মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বুধবার সিলেটে সংস্কারকৃত শিশু আদালতের উদ্বোধন  » «   আজ হবিগঞ্জের লাখাই কৃষ্ণপুর গণহত্যা দিবস  » «   বুধবার মৌলভীবাজারে অর্ধদিবস হরতালের ডাক, প্রতিহতের ঘোষণা আ. লীগের  » «   গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মেয়র উপ-নির্বাচন: প্রতীক বরাদ্দ আজ  » «   কারগারে মালির কাজ করছেন রাগীব আলী, ডিভিশনের আবেদন  » «   ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ১০ অক্টোবর  » «   কোটা ইস্যুতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের পাল্টাপাল্টি মিছিল  » «   আশুরা উপলক্ষে সুনির্দিষ্ট হুমকি নেই: ডিএমপি কমিশনার  » «   একনেকে অনুমোদন পেলো ইভিএম কেনা প্রকল্প  » «   জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট  » «   ৫৬৮ কেজির লাড্ডু দিয়ে পালিত হল মোদির জন্মদিন  » «   দেশের সব নাগরিককে অধিকার রক্ষায় সক্রিয় হতে হবে-ড. কামাল  » «   ঐতিহাসিক পিয়ংইয়ং সফরে সস্ত্রীক প্রেসিডেন্ট মুন  » «   ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৭.৮৬%  » «   মাদরাসা শিক্ষকের স্ত্রী ও ছাত্রকে গলাকেটে হত্যা  » «  

‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য কলঙ্ক’



নিউজ ডেস্ক::দশম জাতীয় সংসদের অনুষ্ঠিত হওয়া (২০১৪ সালে) ৫ জানুয়ারির নির্বাচন জাতির জন্য কলঙ্ক এবং সরকারের জন্য খুবই লজ্জার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা) ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন।

গত ৫ জানুয়ারি (২০১৮) বেসরকারি একটি টেলিভিশনের টকশোতে আয়োজিত এক টকশোতে তিনি এই কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।

ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন বলেন, ১৫৪ টি সিট সরকার নিয়ে গেলো তারা বলছে এটা আনকন্টেস্টেড। এর মাধ্যমে আমরা জাতিকে ছোট করেছি। তখন প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, আমরা আরেকটা ভোট করবো, কিন্তু পরে তিনি তার কথা রাখেননি।

তিনি বলেন, যে দেশের নির্বাচন জনগনের ভোটে না হয়, সেই দেশ থেকে ২টা জিনিস কখনো আশা করা যায়না। ১/ সরকার জনগনের জন্য ভালো কিছু করবেনা ২/ দেশের কোন উন্নতি হবেনা।

তিনি আরো বলেন, উন্নতি না হওয়ার ফলও আমরা দেখছি, আজ দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। দেশের কোন উন্নতি হচ্ছে না। সাধারণ মানুষ অসহায় ভাবে দুর্নীতির স্বীকার হচ্ছে। ভোট হচ্ছে জনগনের শক্তি, জনগণ বিশ্বাস করে একটি সরকার দেশের উন্নতি না করতে পারলে ভোটের মাধ্যমে সরকারকে তার জবাব দিবে। কিন্তু আমাদের দেশের জনগণ সেই শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।

মইনুল হোসেন বলেন, আমাদের দেশে কোন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই, অভিজ্ঞ লোক নেই বললেই চলে। তারা কোন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে আসেন নাই, এসেই প্রধানমন্ত্রী হয়ে যান। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মনে করেন তিনি খুবই জনপ্রিয়, যদি তিনি জনপ্রিয় হয় তাহলে ফেয়ার ইলেকশন কেন দিচ্ছেনা? তিনি জনপ্রিয় হলে ফেয়ার ইলেকশনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসুক।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন ফেয়ার না হওয়ার ফলে, সরকার থেকে জনগণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, অবিচার বেড়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার বেড়েছে। এই সবকিছুর গোঁড়া হচ্ছে জনবিচ্ছিন্ন সরকার।

বর্তমানে পুলিশ সরাসরি চাঁদা চায় বলে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আমার একটা ক্লাইন্ডকে পুলিশ ফোন দিয়ে বলে, ‘তুমি যদি মামলা উঠিয়ে না নাও তাহলে আমরা ক্রসফায়ার দিয়ে দিতে পার’ পরে আমি হোম মিনিস্টারের কাছে ফোন দিয়ে বলি বিষয়টা। হোম মিনিস্টার আমাকে বলেন, আপনার কিছু করা লাগবেনা, আমি দেখছি বিষয়টা।

তত্তাবদায়ক সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, এগুলো প্রধানমন্ত্রীর কারণে হচ্ছেনা, এগুলো সিস্টেমের কারণে হচ্ছে। কারণ গণতন্ত্র দেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছে। গণতন্ত্র মারার ফলে স্বৈরাচারী চালু হচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

তার সাথে টকশোতে উপস্থিত ড. বদিউল আলম মজুমদারও একমত পোষণ করে বলেন, ৫ জানুয়ারিকে কোন নির্বাচন বলা যায় বলে আমি মনে করিনা। কারণ নির্বাচন হচ্ছে একটি চয়েজ, আপনি চা খাবেন না কফি খাবেন তা বেঁছে নিবেন। যেখানে কোন প্রতিদ্বন্দীতা থাকেনা তাকে নির্বাচন বলা চলেনা।

তিনি বলেন, এই নির্বাচনকে অনেকে অনেকভাবে আখ্যায়িত করেছেন। যেমন- ইউরোপীয় ইউনিয়ন বলেছে এই নির্বাচন একটা ফল্ড, ত্রু টিপূর্ণ নির্বাচন। তাছাড়া অনেকে অনেকভাবে বলেছেন, ৫ জানুয়ারি কোন নির্বাচন হয়নি। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু গবেষক বলেছেন, সারা পৃথিবীতে যত নির্বাচন হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে ভুয়া নির্বাচন হয়েছে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: