বুধবার, ২২ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
খালেদা জিয়ার সুবিধার্থে কেরানীগঞ্জে আদালত স্থাপনের সিদ্ধান্ত: তথ্যমন্ত্রী  » «   বুথফেরত জরিপের ফলেই ‘বিজয়োৎসব’ শুরু বিজেপির  » «   হুতি বিদ্রোহীদের হামলা, সৌদির পাশে থাকবে পাকিস্তান  » «   ধানক্ষেতে আগুনের ঘটনা তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ  » «   মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ছে  » «   বালিশ দুর্নীতি: নির্বাহী প্রকৌশলী প্রত্যাহার  » «   এফআর টাওয়ার নির্মাণে ত্রুটি, তদন্ত প্রতিবেদনে দোষী ৬৭ জন  » «   ক্ষতিপূরণ দিতে গ্রিনলাইনকে আদালতের আল্টিমেটাম  » «   প্রখ্যাত তিন ইসলামি স্কলারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করছে সৌদি  » «   মৌলভীবাজারে কে এই ‘পীর’ আজাদ?  » «   ৮০ বছরের মধ্যে সাগরে ডুবে যাবে বাংলাদেশ!  » «   অনলাইনে ট্রেনের টিকিট: বিক্রি শুরুর আগেই টিকিট শেষ!  » «   আজ সিলেটের যে নয়টি এলাকায় গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকবে  » «   অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার বিক্রির দায়ে ইষ্টিকুটুম-মধুবনকে জরিমানা  » «   বুধবারীবাজার ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি রফিক উদ্দিনের জানাযায় মানুষের ঢল  » «  

হাতে কাফন ও ফাঁসির রশি ছিল তার ভোট প্রার্থনার অভিনব কৌশল!



নিউজ ডেস্ক:: নির্বাচন আসলেই অংশগ্রহণ এবং পরে পরাজয়। এটাই নিয়তি ছিল সৈয়দ খলিলুর রহমানের। বার বার নির্বাচন করে পরাজিত হওয়ার পর এবার তিনি অভিনব প্রচারণা করে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে পরাজিত করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এখন বাহুবলের জনগণের মুখে মুখে ফিরছে তার এই কথা। শুধু তাই নয় তিনি বিজয়ী হওয়ার পর লোকজন তাকে টাকার মালা উপহার দিচ্ছে। এ পর্যন্ত তিনি ৬০টি টাকার মালা উপহার পেয়েছেন। এর মাঝে ছিল ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৈয়দ খলিলুর রহমান নিজেকে একজন মানবাধীকার কর্মী বলে সব জায়গায় পরিচয় দেন। নির্দিষ্ট কোন পেশা নেই তার। ১৯৯১ সালে জাতীয় নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-১ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে অংশ নেন। পরে ২০১৪ সালের উপজেলা নির্বাচনেও অংশ নেন তিনি। সব নির্বাচনেই বিপুল ভোটে পরাজিত হওয়ার পর এবার তিনি অভিনব প্রচারণা শুরু করেন।

ঘোড়া প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে গিয়ে তিনি নির্বাচনী ইশতেহারে বলেন ‘আমাকে নির্বাচিত করে বাহুবলের জনগণের জুতার ধুলা-বালি পরিস্কারের সুযোগ দিন’। একই সাথে তিনি সাথে কাফনের সাদা কাপড় এবং ফাঁসির রশি হাতে নিয়ে সবার কাছে ভোট প্রার্থনা করে বলতেন ‘যদি আমি এবারের নির্বাচনে বিজয়ী না হতে পারি, তাহলে আমি গলায় রশি দিয়ে ফাঁস দিব। নির্বাচনের পরদিন ১১ মার্চ সকালে সবাই আমার জানাযা পরবেন’।

তার এই প্রচারণা শুনে লোকজন তাকে ধাওয়া করত এবং অনেক স্থানে ঢিল ছুড়ে মারত। ব্যাক্তি জীবনে তিনি বহু বিবাহ এবং ভিভোর্স করেছেন।

তিনি এই বলেও প্রচারণা করতেন ‘আমি নির্বাচনে আসায় আমার স্ত্রী আমাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে গেছে, আমি এখন অসহায়’। নির্বাচনের একসপ্তাহ পূর্বে বাহুবল উপজেলার স্নানঘাটে এক নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি পায়ে ব্যাথা পান। পরে তিনি পায়ে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে প্রচার করেন আনারসে আব্দুল কাদির চৌধুরীর সমর্থকরা পাথর নিক্ষেপ করে তার পা ভেঙ্গে দিয়েছে।

সৈয়দ খলিলুর রহমানের এই অভিনব প্রচারণায় পুরো বাহুবলে হাস্যরস সৃষ্টি হয়। সেখানে নির্বাচনে মূল লড়াইয়ে ছিলেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই (নৌকা) এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি আব্দুল কাদির চৌধুরী (আনারস)। কিন্তু নির্বাচনে সকল হিসাব নিকাশ পাল্টে দিয়ে সৈয়দ খলিলুর রহমান সবাইকে তাক লাগিয়ে দেন। সৈয়দ খলিলুর রহমান পান ২৩ হাজার ৪৮৩। আওয়ামী লীগের আব্দুল হাই পান ১৭ হাজার ৬০৬ এবং আব্দুল কাদির চৌধুরী পান ১০ হাজার ৪৫৭।

বাহুবল উপজেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হেলাল মিয়া বলেন, সৈয়দ খলিলুর রহমান এর এই অভিনব প্রচারণায় সকলেই হাসি ঠাট্টা করতেন। নির্বাচনের ১০দিন পূর্বে তিনি মীরপুর এলাকায় আসলে লোকজন তাকে টমেটো দিয়ে ঢিল ছুঁড়ে এবং হাসি ঠাট্টা করে বিদায় দেয়। কিন্তু সাধারণ মানুষ তার প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে ভোট প্রদান করায় সে বিজয়ী হয়েছে।

নির্বাচনে পরাজিত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল কাদির চৌধুরী বলেন, খলিলুর রহমান লোকজনকে কান্নাকাটি করে বলেছে- ‘আমি ৪ বার নির্বাচিত হয়ে পড়াজিত হয়েছি। এবার ভোট না দিলে আমি আত্মহত্যা করব। পরদিন আমার জানাযায় যাবেন। এ ধরনের কথা বলে সে মানুষের সমর্থন পেয়েছে। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু তাকে নির্বাচিত করেছেন এ বিষয়ে তাই আমার বলার কিছু নেই।’

এ ব্যাপারে সৈয়দ খলিলুর রহমান বলেন, আমি নির্বাচনের পূর্বেও বলেছিলাম সুযোগ পেলে ৫ বছর সকল জনগণের পায়ের ধুলা পরিস্কার করব। এখনও আমি সেই কথায় অটল আছি। তবে কাফনের কাপড় এবং ফাঁসির দড়ি নিয়ে যে কথা বলা হচ্ছে তা অপপ্রচার। একইভাবে স্ত্রী ডিভোর্স দিয়ে চলে যাওয়ার কথাও সঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোন দলও নেই সংগঠনও নেই। আলু ওয়ালা, ধান ওয়ালা আর মাছ ওয়ালাদের সাথে আমার সম্পর্ক। কোন নেতার সাথে আমার সম্পর্ক নেই। কোন সমাবেশে গেলে নেতারা আমাকে দেখলে হিংসা করে। কারণ, হ্যাজাকের আলোর সাথে হারিকেনের আলো ম্লান হয়ে যায়।’

পায়ে আঘাতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি একটি সভা থেকে ফেরার পথে কে বা কারা ঢিল ছুঁড়ে আমাকে আহত করে। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়ি। তবে কার লোক আঘাত করেছে তা বুঝতে পারিনি।’

এদিকে নির্বাচিত হওয়ার পর চারিদিক থেকে লোকজন এসে তাকে টাকার মালা উপহার দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৬০টি টাকার মালা উপহার পেয়েছেন। গুনে দেখেছেন সেখানে আছে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

এ ব্যাপারে সৈয়দ খলিলুর রহমান বলেন, ‘লোকজন খুশি হয়ে আমাকে টাকার মালা দিচ্ছে। সুন্দ্রাটিকি গ্রামে আমাকে ৪টি মালা দেয়। যেখানে ছিল ৩৮ হাজার টাকা। এর সবগুলো নোট ছিল ১০০ আর ৫০০ টাকার। লোকজন আমার বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে। আবার লোক পাটিয়েও টাকা দিচ্ছে। আমি মানুষের এই ভালবাসার প্রতিদান দিতে চাই। আমি বাহুবলে শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে মনোযোগী হব।’

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: