রবিবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিরিয়ায় মসজিদ ধ্বংস করল মার্কিন জোট  » «   বাবার স্বপ্ন পূরণে বড় চাকরি ছেড়ে আপনাদের সেবায় এসেছি: রেজা কিবরিয়া  » «     » «   নির্বাচনে ‘সংঘাত’ একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না: সিইসি  » «   জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের ২৫ সদস্যের সমন্বয়ক কমিটি  » «   আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় ১২ শিশুসহ নিহত ২০  » «   মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  » «   চমক থাকছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে  » «   দুই-তিন দিনের মধ্যে ইসিতে যাবে বিএনপি  » «   কাদের সিদ্দিকী রাজাকার, বদমাইশ : মির্জা আজম  » «   নির্বাচনের ৭ দিন আগে ব্যালট পৌঁছে যাবে: ইসি সচিব  » «   রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে চান ড. কামাল  » «   যুক্তরাষ্ট্র-অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড কানাডায় বোমা হামলার হুমকি  » «   ক্ষমা চাইলেন ড. কামাল  » «   মন্দিরের প্রসাদ খেয়ে ১১ জনের মৃত্যু, অসুস্থ ৮১  » «  

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের দর্জিপাড়া সরগম



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জের হাওর পাড়ের দর্জিপাড়ার সরগম হয়ে উঠেছে দিন দিন। হাওর পাড়ের দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলোর দর্জি পাড়ায় ও বাজার গুলোতে মেশিনের শব্দ যেন জানান দিচ্ছে ঈদ এসে গেছে। ঈদের আগ মুহুর্ত পর্যন্ত চলবে এই চির চেনা ব্যস্ততা। দর্জি পাড়ায় নোটিশ র্বোড টানানো হয়ে গেছে অর্ডার নেওয়া হবে না। রমজানের শুরু থেকেই ব্যস্থ না হলেও এখন তারা পুরোদমে ব্যস্থ হয়ে পড়েছে হাওর বেষ্টিত সুনামগঞ্জ সদরসহ তাহিরপুর,জামালগঞ্জ,ধর্মপাশা,বিশ্বাম্ভরপুর,দিরাই,শাল্লাসহ ১১টি উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকার দর্জিগন। এ যেন ঈদ উৎসবের পালে ঝড়ো হাওয়া।

জেলার বিভিন্ন বাজারে দেখা যায়,দর্জিপাড়ার সবাই যে যার দায়িত্ব নিয়ে বোতাম লাগানো,বোতামের ঘর সেলাই করা,নির্দিষ্ট লোক জনের কাপড় কাটায় ব্যস্ত দর্জি মাষ্টার,কারও গলায় ফিতা,হাতে কাঁচি,কেউ সেলাই করছে,পাশেই জমা হচেছ তৈরি পোশাকের স্তুপ,দম ফেলার ফুসরত নেই। কোন অপ্রয়োজনীয় কথা নেই করো মুখে শুধু কাজ আর কাজ। শুক্ষ ভাবে কাষ্ট মাড়ের মাপ অনুযায়ী সেলোয়ার,কামিজ,র্শাট,পেন্ট ভাল ভাবে সময় মত কাপড় সেলাই করে বিতরন করার জন্য বিরামহীন ভাবে কাজ করছে প্রধান কাটিং মাষ্টার ও কর্মচারীরা। রমজানের আগেই শুরু হওয়া এই ব্যস্ততা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ যেন পাল তোলা নৌকায় জড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়া চিত্র। দোকানীরাও ক্রেতাদের নানা রখমের মুখরোচক কথা বলে বিক্রি করছে এ মুহুর্তে বিভিন্ন রং ও ডিজাইনের থান কাপড়,শাড়ি,লুঙ্গি। লং কামিজের সঙ্গে ডোলা সালোয়ার শহরের রমনীদের পছন্দ না থাকলেও হাওর পাড়ের মেয়েদের খুবেই পছন্দ। আর কামিজ বানিয়ে নিজেই সুতা,পুঁতির কাজ করবেন বলে আগেই দর্জি বাড়ি এসেছেন অনেকেই। আধুনিক সভ্যতার প্রভাব ও কম পরে নি হাওরাবাসীর মাঝে তাই অনেকেই ছুটছেন গ্রামের হাট বাজার থেকে শহরের নামী দামী দোকানে নতুন ডিজাইনের আকর্শনীয় পোশাকের খুঁজে। ঈদ কে ঘিরে তাহিরপুর উপজেলার টেইলারিং হাউজ গুলো এখন দিন রাত পুরো সময়ই খোলা পোশাক বানানোর কাজ চলছে মধ্য রাত পর্যন্ত।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার দর্জিপাড়ার দোকান গুলোতে আসা মাসুক মিয়া,সেলিম হায়দারসহ অনেকের কাছে খোঁজ নিয়ে জানাযায়-এমনিতেই কাপড়ের দাম বেশি ঈদ মানেই আনন্দ,নতুন কাপড়,উল্লাস তাই সব কিছুই যেন হার মানায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের হাওর বাসীর কাছে। নিজের পছন্দের কাপড় কিনে পোশাক বানানোর আনন্দই আলাদা জানান তারা।

জেলার বিভিন্ন এলাকার দর্জি পাড়ার মালিকগন জানান-একমাত্র বোরো ফসলের এবার কোন ক্ষতি না হওয়ার কারনে তাহিরপুর বাসীর মাঝে ব্যাপক আনন্দ। আনরেডি কাপড় কেনা ও শেলাই করা সারা বছর যে পরিমান কাজ হয় তার চেয়ে ২ঈদে কাজের পরিমান বেশি। দর্জির কাজ করে জীবনে রোজা-ঈদের আনন্দ করার সময় সুযোগ থাকে না কারন কাষ্ট মারের কাপড় ডেলিভারী দেওয়ার চিন্তায় অস্থির থাকতে হয় সারাক্ষন। তবে ব্যস্ততা থাকলেও এটাকেই ঈদের আনন্দ মনে হয়।
তাহিরপুর বাজার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম,সাদেক আলী জানান-গত দু বছর ত ঈদের আনন্দ কি হাহাকার ছিল সর্বত্র অকাল বন্যায় বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায়। এবার উপজেলায় বোরো ধানের ফলন ভাল হওয়ায় হাওরবাসীর মাঝে অনেক আনন্দ। যারা ঈদে গজের কাপড় কিনে দর্জি বাড়ির জামেলায় যেতে চান না তারা ছুটছেন থ্রি পিছ রেডিমেট কাপড়ের দোকানে। তারপরও দর্জি কারীগররাও এখন বেশ ব্যস্থ সময় পাড় করছে।
তাহিরপুর বাজারের টেইলার্স সুফিয়ান মিয়া জানান-বুটিক হাউস বা যে কোন মার্কেট থেকে পোশাক কিনলে অন্যের পোশাকের সাথে মিলে যাবে। তাই অর্ডার দিয়ে নিজের চাহিদা মত পোশাক তৈরি করে অনেকে র্সাচছন্দ বোধ করেন। রেডিমেট পোশাকের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি মানুষের ঝোঁক তাকলেও আনরেডি কাপড় কিনে তৈরিতে ব্যস্থতার কমতি নেই আমরা দর্জি কারিগরদের।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল জানান-হাওর বেষ্টিত তাহিরপুর উপজেলার হাওরাঞ্চলের দর্জি পারায় কর্মরত দর্জিগন এখন ব্যস্থ সময় পার করছে। আগে ত সবাই দর্জির উপর নির্ভরশীল ছিলাম। এখন বিভিন্ন ব্যান্ডের রেডিমেট তৈরি কাপড়ের প্রতি মানুষের আকর্শন বেড়েছে তবুও দর্জি কারিগরা তাদের শুক্ষ কাজের মাঝে নিজেদের ঐতিয্য ধরে রেখেছে।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: