রবিবার, ১১ এপ্রিল ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ চৈত্র ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

এবার নুসরাতের গোটা পরিবারকে পুড়িয়ে মারার হুমকি



নিউজ ডেস্ক:: ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে মারার মামলার অভিযোগ গঠনের দিন আসামিরা এজলাস ও আদালত চত্বরে তার বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের দিকে তেড়ে গিয়েছিলেন। এমনকি মুক্তি পাওয়ার পর তারা দেখে নেবেন বলে হুমকিও দিয়েছিলেন। নোমান এই মামলার বাদী।

গত বৃহস্পতিবার ফাঁসির রায় শোনার পর আদালতের ভেতরেই আসামিরা নুসরাতের মতো তার পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারণে পরিবারটি বিচলিত। তবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক আশ্বস্ত করে বলেছেন, ‘যত দিন দরকার নিরাপত্তা পাবে নুসরাতের পরিবার।’

গত বৃহস্পতিবার নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ। মামলার ১৬ আসামির সবাইকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন তিনি।

রায় ঘোষণার পর নুসরাতের পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান বলেন, ‘রায় ঘোষণার কিছুক্ষণ পর এজলাসে দাঁড়িয়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম ও হাফেজ আব্দুল কাদের আমাকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেয়। তারা বলে, আমাদের পরিণতিও নুসরাতের মতো হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ভেবে বিচলিত যে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে এ আসামিরা যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, সেটা নজিরবিহীন।’

গতকাল শুক্রবার নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে ও লোক মারফত আসামিদের স্বজনরা আমার পরিবারের সদস্যদের হুকমি-ধমকি দিয়ে আসছে।’

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘মামলার অভিযোগ গঠনের দিন আসামিরা একবার তাকে হুমকি দিয়েছেন। এমনকি বৃহস্পতিবার রায় হওয়ার পরও আদালতের ভেতরেই ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা সবার সামনে তাকে হুমকি দেন এবং গালাগাল করেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আগেও হুমকি পেয়েছি, এবার আদালতে বসে তারা হুমকি দিল। আমরা আতঙ্কে আছি। কারণ তারা প্রভাবশালী এবং তাদের অনেক অনুসারী ও আত্মীয়-স্বজন আছে।’

আদালতের ভেতরে হত্যার হুমকি পাওয়ার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে জানিয়ে নোমান বলেন, ‘আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ আসামিদের ফাঁসির রায় হলেও তাদের লোকজন তো বাইরে আছে।’

তবে নোমান বলেন, ‘গত ১০ এপ্রিল থেকে আমাদের বাড়িতে সার্বক্ষণিক পুলিশের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে জেলা পুলিশ প্রশাসন। রায় ঘোষণার দিনে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও বাড়ানো হয়েছে। আমি ফেনীর পুলিশ সুপার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাই যে তিনি সব সময় আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন।’

আসামিদের আইনজীবী আহসান কবির বেঙ্গল বলেন, ‘ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হয়তো প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, আমি তাদের হুমকি দিতে দেখিনি।’

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মঈন উদ্দিন আহামেদ বলেন, ‘আমরা নুসরাতের বাড়ির সকল সদস্যের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েন রেখেছি। এবং মামলার রায় ঘোষণার আগের দিন থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছি। তার পরও আমরা নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়মিত কথা বলছি ও তাদের আশ্বস্ত করছি নিরাপত্তার বিষয়ে।’

ফেনীর পুলিশ সুপার খোন্দকার নুরনবী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন নুসরাতের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর রাখছি। ইনশাআল্লাহ আমি আবারও আপনাদের মাধ্যমে নুসরাতের পরিবারের সকল সদস্যের আশ্বস্ত করছি, বিন্দুমাত্র তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে না। ইতিমধ্যে আমরা নিরাপত্তাব্যবস্থা দ্বিগুণ জোরদার করেছি। প্রয়োজনে আমরা সাদা পোশাকে নিরাপত্তা জোরদার করব।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে। পরে ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে গেলে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন সিরাজের অনুসারীরা। হত্যাকারী ও তাদের সহযোগীরা ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালিয়ে ব্যর্থ হন। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় করা মামলা তদন্ত শেষে গত ২৯ মে ১৬ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত ২০ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। গতকাল মামলার রায় ঘোষণা করা হয়, যাতে নুসরাতকে হত্যার হুকুমদাতা অধ্যক্ষ (বরখাস্তকৃত) সিরাজ ও হত্যাকাণ্ডে নানা ভূমিকায় থাকা ১৬ আসামির সবার ফাঁসির আদেশ হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: