শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অক্টোবর-নভেম্বরেই অক্সফোর্ডের ভ্যাকিসন  » «   রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজান গ্রেফতার  » «   নকল মাস্ককাণ্ডে ৩ দিনের রিমান্ডে অপরাজিতার শারমিন  » «   পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «  

অবশেষে মুখ খুললেন নয়নের মা, দিলেন চাঞ্চল্যকর তথ্য



নিউজ ডেস্ক:: স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রিফাত হত্যার সেই ৪৭ সেকেন্ডের ভিডিও চিত্রটি এখনো ঘুরপাক খাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে। অনুসন্ধান সুত্রে বেরিয়ে এসেছে রিফাত হত্যার পরবর্তী অদ্ভুত সব তথ্য। সেই অনুসন্ধান সুত্রে জানা গেছে কিভাবে গড়ে উঠেছে সেই ০০৭ গ্রুপ।

হত্যাকাণ্ড শেষে কোথা থেকে কোথায় গিয়েছিলো রিফাতের হত্যাকারীরা। সারাদেশে এমনিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুধু একটাই আলোচনা, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে হত্যা এবং সেই দৃশ্য তাকিয়ে দেখেছে অনেক মানুষ। কিন্তু কেউ বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেন?

রিফাতের এই মৃত্যুতে বরগুনা জেলাবাসীর চলছে শোকের মাতম। ফেসবুক মেসেঞ্জারে ০০৭ গ্রুপের সদস্যদের চ্যাটিং এর কিছু স্ক্রিনশট থেকে জানা গেছে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে ০০৭ গ্রুপের সবাই ঘটনার দিন সকাল ৯টা থেকেই বরগুনা কলেজের রোডে অবস্থান নেয়। খুনীরা পৃথক পৃথক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রিফাত শরীফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে। ১০টা ২০ মিনিট থেকে শুরু হয় তাদের মূল মিশন। কলেজ গেইট পার হ‌ওয়ার পর ০০৭ গ্রুপের সদস্যরা ঘিরে ধরে রিফাতকে।

একের পর এক কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে নয়ন বন্ড। এবং সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরায়েজীর কাছে নিয়ে যায়। শুরুটা করে রিফাত‌ই। নয়নের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে কোপাতে থাকে রিফাত শরীফকে। তাদের সাথে ধস্তাধস্তি করে রিফাত শরীফকে বাঁচাতে চেষ্টা করে তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি। হত্যাকাণ্ডের শেষে কলেজের রোড বেয়ে পশ্চিমে চলে যায় খুনীরা। উপজেলা পরিষদের পুকুর পাড়ের সড়কে অবস্থান নেয় নয়ন বন্ড ও রিফাত। ০০৭ গ্রুপের অন্য সদস্যরা নিজের মত করে সরে যায়।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক নয়ন বন্ডের মা সাহিদা বেগম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের দিন বেলা ১১টায় নয়ন তার মাকে ফোন করে। ফোন তুলেই নয়নের মা নয়নকে প্রশ্ন করে ‘এই নয়ন তুমি নাকি কারে কোপাইছো? আহারে কার মায়ের কোল খালি করছো’।

উত্তরে নয়ন বলে, ‘কোপাইছি ঠিক করছি, তুমি আমার জামা কাপড় আর টাকা পয়সা ব্যবস্থা করো’ এ কথা বলেই নয়ন বন্ড বাসার কাছে একটি দোকানের পিছনে আসে। সেখান থেকে একটি ছেলেকে তার বাসায় পাঠিয়ে দেয়। নয়ন বন্ডের মা ওই ছেলের কাছে একটি শার্ট এবং প্যান্ট পাঠিয়ে দেয়। পরে আবারও তাকে টাকা পাঠাতে বলে। এবার নয়ন বন্ডের মা নিজে এসে তার ছেলে নয়ন বন্ডের হাতে ২০,০০০ টাকা দিয়ে আসেন।’

এরপরে নয়ন বন্ড ও রিফাত টাকা নিয়ে কেজি স্কুল রোডে এক বন্ধুর বাড়িতে যায়। সেই জায়গায় তারা তিনজন বন্ধুর সাথে কথা বলে। ওই সময় নয়ন তার মোবাইল ভেঙে ফেলতে চাইলে একজন ফোনটি রেখে টাকা দিয়ে দেয়। এরপর নয়ন ও রিফাত তাদের আরেক ক্রোক হাওলাদার বাড়ির রিফাতের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ করে। সেখান থেকে তারা পৃথক হয়ে যায়। নয়ন পুরাকাটা ফেরি পার হয়ে আমতলী গলাচিপা হয়ে পৌঁছে যায় দশমিনায়। সেখানে বুধবার রাত কাটায় সে। এরপর নৌ ও সড়ক পথে ভেঙে ভেঙে চলে যায় উত্তরবঙ্গের জেলা শহর দিনাজপুর।

বৃহস্পতিবার রাত এবং শুক্রবার দিনের প্রথমভাগ পর্যন্ত চেষ্টা চালায় হিলি বর্ডারের চোরাপথ ধরে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার। কিন্তু এরই মধ্যে সীমান্তে রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ায় পালাতে ব্যর্থ হয় সে। আত্মীয় পরিজনের সঙ্গে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল নয়ন বন্ডের। নিরাপত্তার স্বার্থে এরপর সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় সে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: