রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

ইমাম ভোট দিলেন ধর্মনিরপেক্ষ দেশের পক্ষে



নিউজ ডেস্ক:: এক বছর এক মাস আগে সবুজ দেওয়ালে ঘেরা ঘরটায় বসেই খবরটা পেয়েছিলেন তিনি। তখনও বোঝেননি তার ১৬ বছরের ছেলে সিবঘাতুল্লা আর ফিরবে না। এতদিন বাদে সেই সবুজ দেওয়ালের ঘর থেকেই ভোট দিতে যাওয়ার পথে নুরানি মসজিদের ইমাম ইম্মাদুল্লাহ বললেন, আমি ভালোবাসা মনে রেখেছি, হিংসা নয়। আমার বিশ্বাস এই ভোটে সেই ভালোবাসারই জয় হবে।

ইমামকে অনুসরণ করে আসানসোলের জাহাঙ্গির মহল্লার গলি ধরে হাঁটতে হাঁটতে বোঝা যায় না যে, কোনো একদিন অশান্তিতে পুড়েছে এই পাড়া। সিবঘাতুল্লার দেহ নিয়ে ক্রোধে ফেটে পড়া জনতাকে শান্ত করতে এই ইমামই বলেছিলেন, আমার সন্তানের যতটুকু জীবন প্রাপ্য ছিল সে ততটুকুই পেয়েছে। আপনারা অশান্তি না থামালে আমায় এ শহর ছেড়ে চলে যেতে হবে।

শহর ছেড়ে যেতে হয়নি ইমামকে। বরং গোটা দেশের কাছে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সম্প্রীতির মুখ। ভোটকেন্দ্রের লাইনে দাঁড়িয়ে সেই ইমাম সোমবার বলেন, এত মানুষ কেন ভোট দিতে এসেছেন জানেন? কারণ তারা হিন্দু হোন বা মুসলিম হোন, দেশটাকে ভালোবাসেন। আর এই দেশ বাঁচবে তার দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির ওপর। ভারত হিন্দু বা মুসলিম রাষ্ট্র হয়ে গেলে এর মৃত্যু অবধারিত।

গতকাল চতুর্থ দফা নির্বাচন হচ্ছিল আসানসোলে। প্রায় সব রাজনৈতিক দলই প্রচার চালিয়েছে জাহাঙ্গির মহল্লায়। তবু সব পাওয়া না পাওয়ার মধ্যেও কোথাও বুদ্বুদের মতো উঠে আসে সিবঘাতুল্লা প্রসঙ্গ। ইমাম জানান, সেদিন একটা মিছিল বের হয়েছিল। তারা ধর্মের নামে শ্লোগান দিচ্ছিলেন। এক-দু’কথায় খবর রটে যায় মিছিলের লোক স্থানীয় দুই নারীকে মারধর করেছেন।

পাল্টা জাহাঙ্গির মহল্লার কয়েকজন মিছিলের দুই যুবককে আটকে রাখে। ইমাম বলেন, এর মধ্যেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না সিবঘাতুল্লার। আমি আটকে রাখা যুবকদের দ্রুত ছেড়ে দিতে বলি। আমার কথা শুনে ওরা ছেড়েও দিয়েছিল। কিন্তু সিবঘাতুল্লা আর ফেরেনি। তবু পুত্রহারা এক পিতা পুরনো সেসব কথা মনে রাখতে চান না। তবে স্ত্রী খাদিজাতুলকুব্রাকে এখনো বুঝিয়ে উঠতে পারেননি ইমাম ইম্মাদুল্লাহ। সাত সন্তানের মধ্যে চতুর্থ সিবঘাতুল্লার কথা ভেবে এখনো চোখের জল পড়ে খাদিজাতুলকুব্রার।

স্ত্রীয়ের প্রসঙ্গ থেকেই ইমাম মুহূর্তে ফিরে যান সেই রাজনীতিতে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধাসেনা কর্মীর সঙ্গে কথাবার্তার মধ্যেই ইমাম বলেন, বন্যার সময়ে যেমন জলের ওপর আবর্জনা ভাসতে থাকে, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হচ্ছে সেই আবর্জনা। ভারতে না তালেবান চলবে, না আরএসএস চলবে। ভারত চলবে ধর্মনিরপেক্ষতায়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধেও ওইদিন প্রশ্ন তোলেন ইমাম। বলেন, হানাহানি করে ভোটে জেতার দরকার নেই। তিনি বলেছিলেন ১৫ লাখ টাকা করে দেবেন। তার থেকে যদি প্রতি ভারতীয়কে ১৫ হাজার টাকা করেও তিনি দিতেন তাহলে তার দলকে এভাবে মারামারি করতে হতো না। এমনিই জিততেন।

তার আরো প্রশ্ন, আসানসোলে এত বড় ঘটল, প্রধানমন্ত্রী কিছুই বললেন না! শান্তি বজায় রাখার পক্ষে আমাদের চেষ্টা নিয়ে তার মুখে কিছুই শোনা যায় না। অথচ, কিছু প্রশ্ন করলে রাষ্ট্রবিরোধী বলে দেন। রাষ্ট্রপ্রেম মানে প্রশ্ন করা বন্ধ করে দেওয়া নয়।

শেষ এপ্রিলের ভোট উত্তাপ তখন খনিজ শহরের উত্তাপকে টেক্কা দিচ্ছে। বুথ-মুখী লাইন এগিয়ে চলে, ইমাম ফের বলেন, ‘দেখবেন, এ ভোটে ভালোবাসার রংই জিতবে’।

সূত্র: আনন্দবাজার

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: