রবিবার, ২৪ মার্চ ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
একাত্তরের গণহত্যা আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে তুলবে জাতিসংঘ  » «   এ বছর থেকেই তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত থাকছে না পরীক্ষা  » «   মসজিদে হামলা: ৮ দিনেও জ্ঞান ফেরেনি চার বছর বয়সী আলিনের  » «   মালিতে ১৩৪ মুসলিম আদিবাসীকে গুলি করে হত্যা  » «   ইভিএমএ ভোট দেই এক জায়গায়,আরেক জায়গায়  » «   ভোটকেন্দ্র দখল নিয়ে দু’পক্ষের গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ পুলিশ সদস্য  » «   আড়াই ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ৩টি!  » «   ব্রেক্সিট ঠেকাতে ফের গণভোট ও মে’র পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল ব্রিটেন  » «   যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে চরম হেনস্থার শিকার ৯ বছরের বালিকা  » «   রাতেই ব্যালটে সিল মারায় নির্বাচন স্থগিত  » «   বাসচাপায় সিকৃবি ছাত্র হত্যা, চালক-হেলপার গ্রেফতার  » «   উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তৃতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে  » «   লাগামহীনভাবে বাড়ছে দ্রব্যমূল্য: রমজানপূর্ব মজুদদারিতে কারসাজি  » «   সন্ত্রাস ও হিংসা মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করতে পাকিস্তানকে আহ্বান মোদির  » «   সংসদে লুকিয়ে চকলেট খেয়ে ক্ষমা চাইলেন ট্রুডো!  » «  

সেনা তদন্ত প্রতিবেদন : রাখাইনে খুন-ধর্ষণ করেনি মিয়ানমারের বাহিনী!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের প্রেক্ষাপটে একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সে দেশটির সেনাবাহিনী। ওই প্রতিবেদনে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন দেশটির সেনাসদস্যরা। কোনো রোহিঙ্গাকে হত্যা, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, নারীদের ধর্ষণ বা লুটপাটের বিষয়টিও পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

জাতিসংঘ ইতোমধ্যে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনযজ্ঞের অন্যতম উদাহরণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। আর সেনাবাহিনীর এই প্রতিবেদনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ‘দোষ ঢাকার চেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছে। তারা সত্য যাচাইয়ে জাতিসংঘের কমিটিকে দেশটিতে অবাধে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
গতকাল মঙ্গলবার এক খবরে জানানো হয়, গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের বিভিন্ন পুলিশ তল্লাশিচৌকিতে একযোগে হামলার ঘটনার পর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরু করে। ওই অভিযানে ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে বাংলাদেশে।
রোহিঙ্গাদের প্রতি চরম দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যে কড়া নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে নিয়ে যায় মিয়ানমার সরকার। তখন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি জনাথন হেড চারপাশে ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান। দেশটি থেকে পালিয়ে এখন পর্যন্ত ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ফেসবুকে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কয়েক হাজার গ্রামবাসীর সাক্ষাৎকার নিয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় সেনাসদস্যদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ তারা পায়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং তাদের হুমকিতেই হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী কোনো নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করেনি। কোনো নারীকে ধর্ষণ করা হয়নি, যৌন নিপীড়নের কোনো ঘটনাও সেনাবাহিনী ঘটায়নি। গ্রামবাসীদের গ্রেফতার করে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ মেলেনি। বাড়িঘরে লুটপাট চালিয়ে সোনা-রুপার গহনা, গবাদিপশু বা যানবাহন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। সেনাবাহিনী কোনো মসজিদে আগুন দেয়নি। কাউকে গ্রাম ছাড়তে বলা হয়নি, সেনাসদস্যরা কাউকে হুমকিও দেননি। বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার সঙ্গেও সেনাবাহিনী জড়িত নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরাই বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে এবং তাদের হুমকিতেই হাজার হাজার মানুষ গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে।
গত ২৪ আগস্ট রাতে রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনাক্যাম্পে যে হামলার পর সেনাবাহিনীর এই অভিযান শুরু হয়, তার পেছনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের একটি দলকে দায়ী করে আসছে মিয়ানমার সরকার। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। তাদের চোখে এই মুসলিম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অবৈধ অভিবাসী’।অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ওই প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এটাই প্রমাণ করেছে যে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো যাতে বিচার এড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেই দায়িত্ব নিতে হবে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: