মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আমার কিছু হলে দায়ী আপনারা মামা-ভাগ্নে: সিইসিকে গোলাম মাওলা রনি  » «   ভুলভ্রান্তি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন: শেখ হাসিনা  » «   মাহবুব তালুকদারের বক্তব্য অসত্য: সিইসি  » «   ভোটের ফলাফল প্রকাশে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ  » «   ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় মইনুলের জামিন  » «   বাংলাদেশের বিজয় দিবসকে অবজ্ঞা শেহবাগের!  » «   সারাদেশে ১ হাজার ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন  » «   প্রার্থিতা নিয়ে রিট খারিজ, নির্বাচন করতে পারবেন না খালেদা জিয়া  » «   জামায়াতের ২২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলে রুল  » «   সিলেটে প্রাধান্য উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার  » «   বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা করছেন ফখরুল  » «   আপিলেও ভোটের পথ খুলল না ইলিয়াসপত্নী লুনার  » «   যেসব ‘বিশেষ’ অঙ্গীকার থাকছে আ. লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে  » «   আ.লীগের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করছেন শেখ হাসিনা  » «   সিলেটে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর ও ধরপাকড়ের অভিযোগ  » «  

হজ ফরজ হওয়ার শর্ত ও প্রকারসমূহ



islambg_299045561ইসলাম ডেস্ক:হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ ইবাদত। হাদিসে হজ আদায়কারীকে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ বলে অভিহিত করা হয়েছে। ইবাদতসমূহের মাঝে একমাত্র হজের ক্ষেত্রে অর্থ ও শারীরিক শ্রমের প্রয়োজন এবং সামর্থ্য থাকা জরুরি।

হজ ফরজ হওয়ার শর্তসমূহ
১. মুসলমান হওয়া, ২. জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া, ৩. প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া, ৪. স্বাধীন হওয়া, ৫. হজের নির্ধারিত সময়ে হজ আদায় করা, ৬. মধ্যম ধরনের ব্যয় হিসেবে সফরের ব্যয় বহনের সামর্থ্য থাকা, যদি হজ পালনকারি মক্কা শরিফে অবস্থান করেন তবুও।

৭. যারা মক্কা শরিফের বাইরে থাকেন তাদের জন্য হজ পালনের শর্ত হলো- মালিকানা বা ভাড়া সূত্রে স্বতন্ত্রভাবে একটি বাহন বা অন্যকিছু ব্যবহারের সামর্থ্য থাকা। যেমন: আমাদের দেশের হাজীরা বিমান ব্যবহার করে থাকেন। তবে কেউ যদি বিনিময় ছাড়া তার বাহন বা সওয়ারি ব্যবহারের অনুমতি দেয় তাহলে তা সামর্থ্য হিসেবে গণ্য হবে। যারা মক্কার আশেপাশে অবস্থান করেন, তাদের ওপর তখন হজ ফরজ হয়। যখন তারা কষ্ট সহ্য করে নিজ শক্তিতে পায়ে হেটে হজ করতে পারে। কিন্তু হাঁটতে সক্ষম না হলে সেই ব্যক্তি মক্কার অধিবাসী হোক বা না হোক তার জন্য অবশ্যই বাহনের প্রয়োজন হবে।

৮. অমুসলিম দেশে ইসলাম গ্রহণকারী ব্যক্তির, ‘হজ ইসলামের একটি রুকন (ফরজ)’-একথা জানা থাকা বা সে ব্যক্তি মুসলিম দেশের অধিবাসী।

যে সব কারণে হজ ওয়াজিব হয়
১. সুস্থ থাকা, ২. হজে যাওয়ার বাহ্যিক বাধা দূরীভূত হওয়া, ৩. রাস্থাঘাট নিরাপদ থাকা (স্থল ও সামুদ্রিক পথে যদি অধিকাংশ লোক নিরাপদে ফিরে আসে তবেই রাস্থা নিরাপদ বলে ধর্তব্য হবে), ৪. মহিলাগণ তাদের ইদ্দত (পিরিয়ড) অবস্থায় না থাকা, ৫. নারীর ক্ষেত্রে হজে তার সাথে একজন মুসলমান আস্থাভাজন, জ্ঞানসম্পন্ন, প্রাপ্ত বয়স্ক মাহরাম পুরুষ বা স্বামী থাকা।

হজের কাজসমূহ
চারটি কাজ করলে স্বাধীন ব্যক্তির হজের ফরজ বিশুদ্ধভাবে পালিত হয়। এক. ইহরাম। দুই. ইসলাম। এ দু’টি হলো হজের শর্ত। অতঃপর হজের অপর দুই ফরজ পালন করা। অর্থাৎ জিলহজের নবম তারিখে সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলে যাওয়ার পর থেকে কোরবানির দিনের ফজর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে অন্তত এক মুহূর্ত আরাফাতের ময়দানে ইহরাম অবস্থায় অবস্থান করা। তবে শর্ত হলো, এর পূর্বে ইহরাম অবস্থায় স্ত্রী সহবাস না করা চাই। দ্বিতীয় ফরজ হলো তাওয়াফে জিয়ারতের অধিকাংশ চক্কর যথাসময়ে অর্থাৎ দশম তারিখের ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর পালন করা।

হজের ওয়াজিবসমূহ
১. মিকাত থেকে ইহরাম বাধা, ২. সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফার ময়দানে অবস্থান করা, ৩. জিলহজের দশ তারিখে ফজরের সময় শুরু হওয়ার পর এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে মুজদালিফায় থাকা, ৪. জামারায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা, ৫. হজে কেরান ও হজে তামাত্তু পালনকারীর পশু জবেহ করা, ৬. মাথা মুন্ডানো বা চুল ছোট করা, ৭. মাথা মুন্ডানোর কাজটি হারাম শরিফে এবং কোরবানির দিনগুলোতে সম্পন্ন করা, ৮. মাথা মুণ্ডানোর পূর্বে কঙ্কর নিক্ষেপ করা, ৯. হজে কেরান ও হজে তামাত্তু পালনকারীর কঙ্কর নিক্ষেপ ও মাথা মুণ্ডানোর মধ্যবর্তী সময়ে পশু জবেহ করা, ১০. কোরবানির দিনগুলোতে তাওয়াফে জিয়ারত সম্পন্ন করা, ১১. হজের মাসগুলোতে সাফা-মারওয়ার মধ্যখানে সায়ী করা বা দৌঁড়ানো, ১২. গ্রহণযোগ্য তাওয়াফের পর সায়ী করা, ১৩. ওযর ব্যতীত পায়ে হেঁটে সায়ী করা, ১৪. সাফা থেকে সায়ী আরম্ভ করা, ১৫. বিদায়ী তাওয়াফ করা, ১৬. বায়তুল্লাহ শরিফের সবক’টি তাওয়াফ হাজরে আসওয়াদ (কালো পাথর) থেকে শুরু করা, ১৭. ডান দিক থেকে তাওয়াফ শুরু করা, ১৮. ওজর ছাড়া পায়ে হেঁটে তাওয়াফ করা, ১৯. ছোট-বড় উভয় প্রকার অপবিত্রতা থেকে পবিত্র থাকা, ২০. সতর ঢাকা, ২১. তাওয়াফে জিয়ারতের অধিকাংশ চক্কর (কোরবানির দিনগুলোতে) সম্পন্ন করার পর অবশিষ্ট চক্করগুলো সম্পন্ন করা ও ২২. সব ধরনের নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকা।

যেমন, পুরুষদের সেলাইকৃত কাপড় পরিধান করা এবং মাথা ও চেহারা ঢাকা, মহিলারা চেহারা ঢাকা, যৌন উত্তেজক কথাবার্তা বলা, গুনাহের কাজ করা, ঝগড়া-বিবাদ করা, শিকার বা শিকারের প্রতি ইশারা করা কাউকে শিকার দেখিয়ে দেয়া ইত্যাদি।

হজ মোট তিন প্রকার। ১. ইফরাদ ২. তামাত্তু এবং ৩. কেরান।

ইফরাদ হজের পরিচয়
ইফরাদ শব্দের আভিধানিক অর্থ- একা, একাকি বা পৃথক। শরিয়তের পরিভাষায় মিকাত হতে শুধু হজের নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে শুধুমাত্র হজ সম্পন্ন করার নাম ইফরাদ।

তামাত্তু হজের পরিচয়
তামাত্তু হজের আভিধানিক অর্থ হলো, উপকারিতা অর্জন করা, উপভোগ করা। পরিভাষায় মিকাত হতে প্রথমে ওমরার ইহরাম বেধে তার কার্যাবলি সমাপন করে হালাল হওয়ার পর হজের সময় হজের ইহরাম বেঁধে তার আহকামসমূহ সম্পাদন করাকে তামাত্তু হজ বলে।

কেরান হজের পরিচয়
কেরানের শাব্দিক অর্থ মিলানো, মিশ্রণ করা। পরিভাষায় মিকাত হতে একসাথে হজ ও ওমরার নিয়ত করে ইহরাম বেঁধে হজর ও ওমরা একই ইহরামে সমাপ্ত করাকে কেরান হজ বলে।

হজের দিনের বিভিন্ন নাম
১. জিলহজের আট তারিখকে ‘ইয়াওমুত তারবিয়্যা’, নয় তারিখকে ‘ইয়াওমুল আরাফাহ’, দশ তারিখকে ‘ইয়াওমুন নাহর,’ এগারো তারিখকে ‘ইয়াওমুল উকুফ,’ বারো তারিখকে ‘ইয়াওমুল নাফরিল আওয়াল’ এবং তেরো তারিখকে ‘ইয়াওমুল নাফরিস সানি’ বলে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: