শনিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ মাঘ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সৌদি নারীদের বিয়ে করতে পারবে বাংলাদেশিরা, মিলবে ভাতা  » «   এমপি কয়েসের হাত ধরে বিএনপির হাবিব এখন আওয়ামী লীগে  » «   জিয়াউর রহমানের ৮৩তম জন্মবার্ষিকী আজ  » «   রোহিঙ্গাদের দেখতে আজ বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের দূত  » «   ‘দম বন্ধ হয়ে আসছে, আমাকে ছেড়ে দিন’  » «   দুই যুগে কতটা সফল ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা?  » «   কলম্বিয়ায় পুলিশ একাডেমিতে গাড়িবোমা বিস্ফোরণ, নিহত ১০  » «   সোহরাওয়ার্দীতে আজ আওয়ামী লীগের বিজয় সমাবেশ  » «   জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা  » «   সীমান্তের খালে মিয়ানমারের সেতু, বন্যার আশঙ্কা বাংলাদেশে  » «   দ্বিতীয় কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাবে বাংলাদেশ: শাবিতে পরিকল্পনামন্ত্রী  » «   আতিয়া মহল মামলা: ৫ দিনের রিমান্ডে ৩ আসামি  » «   শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলা: হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু  » «   টিআইবির রিপোর্টে সরকার ও ইসির আঁতে ঘা লেগেছে: বিএনপি  » «   মাফিয়াদের স্বর্গরাজ্যে দশ বাংলাদেশির অনন্য সাহসিকতার নজির  » «  

সেবা সংস্থাগুলোর অভিমতভিআইপিদের পৃথক লেন বাস্তবায়ন কি সম্ভব?



নিউজ ডেস্ক::রাজধানীতে ভিআইপিদের জন্য ও জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পৃথক লেনের বিরোধী সেবা সংস্থাগুলো। রাস্তাঘাটের বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তারা বলছেন, বাস্তবতা হলো পৃথক লেন করার মতো অবস্থাই নেই এ শহরে।

জানা যায়, কৌশলগত পরিবহণ পরিকল্পনা এবং ঢাকার সঙ্গে ঢাকা সংলগ্ন বিভিন্ন জেলায় সড়ক পরিবহণের বিষয়টি সমন্বয় করে থাকে ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এই ডিটিসিএ সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি মিটিংও করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) সঙ্গে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীই পৃথক লেনের ব্যাপারে আপত্তি দেয়। বর্তমানে রাস্তার অবস্থা বিবেচনায় নিয়েই উল্লিখিত সেবা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এমন মতামত দেয়।

ডিটিসিএ স্বতন্ত্র ভিআইপি লেনের বিরোধিতা করে সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে চিঠিও দিয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিটিসিএ এর একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেছেন, শহরের রাস্তাঘাট, জনসংখ্যা এবং বিভিন্ন প্রকল্পের চলমান কাজের বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা যায় বর্তমানে পৃথক লেন করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের মতামত দিয়েছি। কৌশলগত সড়ক পরিবহণ পরিকল্পনাতে (এসটিপি) বা অন্য কোনো স্টাডিতে পৃথক লেনের কথা ছিল না। রাস্তায় পর্যাপ্ত জায়গা নেই পৃথক লেন করার। আমরা এ প্রস্তাবের সঙ্গে একমত নই।

সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনিও বলেন, আমরাও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একটি চিঠি দিয়েছি, জানিয়েছি, এটা বাস্তবায়নযোগ্য নয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে একটি প্রস্তাবনায় ভিআইপিদের এবং জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য পৃথক লেন তৈরির কথা বলা হয়। পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রস্তাব অবাস্তব ও অবাস্তবায়নযোগ্য। এটি অসাংবিধানিক ও বৈষম্যমূলক।

যদিও সড়ক পবিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ভিআইপি লেন মানে জরুরি সেবা, ভিআইপিদের সেবা নয়। জরুরি সেবার জন্য এ লেন করা যায়, তবে ভিআইপিদের সেবার জন্য নয়। ধীরে ধীরে ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। আলাদা ভিআইপি লেন করার বিষয়টি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। সেটি আমরা পেয়েছি। এর সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্ত্রীও স্বীকার করেন, রাস্তায় ভিআইপি লেনের জন্য স্থান সংকুলান নেই। তারপরও জরুরি সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা লেন করা যায় কিনা তা খতিয়ে দেখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডিটিসিএ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

নগর পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন্ত্রিপরিষদে এমন প্রস্তাব তখনই উঠল যখন মানুষ যানজটে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অতিষ্ঠ। কয়েক বছর ধরে সরকার যানজট নিয়ন্ত্রণে আনতে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এগুলো কাজে দেয়নি মূলত রাস্তার পরিমাণ না বাড়া এবং যানবাহনের সংখ্যা দ্রুতগতিতে বাড়ার কারণে। প্রতি বছর ঢাকার রাস্তায় নামছে এক লাখেরও বেশি যানবাহন, যেগুলোর বেশিরভাগই প্রাইভেট কার। কিন্তু রাস্তার পরিমাণ বাড়ছে না। ফলে বর্ধিত যানবাহন রাস্তায় ব্যাপক চাপ তৈরি করছে।

বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) ২০১০ সালের হিসেবে, ঢাকায় ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭টি নিবন্ধনকৃত যানবাহন চলাচল করে। সাত বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ১০ বছরে ঢাকা শহরের গড় গতি প্রতি ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার থেকে নেমে ৭ কিলোমিটার হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, এ গতি হাঁটার গতির চেয়ে সামান্য বেশি। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এ গতি ২০৩৫ সালের মধ্যে নেমে প্রতি ঘণ্টায় ৪ কিলোমিটার হবে বলে আশঙ্কা বিশ্বব্যাংকের। যানজটে ঢাকায় প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়। এর অর্থমূল্য বছরে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: