রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চ্যারিটেবল মামলায় দণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল  » «   সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলা; শিশু ও নারীসহ নিহত ৪৩  » «   থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা  » «   দু’দিনের মধ্যেই খাশোগি হত্যার পরিপূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট : ট্রাম্প  » «   বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন তারেক  » «   বাড়িতে বাবার লাশ, পিএসসি পরীক্ষা দিতে গেল মেয়ে  » «   প্রবাসী স্ত্রীকে লাইভে রেখে সিলেটের স্বামীর আত্মহত্যা!  » «   খাশোগি হত্যা: যুক্তরাষ্ট্র-সৌদির নীল নকশা ও তুরস্কের উদ্দেশ্য  » «   দুই নম্বরি কেন ১০ নম্বরি হলেও ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে থাকবে: ড. কামাল  » «   বোরকার বিরুদ্ধে সৌদি নারীদের অভিনব প্রতিবাদ  » «   আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী সমাপনী পরীক্ষা  » «   সিডরে নিখোঁজ শহিদুল বাড়ি ফিরলেন ১১ বছর পর!  » «   ভাওতাবাজির জন্য সরকারকে গোল্ড মেডেল দেওয়া উচিৎ: ড. কামাল  » «   দিল্লির লাল কেল্লা দখলের হুমকি পাকিস্তানের!  » «   সত্য বলায় এসকে সিনহাকে জোর করে বিদেশ পাঠানো হয়েছে: মির্জা ফখরুল  » «  

সেই ‘হতভাগিনী’ আর নেই!



নিউজ ডেস্ক::ছাত্র-ছাত্রীরা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা দাঁড়িয়েছেন ২য় তলায়। যেন সবাই জাতীয় সংগীত গাইবার প্রস্তুতি নিচ্ছে! এ সময় রেজাল্ট হাতে উপস্থিত হলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। আর সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন তিনি। যেন স্বজন হারানোর বেদনা।

দীর্ঘ সময় পর ধীরে ধীরে কান্না জড়িত কন্ঠে শিক্ষিকা জানালেন, স্কুলের একটা মেয়েই শুধু A+ পেয়েছে (শুধু A+ ই না, গোল্ডেন A+) আর সেই হতভাগিনী হলো শারমিন।

সে আর বেঁচে নেই। চলে গেছে না ফেরার দেশে।

স্কুল বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীই জানতে পারেনি এ ঘটনা। গত ১ মে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় শারমিন।

কথাগুলো বলার সময় অঝোরে চোখের পানি ঝরছিল শিক্ষিকার। শিক্ষিকার কথা শেষ হতে না হতেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে-মেয়েগুলোও সজোরে কাঁদতে শুরু করল। কেউ কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। কেউ বা বিলাপ করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

শিক্ষার্থীদের কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, শারমিনের বাবা গুদাম ঘাটের মাঝি। তার বাড়িতে ছিলো না কোন পড়ার টেবিল, ছিলো না তার প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য। দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে আসত শারমিন।

সে মাঝে মাঝে ফেরিঘাটে পানি ব্রিক্রি করত। আর এতো কিছুর পরেও সে JSC তে A+ পেয়েছিলো। যেটা ছিলো কিশোরগঞ্জের এই স্কুলে কারো প্রথম অর্জন।

আর এবারও পুরো স্কুলের মধ্যে সে একাই A+ পেয়েছে। কিন্তু এই খুশির হতভাগা শারমিন আর আমাদের মাঝে নেই।

স্কুল আজ যেন এক মহামূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে। কত কষ্টে সে পড়াশোনা করেছে ভাবা যায়! শারমিনের বাবা তাকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখত! আজ শারমিনের বাবার সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশে একাকার!……

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: