শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা  » «   সীমান্তের খালে মিয়ানমারের সেতু, বন্যার আশঙ্কা বাংলাদেশে  » «   দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাবে বাংলাদেশ: শাবিতে পরিকল্পনামন্ত্রী  » «   আতিয়া মহল মামলা: ৫ দিনের রিমান্ডে ৩ আসামি  » «   শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলা: হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু  » «   টিআইবির রিপোর্টে সরকার ও ইসির আঁতে ঘা লেগেছে: বিএনপি  » «   মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে দশ বাংলাদেশির অনন্য সাহসিকতার নজির  » «   ১৪ দলের শরিকদের বিরোধী দলে থাকাই ভালো: ওবায়দুল কাদের  » «   সন্ত্রাস-মাদক-জঙ্গিবাদের মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধেও ‘জিরো টলারেন্স’ : প্রধানমন্ত্রী  » «   সংসদ সদস্যদের শপথের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ  » «   কৃত্রিম কিডনি তৈরি করলেন বাঙালি বিজ্ঞানী  » «   ব্রেক্সিট ইস্যু: অনাস্থা ভোটে টিকে গেলেন তেরেসা মে  » «   টিআইবির প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করি: সিইসি  » «   জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অফিস করছেন শেখ হাসিনা  » «   সংসদ কার্যকর রাখতেই বিরোধী দলে জাপা : জিএম কাদের  » «  

হবিগঞ্জের মেয়ে রেহানার প্রশ্ন – ১০ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব নিতে পারলে আমাদের পারবে না?



নিউজ ডেস্ক:: ‘সরকার মানবিক কারণে ১০ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব নিতে পেরেছে, আর আমাদের দু’লাখ মা-বোনের দায়িত্ব নিতে পারবে না? কেন আমাদের ইজ্জত-সম্মান বিক্রি করতে সৌদি যেতে হবে?’ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি এমন প্রশ্ন সৌদি আরব থেকে ফিরে আসা নারী গৃহকর্মী রেহানার (২২)।

গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে যাওয়ার মাত্র তিন মাস পর রোববার (২৭ মে) রাতে দেশে ফিরেছেন রেহেনা। দেশে ফিরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রেহেনা জানান, ‘পলিথিনের ব্যাগে আনা সামান্য পরনের কাপড় ছাড়া সব দিয়ে এসেছি। এমন অসভ্য মালিকের বাসা আর যেন কোনো বাংলাদেশি নারী কাজ করতে না যায়।’

তিনি বলেন, ‘তিন মাসকে মনে হয়েছে তিন বছর। দেশের কোনো মানুষের চেহারা দেখি নাই। মালিকের নাম ছিল আব্দুল্লাহ। বাড়িতে স্ত্রী ও চার ছেলে নিয়ে থাকেন। বাসার সবাই সারাদিন বাড়িতে থাকলেও বিকেল হলে মালিক ছাড়া বাকিরা গাড়িতে করে বাইরে চলে যেত। ওই সময় মালিক একলা পেয়ে আমাকে হয়রানি করতো। বাধা দিলে মারধর।’

‘এভাবে তিন মাস নির্যাতনকে বুকে পাথর চাপা দিয়ে শুধু কেঁদেছি, আর দেশের মানুষ খুঁজেছি। একদিন আমার মালিকের এক বন্ধুর বাংলাদেশি গাড়ি চালক মনির আঙ্কেলের সঙ্গে দেখা হয়। তিনি একদিন ভোরে আমাকে বাংলাদেশ অ্যাম্বেসিতে দিয়ে আসেন, সেখানে হাসিনা নামের এক খালার সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি আমাকে দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে সহযোগিতা করেছেন।’ -বলেন রেহেনা।

তিনি আরও বলেন, ‘দেশ থেকে যাওয়ার সময় আমার কাছে বাংলাদেশি ৪শ’ টাকা ছিল। ওই টাকাটা নিয়েই ফিরেছি। ওই টাকা নিয়েই আজ হবিগঞ্জ যাচ্ছি।’

শুধু রেহেনাই নয়, গত কয়েক দিনে সৌদি আরব থেকে কয়েকশ’ নারী গৃহকর্মী দেশে ফিরে এসেছেন। তারা সবাই নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গত শনিবার রাতেও সৌদি আরব থেকে ৪০ জন গৃহকর্মী দেশে ফিরে এসেছেন।

নির্যাতনের শিকার হয়ে নারীকর্মীরা দেশে ফিরে আসার ঘটনায় এক প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নমিতা হালদার বলেন, ‘আমরা বিষয়টির প্রতি নজর রাখছি। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কে আমাদের কর্মীরা তৎপর রয়েছেন।’

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) দেয়া তথ্য মতে, ২০১৭ সালে অভিবাসী নারীর সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৫ জন। যা মোট অভিবাসন সংখ্যার ১৩ শতাংশ। ১৯৯১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একা অভিবাসন প্রত্যাশী নারী শ্রমিককে অভিবাসনে বাধা দেয়া হলেও পরবর্তীতে ২০০৩ এবং ২০০৬ সালে কিছুটা শিথিল করা হয়।

২০০৪ সালের পর থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত নারী শ্রমিকের অভিবাসন হার ক্রমাগত বাড়তে থাকে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় মোট অভিবাসনের ১৯ শতাংশ।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: