বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
২৭ জুলাই খালেদার মুক্তি দাবিতে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ  » «   মৌসুমি বায়ু দুর্বল, বর্ষার বর্ষণ নেই  » «   সিলেটে দুর্ঘটনায় কলেজ ছাত্রের মৃত্যু  » «   হরিণাকুণ্ডুতে র‌্যাবের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ডাকাত সদস্য নিহত  » «   পুলিশের সোর্স মামুন মাদক ব্যবসায়ীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও  » «   ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরি, সালিসে জরিমানার টাকা ভাগাভাগি!  » «   আইনমন্ত্রীর বাসায় প্রধানমন্ত্রী  » «   ‘এদেরকে নিয়েই মান্না সাহেব দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিবেন’  » «   রাশিয়ায় বিশ্বকাপ দেখতে গিয়ে পুলিশের জালে বাংলাদেশী যুবক  » «   বিদেশ ও জেল থেকে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ করছে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা  » «   বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত মনোনীত রবার্ট মিলার  » «   বেবী নাজনীন অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি  » «   কোটা আন্দোলন: ছাত্রলীগের হুমকিতে ক্যাম্পাস ছাড়া চবি শিক্ষক  » «   ভেবেই ক্লাব বদল করেছেন রোনালদো  » «   ভারতে নিষিদ্ধ, অন্য দেশে পুরস্কৃত যেসব ছবি  » «  

১২ লাখ টাকার চুক্তিতে হত্যা করা হয় সালমান শাহকে!(ভিডিও)



বিনোদন ডেস্ক:: রুবির ভিডিও বার্তায় নতুন মোড় নেয়া প্রয়াত নায়ক সালমান শাহের হত্যার খবরে। এখন সারা বিশ্বের বাঙালিদের কাছে রহস্য দুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে রুবি বলেন সালমান শাহ আত্মহত্যা নয় তাকে হত্যা করা হয়। আবার এই রুবিই পরবর্তীতে আরও দুটি ভিডিও দিয়ে নিজেকে মানসিক রোগি দাবি করেন। কিন্তু ঘটনা যাই হোক, এবার গণমাধ্যমের কারণে সালমান শাহ হত্যার নতুন মোড় নিলো। ১০ আগস্ট সময় টেলিভিশন একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে এই প্রসঙ্গে।

সেই ভিডিও রিপোর্টে দাবি করা হয় সালমান শাহকে হত্যার জন্য ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন সালমানের স্ত্রী সামিরার মা লাতিফা হক। সালমান শাহ হত্যা মামলার আসামি রিজভী ১৯৯৭ সালের জুলাইয়ে ১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতেই এই কথা জানিয়েছিলেন। রিজভীর মতে, সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। উল্লেখ করা হয়, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।

হত্যার ঘটনা সম্পর্কে আসামি রিজভি জানায়, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে।

এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলায়।

এছাড়া জবানবন্দিতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদ ও আসামি রিজভি ছাড়াও ছাত্তার ও সাজু নামে আরো দু’জনের নাম উল্লেখ করা হয়। কিন্ত প্রত্যক্ষ আসামির এই জবানবন্দির পরও যাদের নাম পাওয়া যায় তারা সবসময়ই ছিলো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

হত্যার এক বছর পর সিআইডির রিপোর্টে বলা হয়- এটি আত্মহত্যা। ১২ বছর পর দেয়া জুডিশিয়াল ইনকোয়ারির রিপোর্টে একই কারণ দেখানো হয়। কিন্তু কোন আসামি বা সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের কোন অস্তিত্ব নেই রিপোর্টগুলোতে। দু’বারই নারাজি দেন সালমানের পরিবার।

২০১৫ সালে র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হলে আইনী জটিলতায় তাও বন্ধ থাকে। ২০১৬ সালে মামলাটি নিম্ম আদালতে পাঠানো হলে তদন্তভার দেয়া হয় পুলিশ পিবিআইকে।

এদিকে সালমানকে হত্যার পরিকল্পনা জানার বিষয়টি যে আগে থেকেই রুবি জানতেন তা বোঝা যায় রিজভির জবানবন্দিতে। হত্যার আগে রুবির বাসায় যান হত্যাকারীরা।

অন্যদিকে ২১ বছর পর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সালমান শাহ হত্যা মামলার অনেক কাগজপত্র। বারবার নারাজি দেয়ার পরও তদন্ত বা মামলা পরিচালনায় গুরুত্ব পায়নি চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনা। এমনকি আদালতে হত্যার সঙ্গে জড়িত রিজভী স্বীকারোক্তি দেয়ার পরও কোন আসামিকে গ্রেফতার বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। বরং তদন্তে গাফেলতির কারণে বেশিরভাগ আসামিই রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

এসব কর্মকাণ্ডে প্রশাসনের গাফলতি ও অসহযোগিতা স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়। তারপরও তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। দেশ সেরা নায়ককে এমন নির্মভাবে হত্যা করে খুনিরা দিব্যি হেসে-খেলে জীবন কাটাচ্ছে, এটা কোটি সালমান ভক্তের জন্য সবচেয়ে দুঃখের কথা। তবে হাল ছাড়ছেন না সালমানের পরিবার ও তার ভক্তরা। বিচারের দাবি জানিয়ে হুংকার দিচ্ছেন সবাই। আশা করছেন দ্রুতই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এই বিষয়ের সুরাহা করবেন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: