মঙ্গলবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আস্তানায় বেশ কয়েকজন জঙ্গি ও গোলাবারুদ রয়েছে: সিটিটিসি প্রধান  » «   জেএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসে সতর্ক সরকার: শিক্ষামন্ত্রী  » «   #মিটু বিতর্ক: মামলা করলেন প্রতিমন্ত্রী আকবর  » «   সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাংলাদেশ- প্রধানমন্ত্রী  » «   জিজ্ঞাসাবাদের সময় মৃত্যু হয় খাশোগির, সৌদি স্বীকারোক্তির প্রস্তুতি  » «   শ্রমিক নয়, গণমাধ্যম কর্মী হচ্ছেন সাংবাদিকরা  » «   জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে দু’টি বাড়ি ঘেরাও সিটিটিসির ইউনিটের  » «   ক্লিনটনের যৌন কেচ্ছা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য হিলারির  » «   সংসদ নির্বাচনের জন্য ৭০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন  » «   বাল্যবিবাহের বিশেষ বিধান ‘ধর্ষণে’ প্রযোজ্য নয়  » «   বিশ্বনাথে প্রবাসীর স্ত্রীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায়…  » «   যেসব কারণে ইসির সভা থেকে বেরিয়ে যান কমিশনার মাহবুব  » «   সৌদি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই গুম-হত্যা!  » «   শাস্তির বিধান রেখে সম্প্রচার আইনের খসড়া অনুমোদন  » «   সম্পাদক পরিষদের তথ্যে ঘাটতি আছে: তথ্যমন্ত্রী  » «  

সিলেট: নৌকা ২৬,৭০৬, ধানের শীষ ২৫,২৯৬



নিউজ ডেস্ক::সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে এখন চলছে গণনা। আজ সোমবার ( ৩০ জুলাই) সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত নতুন মেয়র নির্বাচনে ভোট দেন সিলেটবাসী। এই সিটিতে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৪টি। এখানকার ভোটে বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। কয়েকটি স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। যার ফলে নির্বাচন কমিশন কয়েকটি কেন্দ্র স্থগিত করেছে।

এর মধ্যে ৪০টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২৫,২৯৬ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান নৌকা প্রতীক নিয়ে ২৬,৭০৬ ভোট পেয়েছেন। ।

সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নগরের রায়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সপরিবার গিয়ে ভোট দেয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে ‘শঙ্কা’ প্রকাশ করেন। বলেন, ‘জনগণ ভোট দিলে জনরায় মেনে নেব। তবে জনগণের ভোট যদি অন্য কেউ দেয় সেই রায় মেনে নিব না।’

সকাল পৌনে নয়টার দিকে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে কেন্দ্রে ভোট দেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী কামরান। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি জিতবেন বলে সুনিশ্চিত।’ বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ আশাবাদী, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত এবং সিলেটের মানুষ আমাদের সমর্থন করছে। আমরা শতভাগ আশাবাদী নৌকার বিজয়ে।’

কিন্তু যদি হেরে যান?- এমন প্রশ্নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য রাজনীতি করে। নির্বাচনী ফলাফল জনগণ যেটা দেবেন সেটা অবশ্যই আমি মাথা পেতে নেব।’

সোমবার সকাল আটটায় সিলেট মহানগরীতে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল চারটা পর্যন্ত। ভোট শুরুর অনেক আগে থেকেই এই নগরীর অনেক কেন্দ্রের সামনে ভিড় জমতে থাকে ভোটারদের। নারী-পুরুষরা আলাদা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন ভোটকেন্দ্র খোলার। তাদের মধ্যে উৎসবের আমেজও দেখা গেছে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে এই সিটির নির্বাচনে চোখ ১৬ কোটি মানুষের। শুধু দেশের মানুষের চোখই নয়; দেশি-বিদেশি তথা আন্তর্জাতিক মহলেরও হাজারো চোখ এই নির্বাচনের দিকে। নির্বাচনে কোন দল বিজয়ী হবে সেটা দেখার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন জাতিকে কেমন নির্বাচন উপহার দেয় সেটাই দেখার জন্য মুখিয়ে রয়েছে মানুষ।

নির্বাচনকে ঘিরে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে সিলেট সিটি এলাকায়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতীয় নির্বাচনের আগে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনকে তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এ ব্যাপারে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। কিছু কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে আমরা সেগুলো বন্ধ করে দিয়েছি।

ইসি সচিব জানান, গাজীপুরের মতো এই সিটিতেও ভোটগ্রহণ পরিস্থিতির তথ্য তাৎক্ষণিক জানার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে দুই ঘণ্টা পরপর প্রয়োজনীয় সার্বিক তথ্য কমিশন সচিবালয়কে জানিয়েছে। আমরাও তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিন সিটির নির্বাচনী এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি সাধারণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ, আনসারসহ ২২ জন এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে পুলিশ, এপিবিএন, ও ব্যাটালিয়ান আনসারদের সমন্বয়ে মোবাইল টিম, প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স, প্রতি সাধারণ ওয়ার্ডে র্যাবের একটি টিম, প্রতি দুইটি সাধারণ ওয়ার্ডে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন ছিল।

মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স ভোটগ্রহণের দিন এবং তার আগের দুইদিন ও পরের একদিনসহ মোট চারদিন মোতায়েন থাকবে। ভোটগ্রহণের পরের দুইদিন পর্যন্ত প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আচরণবিধি প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এছাড়া নির্বাচনী অপরাধ বিচারার্থে আমলে নেয়ার জন্য প্রতি তিনটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত আছেন।

এ ছাড়া নির্বাচনের নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণের দুদিন আগে থেকে তিন সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুটি ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে ১৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়। এরা নির্বাচনের পরের দিন পর্যন্ত এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে। এছাড়া আরও চার প্লাটুন করে বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে।

সিলেট সিটির ২৭ ওয়ার্ডে ১৩৪ ভোটকেন্দ্রে কক্ষের সংখ্যা ৯২৬টি। এসব ভোটকেন্দ্রে ১৩৪ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৯২৬ কক্ষে সম-সংখ্যক সহকারি প্রিসাইডিং অফিসার এবং কক্ষে দুইজন করে ১৮৫৪ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করেন।

এ সিটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ জন; যার মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৭১ হাজার ৪৪৪ জন ও নারী ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৮ জন। তবে, এ সিটিতে পুরুষ ভোটার বেশি। এ সিটিতে মেয়র প্রার্থী ৭ জন।

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: