শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৭ আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

এবার ভিসি ফারজানার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ



নিউজ ডেস্ক:: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে এবার নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেশ সৌখিন ও জাঁকজমকপূর্ণ জীবনযাপন করে আসছেন। তাই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছামতো চলার অভিযোগ ওঠেছে জাবির এই উপাচার্যের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মানুয়ায়ী, একজন উপাচার্যের জন্য একটি গাড়ি বরাদ্দ থাকলেও ফারজানা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪টি গাড়ি ব্যবহার করেন। এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে শিক্ষকদের সমালোচনার মুখে তিনি ১টি গাড়ি কমিয়ে ৩টি গাড়ি ব্যবহার করা শুরু করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম নিজে চলাচলের জন্য পাজারো ব্রান্ডের (ঢাকা মেট্টো ঘ ১৫-২২০৭) গাড়িটি ব্যবহার করেন। ফিল্ডার (ঢাকা মেট্টো গ ৩৩-৯৪৭৬) এবং ল্যান্সার (ঢাকা মেট্টো গ ২০-২৩৬৯) ব্রান্ডের অপর দু’টি গাড়ি যথাক্রমে উপাচার্যের স্বামী ও ছেলে ব্যবহার করেন। এছাড়া প্রথম দিকে উপাচার্যের পুত্রবধূও একটি গাড়ি ব্যবহার করতেন।

জানা যায়, উপাচার্যের একটি গাড়ির জন্য প্রতি মাসে সাত’শ লিটার তেলের খরচ বহন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিস। এছাড়া উপাচার্যের ছেলে ও স্বামীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত বাকি ২টি গাড়ির তেলের খরচও বিশ্ববিদ্যালয়কে বহন করতে হয়। কয়েক মাস আগে নেত্রকোনায় উপাচার্যের স্বামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি নিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। পরে সেই গাড়ি মেরামত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন অফিসকে প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকা খরচ করতে হয়।

উপাচার্যের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩২ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৭৯৫ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৫ লাখ ৭ হাজার ৪৩৮ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৩ লাখ ১৪ হাজার ৫৪০ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৫ লাখ ৯১ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৬৫ হাজার ৪২ টাকা। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে উপাচার্যের গাড়ির জ্বালানি বাবদ ব্যয় হয় ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৪৩২ টাকা এবং উপাচার্যের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য ব্যয় হয় ৬ লাখ ২১ হাজার ৭৯৫ টাকা। বিগত ৪ বছরে শুধু উপাচার্যের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও জ্বালানি বাবদই ব্যয় হয়েছে ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৭৩ টাকা।

এছাড়াও গত ৪ বছর ধরে উপাচার্যের স্বামী এবং ছেলের ব্যবহৃত ২টি গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও জ্বালানির ব্যয় বিশ্ববিদ্যালয় বহন করে আসছে বলেও জানা যায়। তবে সে ব্যয়ের হিসাব জানা যায়নি। এসব কারণে প্রতি বছর পরিবহন খাতে কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়কে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিন জন ড্রাইভারসহ উপাচার্যের বাসায় মোট কর্মচারী রয়েছে মোট ১৩ জন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই প্রো-উপাচার্যের বাসায় কর্মচারী রয়েছে মাত্র ১ জন করে। আর উপাচার্যের বাসভবনে শুধু শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রই (এসি) সংযুক্ত করা হয়েছে ১২টি।

এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে জানতে উপাচার্যের পিএস সানোয়ার হোসেনের মাধ্যমে মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: