মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১ খ্রীষ্টাব্দ | ২৮ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের মোবাইলে পর্নো ভিডিও!  » «   বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভেরনো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন  » «   স্টকহোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস-২০২১’ পালিত  » «   নিকাব ছেড়ে পশ্চিমা পোশাকে ব্রিটেন ফেরার লড়াইয়ে শামীমা(ভিডিও)  » «   হারুন আর রশিদের জীবন বাঁচাতে এগিয়ে আসুন  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক তৃতীয়বারের মত ইজিএন সচিব নির্বাচিত  » «   মাহমুদ-উস সামাদ চৌধুরী`র মৃত্যুতে বঙ্গবন্ধু পরিষদ ফিনল্যান্ডের শোক  » «   সংবাদ ২১ ডটকম সম্পাদক আন্তর্জাতিক `এইজে´র কমিটি সদস্য নির্বাচিত  » «   ফিনল্যান্ডে মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন  » «   দেশে চীনের ভ্যাকসিন ট্রায়ালের অনুমতি দিয়েছে সরকার  » «   অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «  

অসহায় বাবার সামনে বোনকে বাঁচানোর করুণ দৃশ্য ভাইরাল



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: বছর পাঁচেকের একটা মেয়ে। তার এমন কী হাতের জোর! তা যেমনই হোক, রিহাম কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও নিজের মুঠি আলগা করেনি। একটু একটু করে ধসে পড়ছে বাড়িটা। খানিক পরেই ধুলোয় মিশবে। ছোট বোনকে বাঁচানোর জন্য রিহাম তবুও বেপরোয়া। একটু উপরের দিকে কংক্রিটের ভাঙা স্ল্যাবের উপর দাঁড়িয়ে আর্তনাদ করছেন অসহায় বাবা। নিজেরই অর্ধেকটা ধ্বংসস্তূপের তলায়, দিদি তবু প্রাণপণ খামছে ধরে রেখেছে ছোট বোনটার টিশার্ট। যদি তলিয়ে যায়!

সিরিয়ার ইদলিবে বিমান হামলার ঠিক পরে বুধবারের এই ভিডিও-ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুক্রবার জানা গেল, রিহামের বোন, সাত মাসের ওই খুদে এখনও আইসিইউ-এ ভর্তি। রিহামও ছিল সেখানে। আজ নেই। কোত্থাও নেই! বিমান হামলায় বড় মেয়ের সঙ্গে স্ত্রীকেও হারিয়েছেন আরিহা শহরের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা আমজাদ আল-আবদুল্লা। সারা শরীরে ক্ষতচিহ্ন নিয়ে তিনিও এখন আঁকড়ে ধরতে চাইছেন ছোট মেয়েটাকে। যদি বেঁচে ফেরে!

সিরিয়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হোয়াইট হেলমেটস’-এর সদস্যেরাই সে দিন ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করেছিলেন রিহামদের। এখনও পোক্ত প্রমাণ না-মিললেও, তাঁদের দাবি— এই হামলা সিরিয়ার সরকার-পন্থী রুশ বাহিনীর। ওই এলাকায় কর্মরত ব্রিটেনের এক মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, শুধু ওই দিনেই ইদলিবের তিনটি এলাকায় রুশ বিমান হানায় ৫ শিশু-সহ প্রাণ গিয়েছে ২০ জনের। যার মধ্যে খান-শেইকুনে একই পরিবারে নিহতের সংখ্যা ১০। সব শেষ!

স্থানীয়রা বলছেন, এপ্রিলের শেষ থেকে এমনটাই ঘটে চলেছে উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ায়। সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত দু’সপ্তাহে নিহতের সংখ্যা শতাধিক। ইদলিবের মতো হামা এবং পশ্চিম আলেপ্পোতেও চলছে ধ্বংসলীলা। বলা হচ্ছে, এগুলিই বিদ্রোহীদের শেষ শক্ত ঘাঁটি। তাই ‘বন্ধু’ রাশিয়াকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার হামলা চালাচ্ছে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার।

এই পরিস্থিতিতে কেউ পালিয়ে বাঁচতে চাইছেন। তো কেউ মার্কিন হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে ভিডিও পোস্ট করছেন ফেসবুকে। এলাকা দখলের লড়াইয়ে যে ভাবে রোজ লাফিয়ে লাফিয়ে শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে তাতে রাষ্ট্রপুঞ্জের পাশাপাশি বহু সংগঠন সুর চড়াচ্ছে। কিন্তু সিরিয়া এখনও সিরিয়াতেই!

সেভ দ্য চিলড্রেন সংগঠনের দাবি, ২০১৮-য় সিরিয়ায় ৩১টি শিশুমৃত্যুর খবর মিলেছিল। তাদের হিসেব, এপ্রিলের শেষ থেকে এখনও পর্যন্ত ৯০ শিশু-সহ সিরিয়ায় নিহতের সংখ্যা চারশো ছুঁইছুঁই। এ দিনই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট মেনে নিয়েছে, ইরাক এবং সিরিয়া মিলিয়ে হামলায় ১৩২১ জন সাধারণ নাগরিককে অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর শিকার হতে হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: