মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পানিতে দাঁড়িয়েই কয়রাবাসীর ঈদের নামাজ  » «   ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্তের রেকর্ড, মৃত্যু ৫০০ ছাড়ালো  » «   ফিনল্যান্ডে ভিন্ন আবহে ঈদ উদযাপন  » «   উপকূলে আমফানের আঘাত  » «   করোনা চিকিৎসায় ইতিবাচক ফলাফল দেখতে পেয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  » «   করোনার টিকা আবিষ্কারের দাবি ইতালির বিজ্ঞানীদের  » «   জেলে করোনা আতঙ্কে প্রিন্সেস বাসমাহ  » «   ঘুষের প্রশ্ন কিভাবে আসে, বললেন ওষুধ প্রশাসনের ডিজি  » «   কিশোরগঞ্জে এবার করোনায় সুস্থ হলেন চিকিৎসক  » «   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অজ্ঞতাবশত ভুল বলিয়াছে: ডা. জাফরুল্লাহ  » «   বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে  » «   ফ্রান্সে টানা চতুর্থদিন মৃত্যুর রেকর্ড, ৪ হাজার ছাড়াল প্রাণহানি  » «   সিঙ্গাপুরে আরও ১০ বাংলাদেশি করোনায় আক্রান্ত  » «   মিশিগানের হাসপাতালে আর রোগী রাখার জায়গা নেই  » «   ৩ হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে স্কুলছাত্রের মৃত্যু  » «  

অফিসে বসে বসে শুধু কি চা খাইলে হবে? দেশপ্রেম থাকতে হবে: হাইকোর্ট



নিউজ ডেস্ক:: দেশের সড়কে ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন ড্রাইভারদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে না পারায় বিআরটিএর প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। এ তথ্য দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই রাব্বানীকে আজ তলব করেছিলেন হাইকোর্ট।

আজ সোমবার বিআরটিএর এই পরিচালক আদালতে হাজির হন। শুনানিতে বিআরটিএর পরিচালক আদালতকে জানান, মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সারা দেশে লাইসেন্স নবায়ন করেনি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯টি গাড়ি। ঢাকায় এ সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮টি। কিন্তু তিনি ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও লাইসেন্সহীন ড্রাইভারদের বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি।

দেশের সড়কের বেহাল দশা সম্পর্কে আদালত বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি কি দেশের সড়কে বেহাল দশার জন্য। সিঙ্গাপুরের দিকে তাকান। আমাদের কাছাকাছি সময়ে স্বাধীনতা অর্জন করার পরও তারা কত উন্নতি করেছে। সিঙ্গাপুরে কি বাংলাদেশের মতো দুর্ঘটনা ঘটে? বাংলাদেশে কেন এত দুর্ঘটনা ঘটছে? আমেরিকায় কি এমন দুর্ঘটনা ঘটছে? ইংল্যান্ডে কি ঘটছে?

আদালত ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, বিআরটিএ ছাড়াও দেশে পুলিশ আছে, পুলিশের নাকের ডগার ওপর দিয়ে এসব অনিয়ম হচ্ছে।

বিআরটিএর পরিচালকের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, অফিসে বসে বসে শুধু কি চা খাইলে হবে? দেশপ্রেম থাকতে হবে। বিআরটিএ কি করে? আমরা কেন ডাকবো, তাদের (বিআরটিএ) ডাকতে হবে কেন? তারা (বিদেশিরা) পারছে, আমরা পারছি না কেন? আমরা সোনার বাংলা গড়তে চাই। কিন্তু কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করছি না,- যোগ করেন আদালত।

এরপর ২৩ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই দিন ঠিক করেন।

একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ সুয়োমুটো (স্বপ্রণোদিত) হয়ে গত ২৭ মার্চ বিআরটিএর পরিচারককে তলব করেছিলেন। এ ছাড়া ওইদিন আদালত রুল জারি করেন। রুলে ফিটনেস ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর বিষয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

পাশাপাশি সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের আলোকে বেঁচে থাকার অধিকার বাস্তবায়নে কেন মোটর ভেহিকল অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর বিধানগুলো সঠিকভাবে পালনের জন্য নির্দেশনা দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন আদালত।

চার সপ্তাহের মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের আইজি, চেয়ারম্যান (বিআরটিএ), ঢাকার ডিসি ট্রাফিক (উত্তর ও দক্ষিণ), বিআরটিএ পরিচালককে (রোড নিরাপত্তা) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছিল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: