বুধবার, ১৫ অগাস্ট ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
১৫ আগস্ট কেন ভারতের স্বাধীনতা দিবস?  » «   খালেদার জন্মদিনে ফখরুল‘প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করতে হবে’  » «   রাজধানীতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে ২ শ্রমিকের মৃত্যু  » «   ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট  » «   ঢাকায় ইলিশের কেজি মাত্র ৪০০ টাকা!  » «   অস্ট্রেলিয়ান সিনেটে প্রথম মুসলিম নারী  » «   প্রধানমন্ত্রী নয়, ইসির নির্দেশনায় চলবে প্রশাসন : নাসিম  » «   সৌদি আরবে আরও ৫ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু  » «   মৃত পুরুষকে বিয়ে করলেন নারী, এরপর…  » «   যা করবেন সন্তানকে বুদ্ধিমান ও চটপটে বানাতে  » «   নিউইয়র্কে লাঞ্ছিত ইমরান এইচ সরকার  » «   কুরবানির গোশত অন্য ধর্মাবলম্বীকে দেওয়া যাবে?  » «   শাহরুখের গাড়ি-বাড়ি ও ঘড়ির দাম এত?  » «   ভ্যান চালিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে জমি, এরপর…  » «   মোবাইল ফোনে নতুন কলচার্জ নিয়ে যা বলছেন গ্রাহকরা  » «  

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ৫৬৮৫ কোটি টাকা



অনলাইন ডেস্ক:: সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা রাখার পরিমাণ আরও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে এক হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ জমা হয়েছে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। অথচ সারা দুনিয়া থেকে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ কমেছে।

২০১৬ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল ৬৬ কোটি ১০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় করলে এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকায় (বাংলাদেশি মুদ্রায় এক সুইস ফ্রাঁর বিনিময়মূল্য ৮৬ টাকা)। ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আগের বছরের চেয়ে এ জমার পরিমাণ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা বা ২০ শতাংশ বেড়েছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এসএনবির বার্ষিক এ প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশের অর্থ জমার এ তথ্য পাওয়া গেছে। এসএনবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সুইজারল্যান্ডে মোট ব্যাংকের সংখ্যা ছিল ২৬১। এ ২৬১টি ব্যাংকেই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব থেকে অর্থ জমা রাখা হয়।

এসএনবির প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের অর্থ জমার পরিমাণ ২০ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪ হাজার ৭৩০ কোটি টাকা।

এসএনবির প্রকাশিত প্রতিবেদনে   ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থ জমার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, ২০১২ সাল থেকে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ থেকে অর্থ জমার পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০১২ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ হাজার ৯৬১ কোটি টাকা। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল—এই সময়ের মধ্যে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের জমা রাখা অর্থের পরিমাণও তিন গুণ বেড়ে গেছে। তবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমার পরিমাণ ২০১৬ সালে এসে আগের বছরের চেয়ে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে। ২০১৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে ভারতের জমার পরিমাণ ছিল প্রায় ১২১ কোটি সুইস ফ্রাঁ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১০ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে এসে ভারতের জমার পরিমাণ কমে দাঁড়িয়েছে ৬৬ কোটি ৪০ লাখ সুইস ফ্রাঁ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা।

আবার ২০০৯ সালে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমার পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা, আর এখন তা ৩৪৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৫ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা।

সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থ জমার পরিমাণ বেড়ে যাওয়াকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি  বলেন, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থ জমার পরিমাণ বৃদ্ধি বিশ্বের অন্য দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, যেকোনো অনিয়ম বন্ধ করা না গেলে তা আরও বাড়বে, এটাই স্বাভাবিক। বিনিয়োগ পরিবেশের ঘাটতি ও আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দেশ থেকে বিদেশে অর্থ নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে বলে মনে করছেন তিনি।

তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান বলেন, ‘সুইস ব্যাংকগুলোতে অর্থ জমার যে পরিমাণ বলা হচ্ছে, তা পুরোটাই বাংলাদেশ থেকে গেছে বিষয়টি তেমন নয়। দেশের বাইরে বৈধভাবে যারা ব্যবসা-বাণিজ্য করছে, বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসীর পাশাপাশি সুইজারল্যান্ডে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও সেখানে অর্থ জমা করছে। তাই বাংলাদেশ থেকে কত অর্থ গেছে, সেই তথ্য পাওয়া গেলে অর্থ পাচার সম্পর্কে প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে। অর্থ পাচার রোধে আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি।’

টিআইবির ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ব্যবসায়ীরা সাধারণত আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে। অথচ আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় সরকার চাইলে অর্থ পাচার ও পাচারকারীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। কিন্তু সেই কাজটি করছে না সরকার।

এদিকে, কালোটাকা ও অর্থ পাচার রোধে ভারত সুইস ব্যাংকগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়ের উদ্যোগ নেয় ২০১৬ সালে। এর আওতায় ২০১৯ সাল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সুইস ব্যাংকগুলো থেকে ভারতীয় গ্রাহকদের তথ্য পেতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। ভারতের এ ধরনের উদ্যোগের ফলে দেশটি থেকে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমার পরিমাণ কমে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: