শুক্রবার, ১৯ অগাস্ট ২০২২ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ ভাদ্র ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক ইজিএনের নতুন সভাপতি, অনুরূপ সম্পাদক  » «   ফিনল্যান্ডে ভাষা শহীদ দিবস পালন  » «   ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «  

কমলা চাষে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে মৌলভীবাজার



নিউজ ডেস্ক:: সাম্প্রতিক বছরে কমলা উৎপাদনে মৌলভীবাজার জেলা সাফল্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে যাচ্ছে। এ বছর কমলার আকার তুলনামুলক বড়। যারা গাছে সুষম সার প্রদান করেছেন, বালাই ব্যবস্থাপনা অণুসরণ করেছেন এবং যারা বাগান বিক্রি করেননি এবার তারা বেশি লাভবান হয়েছেন। তবে গাছ থেকে পাকার আগে কিছু কমলা ঝরে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন চাষিরা।

চলতি বছরে একটি প্রকল্প যাত্রা করেছে যার নাম, ‘লেবুজাতীয় ফসলের সম্প্রসারণ, ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্প’ যা কমলার উন্নয়নে যথেষ্ট অবদান রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জেলার জুড়ি উপজেলার বিভিন্ন টিলা ও পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাষ হচ্ছে। এবার উপজেলায় এই কমলার ভালো ফলন হয়েছে। ফলে চাষিদের মুখে ফুটেছে ভুবনভরা হাসি। এই উপজেলায় মোট ৯১ হেক্টর টিলাভূমিতে খাসি কমলার চাষ হয়। ছোট-বড় বাগান আছে ৮৫টি। চাষির সংখ্যা প্রায় ৮১২ জন। এর মধ্যে গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের ললছড়া, হায়াছড়া, শুকনাছড়া, কচুরগুল, রূপাছড়া, বেলবাড়ী, জাড়িছড়া ও লাঠিটিলা এলাকায় কমলার চাষ বেশি হয়। এসব বাগানের বেশিরভাগই বন বিভাগের জমিতে পড়েছে।

সরেজমিন জুড়ির লালছড়া, হায়াছড়া ও লাঠিটিলায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাগানে সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে পাকা রসালো কমলা। বাঁশের লগি দিয়ে পাড়া হচ্ছে কমলা। এরপর টুকরিতে ভরে বাড়ির আঙিনায় নিয়ে আকারভেদে বাছাই কাজ চলে। পরে বিক্রির উদ্দেশে বাজারে নিয়ে যাওয়া হয়। মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, এ বছর জেলার জুড়ি, কুলাউড়া, বড়লেখাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৪৪০ একর জমিতে কমলার চাষ হয়েছে।

এর মধ্যে জুড়ি উপজেলায় ২৩০ একর, বড়লেখায় ১৫০ এবং কুলাউড়ায় ১২০ একর আর অন্যান্য উপজেলায় বাকি ১০ একর জমিতে কমলার চাষ হয়েছে। গত বছর চাষ হয়েছিল মোট ২৫০ একর জমিতে। সেই তুলনায় এবার চাষের পরিমাণ বেড়েছে ১৯০ একর। ছোট বড় ১৪৬টি কমলা বাগানে এবার হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছে সাড়ে পাঁচ টন। যা গেল বছর ছিল সাড়ে চার টন। সেই হিসেবে এবার প্রতি হেক্টরে এক টন করে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। একক বাগান এবং যৌথ বাগানে পাঁচ শতাধিক কমলাচাষি রয়েছেন।

লালছড়া গ্রামের কমলাচাষি মুর্শেদ মিয়া জানান তার বাগানে প্রায় ১২শ কমলা গাছ রয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এবার পরিচর্যা বেশি করায় ফলন বেশি হয়েছে কিন্তু ফল পাকা শুরু হতেই এক ধরনের পোকা কমলায় বসে রস খেয়ে নেয় এবং যেখানে বসে ওই জায়গায় পচন ধরে। তাই তারা আধা পাকা কমলা বিক্রি করে দিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে পাইকারের কাছে ১০০ কমলা ২০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।

কমলা চাষি জয়নুল ইসলাম জানান, গাছ ভরে ফল এসেছে কিন্তু প্রায়শঃ গাছ থেকে কমলা ঝরে পড়ছে। গান্ধী পোকা কমলার ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে সেই কমলা ঝরে পড়ে। পোকা কমলার মধ্যে সুঁইয়ের মতো শুঁড় ঢুকিয়ে দেয়। কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা বিভিন্ন ফাঁদ ব্যবহার করছেন কিন্তু কাজে আসছে না।

জুড়ি উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তা রনি সিংহ জানান, জুড়ির গোয়ালবাড়ীতে প্রায় ৬৫টি কমলা বাগান আছে। এখানে নাগপুরী, দার্জিলিং ও খাসি এই তিনজাতের মধ্যে খাসি জাতেরই বেশি চাষ হয়ে থাকে। ফল পাকার সময়েই গান্ধিপোকার আক্রমণ করে। এখানে তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়ে দল গঠনের মাধ্যমে কাজ করছেন। পোকা দমনে ফেরেমেন ফাঁদ কীটনাশক ছিটানো নিয়ম জানিয়ে দিয়েছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর মৌলভীবাজার কার্যালয় জানায়, লেবু জাতীয় ফলে আগা মরা (ডাই বেক) ও গামোসিস (গাছ থেকে আঠার মতো কষ ঝরা) ধরনের রোগ দমনে কপার অক্সিক্লোরাইড ও হেক্সাকোনাজল গ্রুপের ছত্রাকনাশক ১৫ দিন পর পর তিন বার স্প্রে করলে এই জাতীয় রোগ দমন করা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: