শুক্রবার, ১২ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

কৃষিতে স্বাবলম্বী কামালবাজারের অনেক কৃষক



জীবন পাল:: কামালবাজার মত্রাসপুর গ্রামের মো.আব্দুল খালেক। কৃষির প্রতি টানটা যার ছোট বেলা থেকেই। যার কারনেই হয়তো কৃষির পাশাপাশি নিজ দেশ,এলাকা ও প্রিয়জনের টানে ৫ বছর বিদেশ থাকার পর ফিওে এসেছেন প্রিয়চেনা গ্রামে। চাষাবাদ শুরু করেছেন নিজ জমিতে। প্রথমে ধান দিয়ে শুরু করলেও ধানে খরচের তুলনায় লাভটা কম হওয়ায় মনোযোগী হন সবজি চাষে। শ্রম দিয়েছেন নিজেই। যার ফলে দেখেছেন সফলতার মুখ। সেই সাথে প্রিয়মানুষদের সাথে নিয়ে থাকার আনন্দ তো আছেই। সেই ধারাবাহিকতায় ২০ বছর ধরে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন কৃষির সাথে।

আব্দুল ওয়াহিদ। যার বয়স ৪৮ বছর। কামালবাজারের পুরানগাও এলাকার এই ব্যক্তি তার ১০ বছর বয়স থেকেই নিজেকে কৃষির সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন। বর্তমানে ৩২ বছর ধরেই করে যাচ্ছেন কৃষি কাজ। দীর্ঘ এই সময়ে তিনি ধান, টমোটো, শসা, মুলা, বাধাকপি, ফুলকপি, আলু,বেগুন,ডুগিসহ প্রায় সব ধরনের সবজি চাষ করেছেন। বর্তমানে নিজের অর্ধেক বিঘা এবং অন্যের ২ বিঘায় করেছেন টমোটো চাষ। আর কিছুদিন পর জমি শুকিয়ে গেলে করবেন মুলা,আলু,বেগুন,ডুগি ও রাইশাক। সরেজমিনে দেখা গেছে মত্রাসপুর গ্রামের মো.আব্দুল খালেক এবং পুরানগাও এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের মত কামালবাজার এলাকার পুরানগাও, মুন্সিরগাও, উত্তরগাও, বটগাও,দীঘিরপার,বসন্তরাগাও গ্রামের আরো অনেক কৃষক ভোর হতেই নিজ নিজ জমিতে যে যার মত কওে নিজেদেরকে কাজে ব্যস্ত রেখেছেন।

যার মধ্যে দেখা গেছে কেউ করছেন জমি তৈরির কাজ,কেউ সবজি বিনষ্টকারী পোকা দমনে করছেন ঔষধ স্প্রে আবার কেউবা করছেন লাউয়ের মাচা ঠিক। সেই সাথে কিছু এলাকায় কয়েকজন কৃষককে পাট শাক পরিচর্যাতে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। অনেককে কৃষককে আবার দেখা গেছে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরতেও।

নিজের অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে মত্রাসপুর গ্রামের কৃষক মো.আব্দুল খালেক বলেন-বিদেশ না গিয়ে কেউ যদি নিজের জমি কিংবা বন্ধক নিয়ে ভালভাবে কৃষিতে মনোযোগ দিতে পারে তাহলে দেশে থেকেই যে কেউ বিদেশের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবে।সরেজমিনে মত্রাসপুর গ্রামে গেলে এই কৃষককে নিজ জমিতে কাজ করতে দেখা যায়। কাজের ফাঁকে কথা বলে জানা যায়- বর্তমানে তিনি ২০ শতক জায়গায় টমেটো চাষ করেছেন। যে জমিতে তিনি এই ফসল করতে সার,বীজ,ঔষধ ও শ্রমিকসহ আনুমানিক ১৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন । ২ মাস পর টমেটো বিক্রি উপযোগি হয়ে উঠে। ভাল বাজার ধরতে পারলে এই ২০ শতক থেকে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশাবাদি বিদেশ ফেরত এই কৃষক। আয়ের হিসেবটা ভাল ভাবে বুঝিয়ে দিতে তিনি বলেন- ২০ শতকে ১৬০০ টমোটো চারা লাগিয়েছি। ফল ধরলে দেখা যাবে কোন গাছ থেকে ৩ কেজি আবার কোন গাছ থেকে ৫ কেজি আবার কোন কোন গাছ থেকে ৫ কেজির বেশিও ফল পাওয়া যাবে। গড়ে প্রতি গাছ থেকে ৫ কেজি ফল ধরে হিসেব করলে ১৬০০ গাছ থেকে ৮০০০ কেজি (২০০ মণ) টমোটো পাওয়া যাবে। বাজার দর ভাল পেয়ে গেলে প্রথম দিকে কেজি প্রতি টমোটো বিক্রি হয়ে থাকে ৯০-১০০ টাকায়। সে হিসেবে হিসেব করলে আয় হবে ৮০ হাজার টাকা। এর মধ্যে সেডে ৩ হাজার চারা আছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখ টাকা আয় করার আশা করছি।

সেই সাথে শেষের দিকে দাম নেমে গেলে টমোটো কেজি প্রতি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়ে থাকে। অনেক সময় পাইকারীরা মাঠ থেকে সংগ্রহ না করলে স্থানীয় বাজাওে নিয়ে বিক্রির করার কথা জানান তিনি।তিনি মনে করেন শিক্ষিত বেকার যুবকরা চাকুরীর জন্য অপেক্ষায় বসে না থেকে কৃষির দিকে আগ্রহী হলে অনেক ভাল করতে পারবে। সেই সাথে কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদেরকে বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদানকে কৃষকদের প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

কামালবাজার ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী পারভেজ আহমেদ আনুমানিক ধারনা দিয়ে জানালেন এই ইউনিয়নে প্রায় ১৭-১৮টি গ্রামের মধ্যে প্রায় ২৫০-৩০০ কৃষক রয়েছেন। যারা বিভিন্ন রকম কৃষি পেশার সাথে জড়িত থেকে জীবিকা-নির্বাহ করছেন। কৃষি অফিস থেকে ইউনিয়নের কৃষকদের সার,বীজসহ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করে সহযোগিতা করা হয় বলে জানান তিনি।

দক্ষিণ সুরমা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আখি ভট্টাচার্য জানান-সার,বীজসহ কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা করা হয়ে থাকে। সেই সাথে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন পরাশর্শ প্রদান করা হয়ে থাকে।

কামালবাজার এলাকার কিছু কৃষকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃত কৃষক বীজ না পাওয়ার কথাটি জানতে চাইলে তিনি বলেন-বরাদ্দ অনুযায়ী কৃষকদেও পর্যাপ্ত বীজ,সার প্রদান করা হয়ে থাকে। যে কৃষককে একবার দেওয়া হয়েছে এরকম কৃষককে পুনরায় না দিয়ে অন্য কৃষকদের এই সব সহযোগিতা প্রদান করা হয়। যার ফলে কৃষকরা এরকম অভিযোগ কওে থাকেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: