বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সু চির পুরস্কার ফিরিয়ে নিচ্ছে দক্ষিণ কোরীয় ফাউন্ডেশন  » «   তরুণ ও যুবকদের জন্য যে চমক আ. লীগ-বিএনপির ইশতেহারে  » «   নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের আগুনে একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ  » «   আমার কিছু হলে দায়ী আপনারা মামা-ভাগ্নে: সিইসিকে গোলাম মাওলা রনি  » «   ভুলভ্রান্তি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন: শেখ হাসিনা  » «   মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য: সিইসি  » «   ভোটের ফলাফল প্রকাশে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মইনুলের জামিন  » «   বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে অবজ্ঞা শেহবাগের!  » «   সারাদেশে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন  » «   প্রার্থিতা নিয়ে রিট খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না খালেদা জিয়া  » «   জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে রুল  » «   সিলেটে প্রাধান্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার  » «   বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করছেন ফখরুল  » «   আপিলেও ভোটের পথ খুলল না ইলিয়াসপত্নী লুনার  » «  

৪ বছরের বায়োজিদ যেন ৭০ বছরের বৃদ্ধ



magura-kieds20160524194624নিউজ ডেস্ক: চোয়ালের চামড়া কুঁচকে ঝুলে পড়েছে গলা পর্যন্ত, হাত-পাসহ সারা শরীরে বার্ধক্যের ছাপ, দেখলে মনে হয় বয়স ৭০ কি ৮০ বছর। এমনই অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন নিয়ে বেড়ে উঠছে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার খালিয়া গ্রামের চার বছরের বায়োজিদ। শিশুটি জন্মই নেয় বৃদ্ধ মানুষের চেহারা নিয়ে।

দিনে দিনে তার শরীরে বার্ধক্যের ছাপ আরো প্রকট হয়েছে। এখন তাকে দেখলে ৭০/৮০ বছরের বৃদ্ধ বলে ভ্রম হয়। প্রজেরিয়া নামে বিরল রোগে আক্রান্ত সে। চার বছর ধরে চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হলেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

শিশুটির বাবা লাবলু সিকদার জানান, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর আগে আপন খালোতো বোন তৃপ্তি খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তখন তার বয়স ছিল ১৭/১৮ বছর। আর তৃপ্তির ১৩/১৪। বিয়ের পরপরই সন্তান সম্ভবা হয় তৃপ্তি। নির্দিষ্ট সময় পরে মাগুরা মেটারনিটি হাসপাতালে তাদের একটি সন্তান ভূমিষ্ট হয়। শরীরের চামড়া বিহীন ভয়ঙ্কর চেহারায় জন্ম নেওয়া শিশুটিকে দেখে তখন মানুষ ভয়ে আঁতকে ওঠে। জন্মের পর থেকেই শিশুটিকে ৭০/৮০ বছরের রোগাক্রান্ত বৃদ্ধের মতো দেখাতো। বর্তমানে তার মুখের ও শরীরের চামড়া বৃদ্ধ মানুষের মতো ঝুলে গেছে। এ অবস্থায় তাকে মাগুরা, ফরিদপুরসহ আসপাশের বিভিন্ন জেলায় ডাক্তার দেখানো হলেও কোনো লাভ হয়নি।

শিশুটির মা তৃপ্তি খাতুন জানান, স্থানীয়রা তার সন্তানটিকে নিয়ে নানা ধরনের খারাপ কথা বলে। যাতে কষ্ট পান তিনি।

বায়োজিদ দেখতে বৃদ্ধ মানুষের মতো হলেও সমবয়সী অন্য বাচ্চাদের মতো স্বাভাবিকভাবে হাঁটা-চলা ও খাওয়া-দাওয়া করতে পারে। সে কথা বলতে পারে ও সব কিছু মনে রাখতে পারে বলেও জানান তৃপ্তি।

মাগুরা সদর হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. দেবাশিষ বিশ্বাস বলেন, এর আগে দেশে প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত শিশুর সন্ধান পাওয়া গেছে। যে রোগে জন্মের এক মাস পর থেকে ধীরে ধীরে একটি শিশুর শারীরিক অবস্থা বৃদ্ধদের মতো হয়ে যায়। কিন্তু বায়োজিদের বাবা-মায়ের ভাষ্য মতে শিশুটি জন্মই নিয়েছে অস্বাভাবিক চেহারা নিয়ে। যা আমাদের দেশে এর আগে দেখা গেছে বলে আমার জানা নেই।

শিশুটি প্রজেরিয়া নাকি অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত তা নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে চিকিৎসকদের গবেষণা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

মাগুরার সিভিল সার্জন কার্যলয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান জানান, সিভিল সার্জন শিশুটির খোঁজ-খবর রাখছেন। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

চিকিৎসকরা জানান, গ্রিক শব্দ progeros থেকে প্রজেরিয়া (progeria) শব্দের উদ্ভব। যার অর্থ, অল্পতেই বৃদ্ধ। প্রজেরিয়া রোগে আক্রান্ত শিশু দেখতে অবিকল বৃদ্ধের মতো হয়। এমনকি বৃদ্ধ বয়সে হয় এমন বেশিরভাগ রোগও দেখা যায় তাদের মধ্যে। এখনো এই রোগের কোনো চিকিৎসা নেই।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: