রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করার খবরটি ‘টোটালি ফলস’  » «   শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে: খাদ্যমন্ত্রী  » «   জামায়াত নতুন নামে পুরনো চরিত্রে ফিরে আসে কিনা তা ভাবনার বিষয়  » «   সুস্থ থাকলে শেখ হাসিনার বিকল্প দরকার নেই  » «   নন্দলালের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন না: ইসি রফিকুল  » «   এমপি হিসেবে শপথ নিলেন সৈয়দ আশরাফের বোন ডা. জাকিয়া  » «   রোহিঙ্গাদের নৃশংসতার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান মিয়ানমার সেনাপ্রধানের!  » «   যেসব শর্তে আত্মসমর্পণ করছেন ১০২ ইয়াবা ব্যবসায়ী  » «   নাসা আ্যপস চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়  » «   বাংলা একাডেমিতে আল মাহমুদের মরদেহ, শ্রদ্ধা নিবেদন  » «   আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে জোবায়ের অনুসারীদের ইজতেমা শেষ  » «   যেভাবে ভারতীয় সেনাবহরে হামলা চালায় জঙ্গিরা  » «   রোহিঙ্গা নিপীড়ন তদন্তে মার্চে বাংলাদেশ আসছে আইসিসি প্রতিনিধিদল  » «   ব্যাটিং ব্যর্থতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের  » «   যুক্তরাষ্ট্রে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেন ট্রাম্প  » «  

সেই ‘হতভাগিনী’ আর নেই!



নিউজ ডেস্ক::ছাত্র-ছাত্রীরা সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকারা দাঁড়িয়েছেন ২য় তলায়। যেন সবাই জাতীয় সংগীত গাইবার প্রস্তুতি নিচ্ছে! এ সময় রেজাল্ট হাতে উপস্থিত হলেন স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। আর সঙ্গে সঙ্গেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লেন তিনি। যেন স্বজন হারানোর বেদনা।

দীর্ঘ সময় পর ধীরে ধীরে কান্না জড়িত কন্ঠে শিক্ষিকা জানালেন, স্কুলের একটা মেয়েই শুধু A+ পেয়েছে (শুধু A+ ই না, গোল্ডেন A+) আর সেই হতভাগিনী হলো শারমিন।

সে আর বেঁচে নেই। চলে গেছে না ফেরার দেশে।

স্কুল বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থীই জানতে পারেনি এ ঘটনা। গত ১ মে অটোরিকশায় বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় শারমিন।

কথাগুলো বলার সময় অঝোরে চোখের পানি ঝরছিল শিক্ষিকার। শিক্ষিকার কথা শেষ হতে না হতেই লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলে-মেয়েগুলোও সজোরে কাঁদতে শুরু করল। কেউ কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। কেউ বা বিলাপ করতে করতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

শিক্ষার্থীদের কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা জানান, শারমিনের বাবা গুদাম ঘাটের মাঝি। তার বাড়িতে ছিলো না কোন পড়ার টেবিল, ছিলো না তার প্রাইভেট পড়ার সামর্থ্য। দীর্ঘ পথ হেঁটে স্কুলে আসত শারমিন।

সে মাঝে মাঝে ফেরিঘাটে পানি ব্রিক্রি করত। আর এতো কিছুর পরেও সে JSC তে A+ পেয়েছিলো। যেটা ছিলো কিশোরগঞ্জের এই স্কুলে কারো প্রথম অর্জন।

আর এবারও পুরো স্কুলের মধ্যে সে একাই A+ পেয়েছে। কিন্তু এই খুশির হতভাগা শারমিন আর আমাদের মাঝে নেই।

স্কুল আজ যেন এক মহামূল্যবান সম্পদ হারিয়ে ফেলেছে। কত কষ্টে সে পড়াশোনা করেছে ভাবা যায়! শারমিনের বাবা তাকে নিয়ে কতো স্বপ্ন দেখত! আজ শারমিনের বাবার সব স্বপ্ন ধুলোয় মিশে একাকার!……

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: