রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার খবরটি ‘টোটালি ফলস’  » «   শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী  » «   জামায়াত নতুন নামে পুরনো চরিত্রে ফিরে আসে কিনা তা ভাবনার বিষয়  » «   সুস্থ থাকলে শেখ হাসিনার বিকল্প দরকার নেই  » «   নন্দলালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না: ইসি রফিকুল  » «   এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সৈয়দ আশরাফের বোন ডা. জাকিয়া  » «   রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমার সেনাপ্রধানের!  » «   যেসব শর্তে আত্মসমর্পণ করছেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী  » «   নাসা আ্যপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়  » «   বাংলা একাডেমিতে আল মাহমুদের মরদেহ, শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে জোবায়ের অনুসারীদের ইজতেমা শেষ  » «   যেভাবে ভারতীয় সেনাবহরে হামলা চালায় জঙ্গিরা  » «   রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তে মার্চে বাংলাদেশ আসছে আইসিসি প্রতিনিধিদল  » «   ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের  » «   যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প  » «  

৪০০০ বাংলাদেশিকে আটক করেছে মালয়েশিয়া



প্রবাস ডেস্ক::মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ চলতি বছরে ২০ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে। গেল ৬ মাসে এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসী আটক করে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুকে সেরি মোস্তাফার আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যায় ইন্দোনেশিয়ানদের পরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান।

জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে রোবরার (১ জুলাই) থেকে মেগা-থ্রি নামে অভিযান শুরু করেছে ইমিগ্রেশন এবং পুলিশ। এই অভিযানের ফলে গত তিনদিনে বাংলাদেশিসহ প্রায় ১৭শ’ অবৈধ অভিবাসী আটক হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ অভিযানে কতজন বাংলাদেশি আটক হয়েছেন এ পর্যন্ত তা জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ৪০০ জনেরও বেশি অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশি আটক হয়েছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক মোস্তফার আলী স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, রি-হিয়ারিং প্রোগ্রামের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে মেগা-থ্রি নামে এই অভিযান শুরু হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় অবৈধ অভিবাসীদের বৈধকরণ প্রক্রিয়া। এরপর ১৬ সালের ১৫ আগস্ট নিবন্ধনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সর্বশেষ সময় বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত চলে নিবন্ধন প্রক্রিয়া।

এ প্রক্রিয়া শেষ হতে না হতেই অবৈধদের জন্য ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানিয়েছে, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে স্বেচ্ছায় এই সমস্ত অবৈধ অভিবাসীরা দেশে ফেরত না গেলে জেল জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানা গেছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক জানান, অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত থাকবে। এছাড়া যেসব মালিকরা অবৈধ অভিবাসীদের নিয়োগ দিয়েছেন বা পুনঃনিবন্ধন করায়নি তাদেরকেও গ্রেফতার করা হবে।

মোস্তফার আলী বলেন, দেশে অবৈধ অভিবাসীর স্রোত ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছে। এ সময় তিনি আরও জানান, গত জানুয়ারির ১ তারিখ জুনের ৩০ তারিখ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ৯৭৯ জন বিদেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এ পর্যন্ত ৫৩৬ জন মালিকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়াও ৯ হাজার ৮৫৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে বিচারের সম্মুখীন করা হয়েছে। বাকিদেরও খুব শিগগিরই বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

তিনি জানান, আটক হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ইন্দোনেশিয়ান। এ পর্যন্ত দেশটির ৬ হাজার ৮৯৫ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। এরপরই রয়েছে বাংলাদেশ। গত ৬ মাসে ৩ হাজার ৯৭৫ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে মিয়ানমার। ১ হাজার ৯৯৫ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে জনশক্তি রফতানি শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক পাড়ি দিয়েছে। আরও প্রায় ৫০ হাজার যাওয়ার অপেক্ষায়। তবে এ সময়ের মধ্যে দুই দেশের ইমিগ্রেশনকে ‘ম্যানেজ’ করে ১ মাসের এন্ট্রি নিয়ে শত শত নামধারী লোক বাংলাদেশ থেকে দেশটিতে ঢুকছে বলে জানা গেছে।

এদের অধিকাংশই পরবর্তীতে পুলিশি অভিযানে ধরা পড়েন। পরে খুবই মানবেতর জীবনযাপন করে খালি হাতে দেশে ফিরেছে। এখনো অনেক বাংলাদেশি দেশটির ডিটেনশন ক্যাম্পে আটক হয়ে রয়েছে। তারপরও অবৈধ পথে লোক যাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এর সঙ্গে চিহ্নিত চক্রগুলো দুই দেশের ইমিগ্রেশনের কিছু কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে আদম পাচারের মতো কাজ এখনো নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ভাবার সময় এসেছে। এখনই তাদের শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বৈধপথে জনশক্তি রফতানির পথ দিন দিন সংকুচিত হতে থাকবে। তারা এও বলেন, এসব অনিয়মের কারণে হুন্ডি বাড়ছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: