শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের সুপারিশ কানাডিয়ান দূতের  » «   সালমান খানের সঙ্গে শাকিব খানের তুলনা করলেন পায়েল  » «   বিশ্বকাপ মিশনে নামার আগে মক্কায় পগবা  » «   সিটি নির্বাচনের প্রচারে এমপিরা কি অংশ নিতে পারবেন?  » «   তালিকা অনুযায়ী সবাইকে ধরা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  » «   আমজাদ হোসেনের জার্মানি পতাকা এবার সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার  » «   ভক্তদের প্রশ্নের জবাব দিয়ে কক্সবাজার ছাড়লেন প্রিয়াঙ্কা  » «   জাপানে বন্ধুর ক্লাবই নতুন ঠিকানা ইনিয়েস্তার  » «   মুক্তামনির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক  » «   ‘ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী’-রিজভী  » «   চৌদ্দগ্রামে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মাদক বিক্রেতা নিহত  » «   জবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নেতার ওপর হামলা  » «   নারীর মন-শরীর নিয়ন্ত্রণ করে পুরুষ আধিপত্য চায়: বিদ্যা  » «   আখাউড়ায় হচ্ছে ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট  » «   ২১ ঘণ্টা রোজা রাখছেন ৪ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান!  » «  

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত রাজীব : মৃত্যুর আগে খালার কাছে যা বলেছিল সেই রাজীব!



নিউজ ডেস্ক::প্রতিদিনের মতো বাসে করে রাজধানীর তিতুমীর কলেজে যাচ্ছিলেন রাজীব হোসেন। হঠাৎ পেছন থেকে একটি বাস বিআরটিসি বাসটিকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুই বাসের প্রবল চাপে রাজীবের হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গত ৪ এপ্রিল বাংলামোটর থেকে সার্ক ফোয়ারার দিকের সিগন্যালের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

গত ১৭ এপ্রিল জীবন যুদ্ধে পরাজিত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাঃস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর আগে তার ছোট খালা হ্যাপি আক্তারের কাছে বলে গেছেন রাজীব তার স্বপ্নের কথা।

রাজীব হোসেনের খালা জাহানারা বেগম বলেন, ‘রাজীবের মৃত্যুর একদিন আগে ছোট খালা হ্যাপী বেগমের কাছে হাসপাতালে কেঁদে কেঁদে বলেছিলেন, কোনো দিনও প্রাইভেট পড়লাম না, নিজে নিজে পড়েছি। ইংরেজী গ্রামার ভালো ভাবে পড়তে পারিনি। কারো কাছে গেলে এক সময় বুঝিয়ে দিতেন আরেক সময় দিতেন না। নিজে নিজেই পড়েছি। ভালো ভাবে পড়তে পারিনি। তাহলে চাকরি হবে কী করে?’

তিনি আরো বলেন, সড়ক দুঘর্টনার ২দিন পরেই রাজীব পরিস্কার কথা বলতে পারতেন। মুখে কোনো কথা আটকায়নি। সকলের প্রশ্নের উত্তরও দিতে পারতেন। চিনতেন সবাইকে। কিন্তু তখন একটি সমস্যা দেখা দেয়। কথা পরিস্কার বলতে পারলেও জাহানারা বেগমকে বলতো হ্যাপী খালা। আর হ্যাপীকে জাহানারা।

জাহানারা বেগম বলেন, ‘আমি রাজীবকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, আমি কে? সে উত্তর দিয়েছিলো, তুমি হ্যাপী খালা, আর তুমি ডাকে চাকুরী করো। কলোনীতে থাক।’ এই কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে উঠেন জাহানারা বেগম।

রাজীবের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, দুঘর্টনার আগের দিন বাসা পরিবর্তন করেন তিনি। পুরাতন বাসা থেকে নতুন বাসায় ভ্যানগাড়ি দিয়ে মালামাল আনছিলেন। তখন রাজিব একটি ওয়ারড্রব একাই মাথা করে নিয়ে আসেন। এনেই হাত-পা ছেড়ে দিয়ে খাটের উপর শুয়ে পড়েন। তখন রাজীবের খালু জাহানারাকে ডেকে বলে দেখো আমাদের রাজীব কত বড় হয়ে গেছে। সে শুয়েছিল মৃত্যু ব্যক্তির মতো। ঘামে দেখতে ফ্যাকাশে হয়েগেছিল। জাহানারা প্রথমে দেখে ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। চিৎকার দিয়ে বলেও উঠেছিলেন ‘কী হয়েছে রাজীব ?’ এছাড়াও তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে হাজরো স্মৃতি।

তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, একদিন পোষ্ট অফিস হাইস্কুল থেকে খবর দেয় রাজীব দুইদিন ধরে স্কুলে যায় না। সেই তাকে ধরে স্কুলে নিয়ে গণিতের শিক্ষককে বলেছিলাম ‘তার মাংস আপনার আর হাড়গুলো আমাকে দিবেন, যাতে আর কোন দিন স্কুল বন্ধ করতে না পারে। সেই শিক্ষক তাকে অনেক মেরেছিলেন। সেই মারার কারণে আর কোনদিন স্কুল বন্ধ করেনি।’

পোষ্ট অফিস হাইস্কুলের হেডমাষ্টার নাসরিন সুলতানা বলেন, রাজীব ছেলেটি খুব চুপচাপ ছিলেন। তবে সে এতো ভালো ছাত্র ছিল না। মাঝারি ধরণের ছাত্র ছিল। তার মুখটাই মায়াবি ছিল। আমি একদিন তাদের ক্লাস নিয়েছিলাম। সেই তার সাথে কথা হয়েছিল। সেই দিন সে শুধু তাকিয়ে ছিল।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: