শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Sex Cams
সর্বশেষ সংবাদ
অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «  

করোনাভাইরাস: উৎকণ্ঠিত সিলেট, উদ্বিগ্ন মানুষ



 সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) যুক্তরাজ্যফেরত এক নারী মারা যান গেল রোববার (২২ মার্চ)। ওই নারী জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে ছিলেন গত শুক্রবার থেকে (২০ মার্চ)। করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে তাকা স্বত্ত্বেও ওই নারী আসলেই আক্রান্ত ছিলেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট। গেল দেড় মাসে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, আরব আমিরাত, চীন, সৌদি আরব, ইতালি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সিলেটে এসেছেন। এর মধ্যে হাজার দুয়েক মানুষ আছেন হোম কোয়ারেন্টিনে। বাকিদের বিষয়ে কোনো তথ্যও নেই প্রশাসনের কাছে। যেসব দেশ থেকে তারা এসেছেন, সেসব দেশ করোনাভাইরাসের সাথে লড়ছে। ফলে সিলেটে আসা এসব প্রবাসীদের মাধ্যমে করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে উৎকণ্ঠা আছে সিলেটে।

এর মধ্যে সিলেটে নেই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করার মতো কোনো ল্যাব বা যন্ত্রপাতি। যে কিট দিয়ে এই ভাইরাসে কেউ আক্রান্ত কিনা, সেই কিটও নেই। এরকম অবস্থায় কেউ করোনায় আক্রান্ত সন্দেহ হলে তাকে রাখা হচ্ছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে। কিন্তু করোনার বিষয়টি নিশ্চিত হতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর। ঢাকা থেকে এই প্রতিষ্ঠানের টিম এসে সন্দেহভাজনদের রক্ত, ঘাম ও মুখের লালার নমুনা নিয়ে যায়। এরপর পরীক্ষা করে ফলাফল জানায়।

কিন্তু আইইডিসিআর থেকে সিলেটে আসা-যাওয়া অনেক সময়ের ব্যাপার। শুরুতে যে নারীর মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, ওই নারী শুক্রবার ভর্তি হওয়ার পর রোববার ভোরে মারা যান। ওই রোববার আইইডিসিআর থেকে একটি টিম এসে তার রক্ত, ঘাম ও মুখের লালার নমুনা নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই তিনি মারা গেছেন।

৬১ বছর বয়স্ক ওই নারীর মৃত্যুকে ঘিরে তাই করোনার উদ্বেগ বেড়েছে সিলেটের মানুষের মধ্যে। ওই নারী যদি সত্যিই করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তবে তিনি বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন, বিভিন্ন মানুষের সাথে মিশেছেন, সেসব মানুষও আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় আছেন। ওই নারীর দুই স্বজনকেও কোয়ারেন্টিনে নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

এছাড়া ওই নারীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা প্রয়োজনীয় নমুনা পরীক্ষার জন্য তার মৃত্যুর পর পাঠানো হয়েছে ঢাকায়। সেখান থেকে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রিপোর্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান।

এদিকে, করোনাভাইরাস ঠেকাতে সিলেট বিভাগে এক হাজার ৯৫৪ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এসব ব্যক্তিদের সিংহভাগই প্রবাসফেরত। কয়েকজন তাদের পরিবারের সদস্য। এদের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে আছেন ৫ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় ৭৭০ জন, সুনামগঞ্জে ২৬৪ জন, মৌলভীবাজারে ৪৪৪ জন এবং হবিগঞ্জ জেলায় ৪৭৬ জন কোয়ারেন্টিনে আছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানিয়েছেন, এ হাসপাতালে কোয়ারেন্টিনে থাকা পাঁচ ব্যক্তির মধ্যে যুক্তরাজ্যফেরত এক নারী ও এক পুরুষ, ওসমানী বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করা এক আনসার সদস্য, স্থানীয় এক ব্যক্তি এবং বিদেশফেরত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা এক কিশোর রয়েছে।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যফেরত নারীর শরীরের প্রয়োজনীয় নমুনা আইইডিসিআর পরীক্ষা করেছে। তার শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি। তাকে দু-একদিন পর্যবেক্ষণে রেখে ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

এদিকে, করোনভাইরাস ঠেকাতে সিলেটের বিভিন্ন বিপণিবিতান বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর আগে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আজ মঙ্গলবার থেকে মাঠে নামছে সেনাবাহিনীও।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেটের বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, সেনাবাহিনীর সদস্যরা মূলত প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন। বিশেষ করে জনসমাগম যাতে না হয়, সেদিকে তাঁরা নজর রাখবেন।

এদিকে, সিলেটের প্রায় অর্ধকোটি মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আছেন। এর মধ্যে করোনাক্রান্ত যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আছেন সিংহভাগ সিলেটি। ভিন দেশে থাকা এসব স্বজনদের নিয়েও সিলেটের মানুষ উৎকণ্ঠিত। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সিলেটি বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন মারাও গেছেন।

সবমিলিয়ে করোনাভাইরাস নিয়ে সিলেটে আছে উৎকণ্ঠা, মানুষের মধ্যে আছে উদ্বেগ। কী হয়, কী হবেএমন অনিশ্চয়তার মধ্যেই মানুষের দিনযাপন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: