শনিবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সালমানের প্রথম ভালো লাগা কে?  » «   দুই যুবকের সঙ্গে ২০ বছর বয়সী তরুণী, এরপর…  » «   হাওয়া ভবন থেকে মানুষকে স্বস্তি দিতে ১৪ দলীয় জোট : খালিদ মাহমুদ  » «   ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে যা বললেন ওবায়দুল কাদের  » «   ভালবেসে বিয়ে, কিভাবে এতটা নির্মম হয় রনিরা?  » «   প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১০ মিনিট সময় চান ড. কামাল  » «   ভেরিফায়েড হলো মোস্তাফা জব্বারের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট  » «   গুজব ছড়ানোর অভিযোগ : রিমান্ডে সেই গৃহবধূ ফারিয়া  » «   সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা  » «   সব ব্যাংকে সতর্কতা জারি!  » «   গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গৃহবধূ আটক  » «   ‘গর্বিত বাঙালির বিজয়ের দুই প্রতিচ্ছবি’  » «   ২৬ বছর পরে শাহরুখ!  » «   পাকিস্তানে নিষিদ্ধ হতে পারে টুইটার  » «   সানি লিওন এবার ক্রিকেটার!  » «  

৫৭ বছরের বৃদ্ধের সাথে ১২ বছরের কিশোরীর বিয়ের আয়োজন পন্ড



মৌলভীবাজার প্রতিনিধি ::মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৫৭ বছরের এক বৃদ্ধের সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছিল ১২ বছরের এক কিশোরীর। আজ (শুক্রবার) এ বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার বিকেলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের মাজদিহি গ্রামে গিয়ে ওই কিশোরীকে উদ্ধার বিয়ে পন্ড করে দেয়।

উদ্ধারকৃত কিশোরী স্থানীয় আনন্দ স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা ফখরুল ইসলাম ঢাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নামে ৫৭ বছর বয়সি এক ব্যক্তির সাথে মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ের আগের দিন বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রশাসন এ খবর পেয়ে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে আনে।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহেবা আক্তার, কালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজুল রহমান চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশসহ উদ্ধারকারী দল অভিযান চালিয়ে কিশোরীকে উদ্ধার করে।
এদিকে পুলিশ আসার খবর পেয়ে তাহমিনার বাবা-মা ও আত্মীয়স্বজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। ওই কিশোরীর কাছ থেকে জানা যায়, বর পক্ষের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা নিয়ে তার বাবা এই বিয়েতে রাজি হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন বরপক্ষ বিয়ের আগেই প্রদান করেছে।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, বিগত ১৯ অক্টোবর শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশশেরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে পূর্বে আরেক দফা ওই কিশোরীর বিয়ে বন্ধ করেন। পরবর্তীকালে আবারো পিতা গোপনে একই ব্যক্তির সাথে পুনরায় ২৭ অক্টোবর বিয়ের দিন ধার্য করেন।
কিশোরী জানায়, ‘বাবা-মা বলেছেন, নজরুল ইসলামের (বর) সাথে আমাকে যদি বিয়ে না দেওয়া হয় তাহলে নজরুল ইসলাম বিষপানে আত্মহত্যা করবে। আমি এই বিয়েতে রাজি ছিলাম না। তারা আমাকে ভয় দেখিয়ে বিয়েতে রাজি করে।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহেবা আক্তার বলেন, এর আগেও একবার আমরা মেয়েটিকে বাল্যবিয়ে থেকে মুক্ত করেছি। কিন্তু অর্থলোভী দরিদ্র পিতা পুনরায় মেয়ের বাল্যবিবাহের আয়োজন করে।
এদিকে এলাকাবাসী সন্দেহ করছেন, নজরুল ইসলাম শিশু পাচারকারী বা এ সম্পর্কিত কোনো অপরাধের সাথে যুক্ত কিনা প্রসাশন যেন সেদিকে নজর দেয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আদালতের মাধ্যমে ওই কিশোরীকে সিলেটে সেফ হোমে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: