শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
পাবলিক পরীক্ষার সব ফি দেবে সরকার  » «   বাচ্চারা সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ইভিএম, দাবি লালুপুত্রের  » «   আগামীকাল প্রাথমিকের প্রথম ধাপের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা  » «   পরাজিত হওয়া মানেই হার নয়: মমতা  » «   কুলাউড়ায় ওজন বাড়াতে চিংড়িতে বিষাক্ত জেলি!  » «   শতবর্ষী বৃদ্ধাকে ধর্ষণ: ‘আমাকে ছেড়ে দাও, আমি রোজা রাখছি’  » «   কিছুটা সময় লাগলেও ইসরাইল-আমেরিকার পতন অনিবার্য: ধর্মীয় নেতা  » «   মেয়াদোত্তীর্ণ সেমাই ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি: সিলেটে ওয়েল ফুডকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা  » «   একক দল হিসেবেই ম্যাজিক ফিগারে মোদির বিজেপি!  » «   পারিবারিক কলহে সৎ মাকে কুপিয়ে জখম করেছে ছেলে  » «   রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে ১০ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়োগ দেয়া হবে: অর্থমন্ত্রী  » «   পবিত্র কোরআন কেটে ভেতরে ইয়াবা পাচার, ৩ রোহিঙ্গা আটক  » «   গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চার জন নিহত  » «   খালেদার কারামুক্তি, এবারও ‘হ্যান্ডল’ করতে পারেনি বিএনপি!  » «   বালিশ মাসুদের খোলা চিঠি  » «  

সিলেট চেম্বার নির্বাচন : সভাপতির মেয়াদ বাড়ল ৬ মাস



সিলেট চেম্বার নির্বাচন : সভাপতির মেয়াদ বাড়ল ৬ মাস

আগামী ১৫ ডিসেম্বর নির্বাচনে না গিয়ে রহস্যজনক কারণে বোর্ড সভায় আলোচনা না করেই গোপনে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন আরো ছয় মাস পেছানো হয়েছেন। গত ২০ অক্টোবর চেম্বারের সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদ নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা সম্ভব নয় বলে বর্তমান পরিষদের মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেন।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সুপারিশ সম্বলিত আবেদনটি আমলে নিয়ে মন্ত্রণালয় শর্ত সাপেক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ বৃদ্ধি করে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষে আগামী ৭ জানুয়ারি থেকে পরবর্তী ১৮০ দিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব এসএম মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত একপত্রে চেম্বারকে জানানো হয়, এ সময়ে মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তীকালে মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আর কোনো আবেদন করা যাবে না। নির্বাচন পিছিয়ে দেয়ার বিষয়টি অবগত নন একাধিক পরিচালক। তারা এজন্য এককভাবে সভাপতিকে দায়ী করেন।

চেম্বারের একাধিক পরিচালক জানান, জনপ্রিয়তার ভাটা পড়ায় নির্বাচনের সাহস পাচ্ছিলেন না কমিটির সভাপতি। বর্তমান  কমিটির মেয়াদে নতুন সদস্য করা হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি। এ নিয়ে চেম্বারের পরিচালক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন আরো ছয় মাস পেছানো হয়েছে। অথচ চেম্বারের এই নির্বাচন আগামী ১৫ ডিসেম্বর নির্ধারণ করে নির্বাচনী তফসিলও ঠিক করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পরিচালক জানান, নির্বাচনে পরাজয়ের ভয়ে এ আবেদন করা হয়েছে। অগঠনতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ বৃদ্ধি রহস্যজনক বলে তারা মনে করেন।

যদিও সিলেট চেম্বারের নির্বাচন সম্পন্নের লক্ষ্যে গত ১১ আগস্টে বোর্ড সভায় একাধিক পরিচালকের অপত্তির মুখে চেম্বার সভাপতি মাইনুর রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করেন। কমিশনের অন্য দুই সদস্য হলেন মো. গোলাম রাব্বানী ফারুকী ও লুৎফুর রহমান।

এছাড়া বোর্ডের ওই সভায় শফিক আহমদ বখতকে চেয়ারম্যান করে তিন সদস্যের আপিল বোর্ড গঠন করা হয়। বোর্ডের অন্য দুই সদস্যরা হলেন, মুজিবুর রহমান ও মোস্তফা কামাল। নির্বাচনকে ঘিরে নানামুখী তৎপরতা শুরু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সভাপতির নেতৃত্বে চেম্বারের ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখতে নির্বাচন প্রভাবিত করার প্রক্রিয়া শুরুর অভিযোগ উঠে। সে লক্ষ্যেই চলতি বছরের ৪৫ দিনের মধ্যে ৮৯৯ জনকে চেম্বারের সদস্য করা হয়। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চেম্বারে সদস্য করা হয় ১১৫৫ জনকে।

চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সদস্য করা হয়েছে ৮৯৯ জনকে। ৪৫ দিনের মধ্যে এতো অস্বাভাবিক সদস্য করার বিষয়টি নির্বাচনের ‘নীলনকশা’ বলেও কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন পরিচালক বলেন, নির্বাচনে ফায়দা লুটতেই চেম্বার সভাপতির নেতৃত্বে এমনটি করা হয়। তারপরও চেম্বার সভাপতি নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে বোধ হয় সন্দিহান। তা না হলে এতো সদস্য বাড়িয়েও নির্বাচন পেছানোর ‘নীলনকশা’ করতেন না।

সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক মুকির হোসেন চৌধুরী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, মূলত নতুন সদস্য ভোটার প্রায় ৯০০ জন বেড়েছেন। নির্বাচন কমিশন যখন নির্বাচনের স্বার্থে সচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়ণের কাজে হাত দেন, তখন আয়কর ও ইউনিয়ন থেকে এসব সদস্যের ব্যবসা সংক্রান্ত রিপোর্ট আসতে সময় সাপেক্ষ মনে হয়। নির্বাচন কমিশনের সুবিদার জন্যই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে ছয় মাস সময় বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সালাউদ্দিন আলী আহমদের মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

সংবাদটি সম্পর্কে আপনার বস্তুনিষ্ট মতামত প্রকাশ করুন

টি মন্তব্য

সংবাদটি শেয়ার করুন

Developed by: