিতে অফিস খোলেন সাঈদ। ২০১৬ সালে মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ভবন দুটি থেকে মীর কাসেমের স্টাফদের বের করে দিয়ে রাতারাতি দখল করে নেন সাঈদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: