মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২০ খ্রীষ্টাব্দ | ১৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
লন্ডনে দ্বিতীয় জনপ্রিয় ভাষা বাংলা  » «   ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে সাব-রেজিস্ট্রার আটক  » «   আর কোনো হায়েনার দল বাংলার বুকে চেপে বসতে পারবে না  » «   সিলেটে মুক্তিযুদ্ধের পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করলেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী  » «   ফের জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সভাপতি সালমা ইসলাম এমপি  » «   বিয়ানীবাজারে ৯৯০ পিস ইয়াবাসহ পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী আটক  » «   আয়কর দিবস উপলক্ষে সিলেটে বর্ণাঢ্য র‌্যালি  » «   এবার শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন  » «   বেলজিয়ামে মসজিদে তালা দেওয়ায় বাংলাদেশিদের প্রতিবাদ  » «   পায়রা উড়িয়ে জাতীয় পার্টির ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন উদ্বোধন  » «   ভারতের অর্থনীতির দুরবস্থা, জিডিপি কমে সাড়ে ৪ শতাংশ  » «   পায়রা উড়িয়ে সম্মেলন উদ্বোধন করলেন শেখ হাসিনা  » «   লন্ডন ব্রিজে আবারও সন্ত্রাসী হামলা, নিহত ২  » «   চীন থেকে মা-বাবার জন্য পেঁয়াজ নিয়ে এলেন মেয়ে  » «   রক্তে ভাসছে ইরাক, নিহত ৮২  » «  

২০ টাকা পেয়েই ছোটবোনের জন্য ভাত কিনতে দৌড়াল আকাশী



নিউজ ডেস্ক:: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শাহবাগগামী রাস্তায় মেট্রোরেলের কাজ চলার কারণে দু’পাশেই চলাচলের রাস্তা ছোট হয়ে এসেছে। একসঙ্গে বেশি যানবাহন চলতে শুরু করলেই যানজট শুরু হয়ে যায়। আজ (মঙ্গলবার) এ এলাকার সাপ্তাহিক ছুটির কারণেই কি-না রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা। দুপুর ১২টা। টিএসসি থেকে টুং টাং শব্দে বেল বাজিয়ে রিকশা, দ্রুত বেগে মোটরসাইকেল শাহবাগের দিকে ছুটে চলেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের গেটের বাইরে বসে থাকা আনুমানিক ৯/১০ বছর ও বছর চারেক বয়সী দুটি শিশুর দিকে সবার দৃষ্টি ও সঙ্গে সঙ্গে আহারে বলে আফসোস করতে দেখা গেল।

নয়-দশ বছর বয়সী মেয়েটি বুকে আগলে রেখে ঘুম পাড়াচ্ছে তার চার বছর বয়সী বোনটিকে। হাঁটুর ওপর মাথা রেখে একটি হাত ছোট বোনের মাথার নীচে বিছিয়ে দিয়েছে। আরেক হাতে তার ভিক্ষার থালা। পাশেই একটি ছেঁড়া কাপড়ের ব্যাগ। বড় বোনটির মাথা টাক, সারা শরীরে খোসপাচড়ার দাগ। ছোট বোনটিকে ঘুম পাড়াতে গিয়ে কখন যে বড়বোনটি ঘুমিয়ে পড়েছে তা নিজেও জানে না।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপাকালে বড় মেয়েটি জানালো তার নাম আকাশী। বাসা কামরাঙ্গীর চরে। বাবা অসুস্থ ও বেকার। মা বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। সংসার চালাতে মাকে সহায়তা করতে প্রতিদিনই ছোটবোনটিকে নিয়ে পায়ে হেঁটে শাহবাগ আসে। ঝড়-বৃষ্টিতে বোনকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুটপাতে ভিক্ষার থালা নিয়ে বসে থাকে। পথচারীরা দয়া করে টাকা দেন। তবে আজ দুপুর পর্যন্ত কেউ একটি টাকাও সাহায্য দেননি বলে জানায়। শিশুটি বলে, সকাল থেকে যা টাকা সাহায্য পায় তা দিয়ে দুপুরের খাবার কিনে খায়। বাকি সারাদিনে যা পাওয়া যায় তা বাড়িতে মাকে দেয়।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জনৈক ব্যক্তি ২০ টাকা দিলে খুশিতে দু’চোখ চকচক করে ওঠে শিশুটির। পরিচিত এক ব্যক্তির কাছে বোনকে দিয়েই সে দৌড় দেয়। লোকটি জানায়, সকালে না খেয়ে বাসা থেকে এসেছে। তাই টাকা পেয়ে ছোটবোনসহ তার জন্য ফুটপাতের দোকান থেকে আলুভর্তা, ডাল ও ভাত কিনে আনতে গেছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: